সরকারিভাবে দক্ষিণ কোরিয়ায় জনশক্তি রফতানিতে সফল বোয়েসেল

আপডেট : ০১ অক্টোবর ২০১৯, ১৯:৩৩

মোজাহেদুল ইসলাম ঢেউ

 

এমপ্লয়মেন্ট পারমিট সিস্টেমের (ইপিএস) আওতায় শিল্পোত্পাদন ও সেবা খাতে বাংলাদেশ থেকে প্রতিবছর সরকারি খরচে কয়েক হাজার দক্ষ কর্মী দক্ষিণ কোরিয়া যায়। বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড (বোয়েসেল) এবং দক্ষিণ কোরিয়ার হিউম্যান রিসোর্স ডেভেলপমেন্টের (এইচআরডি) সহযোগিতায় এ নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।

বাংলাদেশ থেকে বৈধ উপায়ে দক্ষিণ কোরিয়ায় দক্ষ কর্মী পাঠানোর একমাত্র সরকারি প্রতিষ্ঠান বোয়েসেলের সহকারী মহাব্যবস্থাপক মো. নূরুল ইসলাম জানান, ২০০৭ সালে দক্ষিণ কোরিয়ায় কর্মী পাঠানোর বিষয়ে কোরিয়া সরকারের এইচআরডি এবং বাংলাদেশের বোয়েসেলের সঙ্গে এমওইউ স্বাক্ষরিত হয়। এর ধারাবাহিকতায় ২০০৮ সাল থেকে বোয়েসেল দক্ষিণ কোরিয়ার নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করে, যা এখনো চলছে। ২০০৮ থেকে ৩০ এখন পর্যন্ত ২২ হাজারেরও বেশি কর্মী পাঠানো হয়েছে। সর্বশেষ ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ২২১৫ জন এবং ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ২০১২ জন কর্মী দক্ষিণ কোরিয়ায় গিয়েছে। ২০১৯ সালেও ৩১০০ কর্মীর চাহিদার কথা জানিয়েছেন সে দেশের এইচআরডি কর্তৃপক্ষ। ২০২০ সালে তাদের চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৯-এর চেয়ে কর্মীর চাহিদার সংখ্যা বাড়তে পারে বলে জানা গেছে।

১ অক্টোবর আবারো ৪০জনকে নিয়ে একটি ফ্লাইট কোরিয়া পৌছার জন্য রওয়ানা দিয়েছে। তাদের যাওয়া উপলক্ষ্যে বোয়েসেল একটি সচেতনতামূলক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। সেখানে তাদেরকে ভ্রমণ তথ্যাদি ও সতর্কতামূলক বিষয়াদি সম্পর্কে ধারণা দেওয়া হয়।

যেসব খাতে কাজের সুযোগ 

ম্যানুফ্যাকচারিং বা উত্পাদন খাতে বোয়েসেলের মাধ্যমে পাল্পশিল্প, কাগজশিল্প, কাঠশিল্প, প্লাস্টিক শিল্প, মেশিনারিজ, মোল্ডশিল্প, কেমিক্যালশিল্প, ইলেকট্রিক ও ইলেকট্রনিকস শিল্প, পনির ও খাদ্যপণ্য শিল্প, টেক্সটাইল ও গার্মেন্টশিল্প এবং মেটালশিল্পে সবচেয়ে বেশি লোকবল নিয়ে থাকে দক্ষিণ কোরিয়ার এইচআরডির অধীন কম্পানিগুলো। এ ছাড়া নির্মাণশিল্প খাত, কৃষি ও পশুপালনশিল্প, মত্্স্যশিল্প ও সেবাশিল্প খাতেও দক্ষ কর্মী নিয়ে থাকে নিয়োগসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো।

যেসব যোগ্যতা থাকতে হবে

দক্ষিণ কোরিয়ায় কারা কাজে যেতে পারবে বা কী যোগ্যতা থাকতে হবে, এ প্রসঙ্গে নূরুল ইসলাম বলেন, ‘বাংলাদেশ থেকে দক্ষিণ কোরিয়ায় কাজে যেতে আগ্রহী তরুণকে প্রথমেই শিখতে হবে কোরিয়ান ভাষা। এরপর থাকতে হবে ভিত্তিমূলক কাজের দক্ষতা, শারীরিক যোগ্যতা, প্রযুক্তিগত বিষয়ে প্রশিক্ষণ এবং একই সঙ্গে থাকতে হবে সংশ্লিষ্ট খাতে কাজের বা চাকরির অভিজ্ঞতা। ১৮-৩৯ বছর বয়সী নারী বা পুরুষ উভয়ই আবেদনের যোগ্য। কোনো ধরনের ফৌজদারি অপরাধে সাজাপ্রাপ্ত বা বিদেশযাত্রায় সরকারি নিষেধাজ্ঞা আছে অথবা পূর্বে কোরিয়ায় অবৈধভাবে অবস্থান করেছিল—এমন প্রার্থীরা রেজিস্ট্রেশনের অযোগ্য। হতে হবে মেডিক্যালি ফিট এবং থাকতে হবে মেয়াদসহ মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট।’ তিনি আরো জানান, শিক্ষাগত যোগ্যতার বিষয়ে কোনো বাধ্যবাধকতা না থাকলেও অক্ষরজ্ঞানসম্পন্ন ও ম্যানুফ্যাকচারিং খাতে চাকরির অভিজ্ঞতা এবং ভোকেশনাল ট্রেনিং সনদ আছে—এমন প্রার্থীরা অগ্রাধিকার পাবে।

শুরুতেই রেজিস্ট্রেশন

কোরিয়ায় কাজে যেতে চাইলে শুরুতেই করতে হবে অনলাইনে প্রি-রেজিস্ট্রেশন।

কোরিয়া সরকারের এইচআরডি বিভাগের শিডিউল অনুসারে অনলাইনে প্রি-রেজিস্ট্রেশন, ভাষা পরীক্ষার সময়সূচিসহ বিস্তারিত তথ্য বোয়েসেল জাতীয় দৈনিকে, বোয়েসেলের ওয়েবসাইট ও নোটিশ বোর্ডের মাধ্যমে জানানো হয়। সাধারণত প্রতিবছরের ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া চলে। তবে ২০২০ সালের প্রার্থীদের রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া ২০১৯ সালের শেষের দিকে কিংবা ২০২০ সালের শুরুর দিকে হতে পারে। কোরিয়ান ভাষা জানা যোগ্যতাসম্পন্ন প্রার্থীরা বোয়েসেলের ওয়েবসাইটে গিয়ে রেজিস্ট্রেশন করতে পারবে। রেজিস্ট্রেশন করা প্রার্থীর সংখ্যা বেশি হলে লটারির মাধ্যমে নির্ধারিত সংখ্যক প্রার্থীকে বাছাই করবে কর্তৃপক্ষ। চূড়ান্ত রেজিস্ট্রেশনের জন্য প্রার্থীর পাসপোর্ট অনুসারে তথ্য, ছবি ও পাসপোর্টের কপি এইচআরডি কোরিয়ার ডাটা বেইস সার্ভারে আপলোড করা হবে। রেজিস্ট্রেশন ও কোরিয়া যাওয়ার যাবতীয় তথ্য পাওয়া যাবে বোয়েসেলের ওয়েব লিংকে— www.boesl.org.bd/EPS-NoticeBoardKorea.aspx

বোয়েসেলের ফেসবুক পেজেও (facebook.com/boesl.gov.bd) পাওয়া যাবে দরকারি তথ্য।

খরচাপাতি লাগবে যেমন

এমপ্লয়মেন্ট পারমিট সিস্টেমের (ইপিএস) আওতায় জি টু জি পদ্ধতিতে দক্ষিণ কোরিয়া যাওয়ার জন্য যোগ্য হওয়ার পর বিমানভাড়াসহ সব মিলে প্রায় ৮৫ হাজার টাকার মতো খরচ হতে পারে। যোগ্য একজন কর্মীকে ভিসা ফি ও সার্ভিস চার্জ, সার্ভিস চার্জের ওপর ১৫ শতাংশ ভ্যাট, বহির্গমন ছাড়পত্রের জন্য কল্যাণ তহবিল ফি, বহির্গমন ছাড়পত্রের জন্য উেস আয়কর, স্মার্টকার্ড ফি, বোয়েসেল ডাটা বেইস রেজিস্ট্রেশন ফির মোট ৩৩০৩৪ টাকা ‘বোয়েসেল, ঢাকা’ বরাবর পে-অর্ডার সোনালী ব্যাংক লিমিটেড, মগবাজার শাখায় জমা দিতে হবে। জেনারেল কম্পিউটার বেইজড টেস্ট (সিবিটি) কর্মীদের ‘ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ তহবিল’ বরাবরে ১১৪৫ টাকার আলাদা একটি পে-অর্ডার জমা দিতে হবে। তবে প্রার্থীকেই বিমানের টিকিট ক্রয় করতে হবে।