ব্যবসার পরিবেশ উন্নতিতে বড়ো বাধা জ্বালানি, সুশাসন

আপডেট : ০১ অক্টোবর ২০১৯, ২২:৩৩

ব্যবসার পরিবেশ উন্নতিতে বাংলাদেশের জন্য বড়ো বাধা উচ্চমূল্যের জ্বালানি। এর পরেই বড়ো বাধা হলো সুশাসনের অভাব। জ্বালানির মূল্যের পাশাপাশি বাংলাদেশের আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর দুর্বলতাকেও বড়ো বাধা হিসেবে দেখছেন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের নির্বাহীরা। গতকাল মঙ্গলবার ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম প্রকাশিত ‘রিজিওনাল রিস্ক ফর ডুইং বিজনেস-২০১৯’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনে মূলত দেশগুলোর ব্যবসা করার পরিবেশ সহজ করতে প্রধান বাধাগুলো তুলে ধরা হয়েছে। এজন্য বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নির্বাহীদের সাক্ষাত্কারের ভিত্তিতে জরিপ করা হয়। তাদের ব্যাবসায়িক পরিবেশ উন্নতিতে আগামী ১০ বছরের জন্য প্রধান পাঁচটি বাধা কী হতে পারে—এমন প্রশ্ন করা হয়েছিল। দীর্ঘ মেয়াদে তারা ব্যবসার জন্য কী ধরনের সমস্যা দেখছেন—এমন ৩০টি বিষয় প্রতিবেদনে উঠে আসে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, দেশভিত্তিক সমস্যার ধরন পালটালেও বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠানগুলোর নির্বাহীরা জ্বালানির মূল্যের বিষয়টি এবারও প্রধান ঝুঁকি হিসেবে উল্লেখ করেছেন। দ্বিতীয় বড়ো বাধা    সুশানের অভাব ও বেকারত্ব পরিস্থিতি। গত বছর সাইবার হামলাকে বড়ো ঝুঁকির একটি বললেও এবার আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যর্থতাকে ব্যাবসায়িক পরিবেশ উন্নতির জন্য বড়ো বাধা মনে করছেন দেশের বিনিয়োগকারীরা। এর পাশাপাশি নগর উন্নয়ন পরিকল্পনার অভাবও শীর্ষ বাধার মধ্যে উঠে এসেছে।

এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে চাইলে অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন ইত্তেফাককে বলেন, বিনিয়োগকারীরা দীর্ঘ মেয়াদে জ্বালানির নিশ্চয়তা চান। কিন্তু দেশে গ্যাসের মজুত ফুরিয়ে আসছে। জ্বালানির আমদানি নির্ভরতা বাড়ছে। এজন্য ব্যবসায়ীরা দীর্ঘ মেয়াদে এটা নিয়ে উদ্বেগ জানাতেই পারেন। ব্যাংকিং খাতের দুরবস্থা ব্যবসায়ীদের আশঙ্কার বড়ো কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিনিয়োগকারীদের জন্য বিকল্প আর্থিক প্রতিষ্ঠানও দাঁড়াচ্ছে না। এজন্য বর্তমান আর্থিক ব্যবস্থা বিনিয়োগকারীদের আশ্বস্ত করতে পারছে না। তিনি বলেন, বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে সময়োপযোগী কর্মসংস্থান করাটাও চ্যালেঞ্জ।

উল্লেখ্য, এবারের প্রতিবেদনে বাংলাদেশে অপরিকল্পিত নগর ব্যবস্থাপনা শীর্ষ পাঁচটি ঝুঁকির তালিকায় উঠে এসেছে। বিশেষ করে দূষিত নগরীর শীর্ষ তালিকায় বাংলাদেশের নাম থাকায় ব্যবসায়ীরা উদ্বেগ জানিয়েছেন। বিশ্বব্যাংকের এক হিসাবের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে পরিবেশদূষণজনিত আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ বছরে প্রায় সাড়ে ৬ বিলিয়ন ডলারের সমপরিমাণ। পরিবেশদূষণের কারণে দেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা নষ্ট হচ্ছে।

১৪১টি দেশের তথ্য নিয়ে এবারের প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, মানুষের জীবনযাত্রার অনেক উন্নতি হলেও অর্থনীতির ঝুঁকিগুলো সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে। বিশ্বপরিস্থিতি আগের চেয়ে আরো জটিল হয়েছে। এবারের প্রতিবেদনে দক্ষিণ এশিয়ায় সবচেয়ে বড়ো ঝুঁকি উল্লেখ করা হয়েছে পানির সংকটকে। গেল বছর দক্ষিণ এশিয়ায় সুশাসনের অভাবকে বড়ো বাধা বললেও বিশুদ্ধ পানির সংকট এবার সবার ওপরে উঠে এসেছে। মূলত জলবায়ুর পরিবর্তন ও খরার কারণে দক্ষিণ এশিয়ায় ভূ-উপরিস্থ পানির পরিমাণ নিচে নেমে যাচ্ছে। ২০২০ সালের মধ্যে ভারতের বড়ো ২০টি শহরে বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দেবে। ভারত, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার জন্য পানি একটি বড়ো সংকট হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই অঞ্চলের ভূ-রাজনীতিতে বড়ো চ্যালেঞ্জ পানি। আঞ্চলিক বিরোধে নদীর পানি একটি বড়ো অস্ত্র হিসেবে ব্যবহূত হতে পারে। এর পরই সন্ত্রাসী হামলাকে ঝুঁকি হিসেবে দেখছেন ব্যবসায়ীরা। এই অঞ্চলের ব্যবসায়ীরা মন্দার আশঙ্কাও করছেন। মনুষ্যসৃষ্ট পরিবেশগত সংকট এই অঞ্চলে বড়ো হয়ে দেখা দিয়েছে।