ভারতেশ্বরী হোমসে পুরস্কার বিতরণ উপলক্ষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান

আপডেট : ০২ অক্টোবর ২০১৯, ১৯:২৫

মীর আনোয়ার হোসেন টুটুল,

মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) সংবাদদাতা

 

নারী শিক্ষা ও নারী জাগরণের অন্যতম শিক্ষা প্রতিষ্ঠান টাঙ্গাইলের মির্জাুপরের ভারতেশ্বরী হোমসে সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সপ্তাহ ২০১৯-এর পুরস্কার বিতরণ উপলক্ষে দৈনিক ইত্তেফাক ও পাক্ষিক অনন্যা’র সম্পাদক তাসমিমা হোসেনের সম্মানে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ২৮ সেপ্টেম্বর ভারতেশ্বরী হোমসের শিক্ষার্থীরা এ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন তাসমিমা হোসেন, ভারতেশ্বরী হোমসের সাবেক প্রিন্সিপাল  প্রতিভা মুত্সুদ্দি, কুমুদিনী ওয়েল ফেয়ার ট্রাস্ট অব বেঙ্গল লিমিটেডের পরিচালক শ্রীমতি সাহা, নারী নেত্রী ও সমাজসেবী জয়ন্তী রায়, ভারতেশ্বরী হোমসের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মি. অমলেন্দু সাহা, কুমুদিনী হাসপাতালের পরিচালক ডা. প্রদীপ কুমার রায়, ভারতেশ্বরী হোমসের সাবেক প্রিন্সিপাল উলফাতুননেছা এবং সিনিয়র শিক্ষিকা, কবি ও সাহিত্যিক হেনা সুলতানা। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তাসমিমা হোসেন বলেন, ‘পুরুষরা সমাজ শাসন করবে আর নারীরা অন্ধকারে বসে থাকবে তা হতে পারে না। অন্ধকার যুগ থেকে নারীদের আলোর পথে বের হয়ে আসতে হবে। নারী শক্তি না থাকলে একজন পুরুষ সমাজকে পরিপুর্ণভাবে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারেন না। একজন আদর্শবান নারী একজন পুরুষকে সবসময় শক্তি জোগায়। নারীকে শৃঙ্খলাবোধ, লেখাপড়ার প্রতি মনোযোগী, সাংস্কৃতিক চর্চাসহ মূল্যবোধ সৃষ্টিতে সবসময় কাজ করে যেতে হবে।’ দানবীর রনদা প্রসাদ সাহার উদাহরণ দিয়ে তাসমিমা হোসেন বলেন, ‘আজ এ দেশের রাজনীতিবিদরা দেশের টাকা লুট করে বিদেশে পাচার করে বিপুল টাকার মালিক হচ্ছেন। তারা দেশ ও জনগণের কথা চিন্তা না করে কিভাবে তারা লুটপাট করবে এ নিয়ে ব্যস্ত থাকেন। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানও স্বপ্ন দেখেছিলেন এ দেশ হবে সোনার বাংলা। জাতির জনকের সে স্বপ্ন তার রেখে যাওয়া সেই দলের নেতাকর্মীরা বাস্তবায়ন করতে পারেননি। কিন্তু দানবীর রনদা প্রসাদ সাহা কখনো নিজের ও পরিবারের কথা ভাবেননি। তিনি ভেবেছেন কিভাবে নারীকে আদর্শ শিক্ষায় শিক্ষিত করে গড়ে তোলা যায়। দেশের মানুষ কিভাবে সেবা পাবে সেজন্য দিনরাত পরিশ্রম করে কুমুদিনী হাসপাতাল, ভারতেশ্বরী হোমস, কুমুদিনী নার্সিং স্কুল, মানিকগঞ্জ দেবেন্দ্র কলেজ, টাঙ্গাইল কুমুদিনী মহিলা কলেজসহ বহু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন।’ তিনি আরো বলেন, ‘রনদা প্রসাদ সাহা মনে করতেন তার একেকটা প্রতিষ্ঠান যেন তার তীর্থস্থান। সেই তীর্থস্থানগুলো তার কন্যা জয়া, বিজয়া, প্রতিভা মুত্সুদ্দি এবং উত্তরসূরি রাজিব আজো ধরে রেখেছেন। যার ফল এখন এ দেশের মানুষ ভোগ করে যাচ্ছেন। তার মতো মহান ও আদর্শবান ব্যক্তি আজ এ দেশে বিশেষ প্রয়োজন।’ ভারতেশ্বরী হোমসের ছাত্রীদের সাংস্কৃতিক চর্চা, নিয়ম-শৃঙ্খলা ও শিক্ষার পরিবেশ দেখে তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন। পরে তিনি বিভিন্ন ইভেন্টে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন। অনুষ্ঠানের শেষে মির্জাপুর রিপোর্টার্স ইউনিটির পক্ষ থেকে বিভিন্ন মিডিয়ায় কর্মরত স্থানীয় সাংবাদিকরা তাসমিমা হোসেনকে ফুলের তোড়া দিয়ে সম্মান জানান। এ সময় সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের জন্য তিনি সাংবাদিকদের দিক-নির্দেশনা প্রদান করেন।