মুন সিনেমা হল মামলা

মালিককে ৯৯ কোটি টাকা পরিশোধে আবারো সময় পেল সরকার

আপডেট : ১১ ডিসেম্বর ২০১৮, ০০:৩২

সম্পত্তি ফিরে না পেলেও পুরান ঢাকার মুন সিনেমা হলের মূল মালিক ক্ষতিপূরণ হিসাবে পাচ্ছেন ৯৯ কোটি ২১ লাখ টাকা। আগামী দুই মাসের মধ্যে এই অর্থ সরকারকে পরিশোধ করতে নির্দেশ দিয়েছিলো সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। কিন্তু এ সময়ের মধ্যে তা দেওয়া সম্ভব হয়নি। এরপর গতকাল সোমবার পুনরায় সময় চাইলে আগামী ৩০ জুনের মধ্যে এই অর্থ পরিশোধ করতে বলা হয়েছে। প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের সাত বিচারপতির বেঞ্চ এই আদেশ দেন। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম এবং মুন সিনেমা হলের মালিকের পক্ষে ব্যারিস্টার আজমালুল হোসেন কিউসি উপস্থিত ছিলেন।

আপিল বিভাগের নির্দেশে গঠিত বিশেষজ্ঞ কমিটি পুরান ঢাকার ওয়াইজঘাটের যে স্থানে মুন সিনেমা হল অবস্থিত ছিলো সেখানকার জমির মূল্য, স্থাপনাসহ আনুষঙ্গিক বিভিন্ন বিষয় বিবেচনা করে সম্পত্তির ক্ষতিপূরণ হিসাবে ৯৯ কোটি ২১ লাখ টাকা নির্ধারণ করে দেয়।

মুন সিনেমা হলের মালিকানা সংক্রান্ত রিট মামলায় ২০০৫ সালে সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনী অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্ট। রায়ে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের পর খন্দকার মোশতাক, বিচারপতি আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম, মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানের ক্ষমতা গ্রহণ সংবিধান-বহির্ভূত এবং বেআইনি ঘোষণা করা হয়। পরবর্তীকালে ওই রায় বহাল রাখে আপিল বিভাগ। এরপর আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার ২০১১ সালে সংবিধানে পঞ্চদশ সংশোধনী আনয়ন করে। রিট মামলার রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে সংবিধান সংশোধন হলেও মাকসুদুল আলম সম্পত্তি ফিরে পাননি। কারণ হাইকোর্ট ও আপিল বিভাগের রায় ঘোষণার আগে ২০০১ সালের ২৪ জুন মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের সঙ্গে ডেভেলপার কোম্পানি বাবুলী কনস্ট্রাকশনের চুক্তি স্বাক্ষর হয়। ওই চুক্তি অনুযায়ী মুন সিনেমা হলের শূন্য দশমিক ৬২ একর জমিসহ বাবুলী কনস্ট্রাকশনের জমি মিলিয়ে সেখানে নির্মাণ করা হয় বহুতল মুন শপিং কমপ্লেক্স। এই কমপ্লেক্সের বিভিন্ন দোকানও বিক্রি করা হয়। ফলে সম্পত্তি হস্তান্তর নিয়ে বড় ধরনের জটিলতা দেখা দেয়। পরে রিটকারী আপিল বিভাগে আদালত অবমাননার মামলা দায়ের করেন। ২০১৭ সালে ওই আবেদনের ওপর শুনানি শেষে রাষ্ট্রপক্ষের বক্তব্য গ্রহণ করে আপিল বিভাগ সম্পত্তির মূল্য নির্ধারণে কমিটি গঠন করে দেয়। পরে ওই কমিটির রিপোর্টে ক্ষতিপূরণ হিসাবে ৯৯ কোটি ২১ লাখ ৭৩ হাজার ৭৪ টাকা ২৭ পয়সা নির্ধারণ করে দেয়।