সোনিয়া হাসান সুবর্ণা দীর্ঘ প্রায় দুই দশক ধরে সুবচন নাট্য সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত আছেন। অভিনয় করতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। বর্তমানে এর পাশাপাশি ভারতের আসাম ইউনিভার্সিটি থেকে ‘মঞ্চ নাটকে নারীর ভূমিকা’ নিয়ে ডক্টরেট করছেন। মঞ্চে অভিনয় করেছেন নির্দেশক এস এস সোলায়মান, খালেদ খান, মামুনুর রশীদ, ইস্রাফিল শাহিন, সুদীপ চক্রবর্তীর মতো নন্দিত ও গুণী নির্দেশকদের সঙ্গে। স্বল্প পরিসরে টেলিভিশন নাটকে অভিনয় করলেও মঞ্চ নাটকই তার ধ্যানজ্ঞান। অভিনয়-ক্ষুধা তাকে উদ্বুদ্ধ করেছে ম্যাড থেটারের সঙ্গে যুক্ত হতে। গুণী এই অভিনেত্রী ও নাট্য গবেষকের সঙ্গে কথা বলেছেন মাহবুব আলম
আপনি সুবচনের সদস্য, এর পাশাপাশি ম্যাড থেটার করার প্রয়োজন কী ছিল?
সুবচনের সঙ্গে কাজ করছি দুই দশকেরও অধিক সময় ধরে। সুবচনে যোগ দেওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত সবগুলো মঞ্চ নাটকেই কাজ করেছি এবং চলতি নাটকের প্রদর্শনীতে নিয়মিতভাবে অভিনয় করে যাচ্ছি। সুবচনে কাজ করার পরও, অভিনয়ে নিজেকে আরো যুক্ত রাখার আকাঙ্ক্ষা আমার দিন দিন বেড়েছে, তীব্র হয়েছে। এ কারণেই ম্যাড থেটারের সঙ্গে জড়িয়ে পড়া। ম্যাড থেটার অভিনয়ের নতুন একটি ক্ষেত্র যেখানে আমি সুবচনের পাশাপাশি কাজ করতে পারি। ম্যাড থেটারে যুক্ত হয়ে নতুন নাটকের সঙ্গে পরিচিত হওয়া, নতুন চরিত্র নির্মাণের সুযোগ পাওয়া—বিষয়টা আমার জন্য দারুণ আনন্দদায়ক।
ম্যাড থেটার নিয়ে আপনাদের ভবিষ্যত্ পরিকল্পনা কী?
পরিকল্পনা একটাই, নতুন নাটক করা। এবছরের মধ্যেই যাতে নতুন একটি নাটক মঞ্চে নিয়ে আসতে পারি, সেজন্য আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করব। এ লক্ষ্যে আমরা অনেক দূর এগিয়েছিও। এরমধ্যে নাটকের পাণ্ডুলিপি তৈরি হয়ে গেছে। এখন মহড়া শুরু করার অপেক্ষায় আছি। প্রতি বছর যাতে একটি করে নাটক নামাতে পারি, সেই লক্ষ্যে আমরা কাজ করছি।
থিয়েটারের কোন দিকটি আপনাকে মোহিত করে এবং কেন?
থিয়েটার হলো জীবন্ত মাধ্যম। যতক্ষণ জীবন আছে, ততক্ষণ থিয়েটারের অস্তিত্ব থাকবে। থিয়েটার কোনো বাধায় নিশ্চিহ্ন হতে পারে না। থিয়েটার চলমান, চলবেই। যত প্রযুক্তি আসুক, যতই বিনোদনের ভিন্ন মাধ্যমের প্রচলন হোক না কেন, থিয়েটারের আবেদন কখনোই শেষ হবে না। সমাজের একটা অংশ থাকবেই, যারা থিয়েটারকে আঁকড়ে ধরবে। থিয়েটার তাদের কাছে জীবন, থিয়েটার তাদের কাছে বাঁচার মন্ত্র, থিয়েটার তাদের নিয়তি নির্দিষ্ট। থিয়েটার যে কিছু মানুষকে পাগল করে দেয়, প্রতিদিনের জীবনযাপনের মধ্য দিয়ে আমি সেটা দেখি, উপলব্ধি করি। মানুষকে পাগল করার ক্ষমতা দেখে আমি থিয়েটারের প্রতি প্রতিদিন আকৃষ্ট হই, থিয়েটার আমাকেও পাগল করে দেয়।
প্রণোদনা কতটা প্রাণিত করে? আমাদের প্রণোদনা প্রদান কতটা স্বচ্ছ?
প্রণোদনা মানুষকে অনুপ্রাণিত করে, উত্সাহ দেয় নতুন কাজ করার। প্রণোদনা হলো পুরনো কাজের স্বীকৃতি এবং নতুন কাজের অনুপ্রেরণা। প্রণোদনা কাজকে গতিশীল করে, নতুন স্পৃহা জাগায়, নতুন করে নিজেকে আবিষ্কার করা যায়।
যারা প্রণোদনা দেয়, তারা তাদের মতো করে বিবেচনা করে, তাদের দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে বিশ্লেষণ করে। প্রণোদনা প্রদানকারী সংগঠন তাদের বিচার বিশ্লেষণে থিয়েটার সংশ্লিষ্ট যে কাউকে প্রণোদনা দিতে পারে, সেটা তাদের এখতিয়ার। আমি মনে করি, থিয়েটারের সঙ্গে যু্ক্ত থাকতে পারাটাই একটা বড় কৃতিত্ব, এই কৃতিত্বের স্বীকৃতি প্রদানের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা-অস্বচ্ছতার বিষয়টি প্রাসঙ্গিক নয়।
থিয়েটারে দর্শক বৃদ্ধির জন্য মূলত কী কী পদক্ষেপ নেওয়া উচিত বলে মনে করেন?
নাটক নিয়ে শুধু শিল্পকলার মধ্যে পড়ে থাকলে চলবে না, এটিকে শহরময় ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য বিকল্প মিলনায়তনের সংখ্যা বাড়াতে হবে। নাটকের আলোচনা বাড়াতে হবে। প্রচারণা বাড়াতে হবে। সংস্কৃৃতির অন্য মাধ্যমগুলোর সঙ্গে আন্তঃসংযোগ বাড়াতে হবে। মঞ্চ নাটককে পত্রিকা-টেলিভিশনে গৌণভাবে উপস্থাপনের মানসিকতা থেকে বের করে আনার উদ্যোগ নিতে হবে। এসব বিষয়ের দিকে নজর দিলেই আমাদের থিয়েটারের দর্শক বাড়বে বলে আমার বিশ্বাস।
