শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়

রঙে রঙিন তেপান্তর

আপডেট : ০১ অক্টোবর ২০১৯, ১৯:৩২

  মো. আবু হানিফ

 

‘ভালো থাকিস বন্ধু, আজও ভালো হইলি না!! মনে রাখিস বন্ধু আমায়, দেখা হলে বলিস আমিও তেপান্তর-০৩’। এরকম নানা লেখায় ধবধবে সাদা টি-শার্টগুলো রঙিন হচ্ছিল। মনের অনেক না বলা কথাগুলোই যেন লিখতে ছিল সবাই। রৌদ্রোজ্জ্বল আবহাওয়া, জলীয়বাষ্পহীন বাতাস বেশ হালকা থাকার কথা; কিন্তু সেদিনের বাতাস যে কতটা ভারী ছিল তা শুধু টি-শার্টে লিখতে থাকা শিক্ষার্থীরাই উপলব্ধি করেছে। বলছিলাম রাজধানীর শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যানিমেল সায়েন্স অ্যান্ড ভেটেরিনারি মেডিসিন অনুষদের তৃতীয় ব্যাচ তেপান্তরের র্যাগ ডের কথা। র্যাগ ডে মানেই পড়ালেখা শেষের আনন্দময় একটি দিন।

ক্যাম্পাস বর্ণিল সাজে সজ্জিত, উত্সবমুখর পরিবেশ। বেশকিছুদিন ধরেই চলছিল দৌড়ঝাঁপ। চেষ্টা ছিল নতুন অনুষদের পূর্ববর্তী দুইটি ব্যাচের চেয়ে আকর্ষণীয় প্রোগ্রাম করার। স্পনসর খোঁজা, সবাইকে দাওয়াত দেওয়া, হলে হলে পোস্টার লাগানো, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারণা— সব মিলিয়ে ভীষণ ব্যস্ততায় সময় যাচ্ছিল তেপান্তর ব্যাচের শিক্ষার্থীদের। অনুষদের অন্যান্য ব্যাচের শিক্ষার্থীরাও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের জন্য নিজেদের প্রস্তুতি নিয়ে বেশ ব্যস্ত ছিল। ক্লাসরুম, হল, জহির ক্যান্টিন, গ্যাঞ্জাম মামা কিংবা মিনি বাজারে নিয়মিত আড্ডা আর মধ্য রাতে হলের ছাদে গান গাওয়া— এসব রুটিনকে যেন বিদায় বলার সময় এসেছে। গ্র্যাজুয়েট হওয়া আর প্রাণের বিদ্যাপীঠে পথচলার ইতি টানা যেন আনন্দ বেদনার মেলবন্ধন। স্বপ্নের বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বপ্নের মতো পথচলা প্রত্যেক শিক্ষার্থীর জীবনের শ্রেষ্ঠ সময়; কিন্তু জীবনের তাগিদে এ মায়া ছেড়ে সামনে যেতে হচ্ছে। গানবাজনা, আনন্দ-উত্সবের মধ্যেও যেন বিদায়ি করুণসুর কানে বাজে। র্যাগ ডের দিন সকালে অনুষদের সব শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে কেক কাটা হয়। এরপরে এক বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা পুরো ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে। শোভাযাত্রার সঙ্গে ছিল পুরান ঢাকার ঐতিহ্য ঘোড়ার গাড়ি আর সাউন্ডবক্সে বেজেছিল গান। এরপর শুরু হয় রঙের খেলা। একজন আরেকজনকে রঙ মাখিয়ে রাঙিয়ে দিতে থাকেন। রঙ উত্সবে যোগ দিলেন শিক্ষক-শিক্ষার্থী সবাই। স্মৃতিগুলোকে ধরে রাখার জন্য চলছিল ফ্রেমবন্দি হওয়া। রাতে গ্র্যান্ড ডিনারের মধ্য দিয়ে কেটে যায় আনন্দ-উত্সবের প্রথম দিন। পরের দিন সন্ধ্যায় অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হওয়া মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে পর্দা নামে ব্যাচ তেপান্তর-০৩-এর র্যাগ ডে। স্নাতক শেষ, হয়তো একেকজন একেকদিকে চলে যাবে, তবে দীর্ঘ পাঁচ বছরেরও অধিক সময়ে বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের অসংখ্য স্মৃতির মধ্যে নিজেদের খুঁজে পাবে সমসময়।