ডাল উত্পাদনে গুরুত্বারোপ করতে হবে

আপডেট : ০১ অক্টোবর ২০১৯, ২১:১৬

চাল উত্পাদনে বাংলাদেশ ঈর্ষণীয় সাফল্য অর্জন করেছে। সকল প্রশংসা দেশের চাষিদের। কৃষকেরা তাদের সাফল্যের জন্য কৃষি মন্ত্রণালয়, কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ, বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন, বাংলাদেশ রসায়ন শিল্প করপোরেশন, বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের কাছে ব্যাপকভাবে ঋণী। তাছাড়া, বিভিন্ন সবজি বিশেষ করে আলু প্রচুর পরিমাণে কৃষকেরা উত্পাদন করছেন। এতে দেশীয় চাহিদা পূরণ করে কিছু বিদেশেও রপ্তানি করা যাচ্ছে।

বর্তমানে বিভিন্ন প্রকারের ডাল উত্পাদনের বিষয়ে বিশেষ দৃষ্টি দেওয়া প্রয়োজন। মানুষের সুষম খাবারের জন্য প্রতিদিন আমিষ খাওয়া প্রয়োজন, যা প্রধানত ডাল থেকে পাওয়া যায়। কয়েক লাখ টন বিভিন্ন প্রকারের ডাল প্রতি বছর বিদেশ হতে আমদানি করা হচ্ছে। লোকসংখ্যা বৃদ্ধি ও মানুষের আয় বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে প্রতি বছর ডাল আমদানিও বাড়ছে। অথচ উত্কৃষ্ট ডাল উত্পাদনের উপকরণ, প্রযুক্তি ও সরকারের কৃষি বিষয়ক সংস্থাসমূহের উদ্বুদ্ধকরণ কার্যক্রম জোরদার করা হলে কৃষকেরা দেশের জন্য প্রয়োজনীয় প্রকার ও পরিমাণের ডাল উত্পাদন করতে পারে। এতে অর্থনৈতিকভাবে কৃষকেরাও লাভবান হতে পারবে। বাংলাদেশের মাটি বিভিন্ন প্রকারের ডাল উত্পাদনের জন্য উপযুক্ত। এখানে মুগ, মুসুর, মাসকালাই, অরহর, মটর, খেসারি ইত্যাদি ডাল পর্যাপ্ত জন্মানো সম্ভব। এক্ষেত্রে কৃষি মন্ত্রণালয়ের বিশেষ প্রকল্প প্রয়োজন, যাতে মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ প্রতিষ্ঠানসমূহ একটি সমুন্নত প্রকল্পের মাধ্যমে কৃষকদের ডাল উত্পাদনের বিভিন্ন উপকরণ সহজলভ্য করা, কৃষকদের আরো বেশি জমিতে ডাল উত্পাদনে উত্সাহিত করার ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে। ডাল উত্পাদনের লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক পারে বাণিজ্যিক ও কৃষি ব্যাংকসমূহের মাধ্যমে ডালচাষিদের সহজ শর্তে ঋণ দিতে। এসব পদক্ষেপ নিলে তিন-চার বছরে বাংলাদেশ তার নিজের জন্য প্রয়োজনীয় ডাল উত্পাদনে সক্ষম হবে। ডাল আমদানির প্রয়োজন হবে না।

 মো. আশারাফ হোসেন

১২০ সেন্ট্রাল বাসাবো, ঢাকা ১২১৪