স্বল্প মূলধনে ছাগলের খামার

আপডেট : ০৪ অক্টোবর ২০১৯, ১৯:৪৬

আবুল কাসেম ভূঁইয়া

 

ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার সঙ্গে তাল মিলিয়ে দেশে পোলট্রি এবং মত্স্য উত্পাদন দ্রুত বাড়লেও প্রযুক্তিগত জ্ঞানের অভাবে প্রাণিসম্পদ বিশেষ করে ছাগলের উত্পাদন আশানুরূপ বাড়েনি। এদেশে প্রায় ২০ মিলিয়ন ছাগলের প্রায় ১৩ শতাংশ পালন করে ক্ষুদ্র এবং মাঝারি ধরনের খামারিরা। অথচ গবাদি প্রাণীর মধ্যে ছাগল পালন যতটা লাভজনক এবং সহজ, অন্যগুলো তেমন একটা নয়। আমাদের দেশে বিভিন্ন প্রজাতির ছাগল উত্পাদন হলেও এর মধ্যে ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল বেশ জনপ্রিয়। এসব ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগলের মাংস যেমন সুস্বাদু, চামড়া তেমনি আন্তর্জাতিকভাবে উন্নত মানের বলে স্বীকৃত। তাছাড়া ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগলের বাচ্চা উত্পাদনক্ষমতা অত্যধিক এবং তারা দেশীয় জলবায়ুতে বিশেষভাবে উত্পাদন উপযোগী।

ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল প্রধানত মাংস উত্পাদনকারীজাত হিসেবে বিশ্বে স্বীকৃত। ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল প্রতিটির গড় ওজন ১৫ থেকে ২০ কেজি। আবার কখনো ৩০-৩২ কেজি পর্যন্ত হয়ে থাকে। এসব ছাগলের দৈনিক ওজন বৃদ্ধির হার ২০ থেকে ৪০ গ্রাম। নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে ছাগল পালনের মাধ্যমে একজন ভূমিহীন বা প্রান্তিক খামারি বাড়তি আয় করতে পারেন। এই ছাগল বাংলাদেশ ছাড়া ভারতের পশ্চিম বাংলা, আসাম এবং অন্যান্য রাজ্যে পাওয়া যায়। বয়স্ক পুরুষ এবং স্ত্রী ছাগলের মধ্যে ওজনের পার্থক্য লক্ষ করা যায়। এরা বছরে দুই বার বা এর অধিকবার বাচ্চা প্রসব করে থাকে। তবে এদের দুধ উত্পাদন ক্ষমতা তুলনামূলক কম। স্ত্রী ছাগল   ৯-১৩ মাস বয়সে প্রজননের যোগ্য হয়। ১৪-১৫ মাস বয়সে প্রথম বাচ্চা প্রসব করে। ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল পালনে অনেক সুবিধা রয়েছে। ছোটো প্রাণী হওয়ায় এদের খাবারের পরিমাণ তুলনামূলক অনেক কম। এই ছাগল পালনের জন্য অল্প জায়গা লাগে।

ছাগলের খামার করতে বেশি মূলধনের প্রয়োজন পড়ে না। যে কেউ চাইলে ছাগলের খামার গড়ে তুলতে পারেন। অন্যান্য গবাদি পশুর তুলনায় ছাগলের রোগবালাই অনেক কম। তুলনামূলক কম সময়ে অধিকসংখ্যক বাচ্চা পাওয়া যায়। বছরে দুই বার বাচ্চা প্রসব করে এবং প্রতিবার গড়ে দুই-তিনটি বাচ্চা হয়ে থাকে। এক হিসাবে দেখা গেছে সেমি ইন্টেনসিভ পদ্ধতিতে ২৫টি ছাগীর খামার থেকে প্রথম বছরে ৫০ হাজার টাকা, দ্বিতীয় বছরে ৭৫ হাজার ৩৩৭ টাকা এবং তৃতীয় বছরে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত পাওয়া যায়। ছাগলের খামার করার আগে ছাগলের স্বাস্থ্য সম্পর্কে অবগত হতে হবে। ছাগল পালনের জন্য উপযুক্ত স্থান নির্ধারণ করতে হবে। ছাগলের ঘর শুষ্ক, উঁচু, পানি জমে না— এমন স্থানে স্থাপন করতে হবে। ছাগল ঠাসাঠাসি  অবস্থায় থাকতে পছন্দ করে না। এজন্য ছাগলের বাসস্থান একটু খোলামেলা হতে হবে। অতিগরম এবং অতি ঠান্ডা থেকে ছাগলকে রক্ষা করতে হবে। রোগবালাই থেকে ছাগলকে রক্ষা করতে নিয়মিত ভ্যাক্সিন দিতে হবে। ছাগলের স্বাস্থ্য নিয়মিত পরীক্ষা করতে হবে। ছাগলের কোনো অসুখ দেখা দিলে চিকিত্সকের পরামর্শ নিতে হবে। আমাদের বাংলাদেশে ছাগল পালন এবং ছাগলের খামার গড়ে তোলার বিশাল সুযোগ রয়েছে।