গাজী জাহিদুর রহমান, তালা (সাতক্ষীরা) সংবাদদাতা
সাতক্ষীরার তালা উপজেলার প্রায় ৪ লাখ মানুষের চিকিত্সার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়োজিত রয়েছেন মাত্র পাঁচ জন ডাক্তার। ফলে উপজেলা ও তার বাইরে থেকে প্রতিদিন আসা শতশত রোগী চিকিত্সাসেবা না নিয়েই ফিরে যান বাড়িতে।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, ১৯৭২ সালের ৬ জুন ৩১ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালটি ৪ একর ৬৪ শতক জমির ওপর যাত্রা শুরু করে। এরপর ২০০৯ সালে ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হলেও এর চিকিত্সা কার্যক্রম চালিয়ে নেওয়া হচ্ছে আগের জনবল দিয়ে। চলতি সরকারের শাসনামলে সারাদেশে চিকিত্সা সেবায় আমূল পরিবর্তন আসলেও তালা হাসপাতাল রয়ে গেছে সেই পুরোনো রূপে।
সূত্র মতে, হাসপাতালটির জন্য মোট জনবল চাহিদা রয়েছে ২৩২টি। এরমধ্যে ১৬৯টি পদ পূরণ থাকলেও শূন্য রয়েছে আরো ৬৩টি পদ। যার ৩৩টিই প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তার। বর্তমানে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাসহ মাত্র পাঁচটি পদ পূরণ রয়েছে। সব মিলিয়ে ২৮ ডাক্তার শূন্যতায় হাসপাতালের কার্যক্রম চলছে কোনো রকম ঢিমেতালে। বিশেষ করে ৪র্থ শ্রেণি আউটসোর্সিং (পরিচ্ছন্নতা কর্মী, ওয়ার্ডবয়, কুক মশালচী, নিরাপত্তা প্রহরী) স্বল্পতায় স্বাস্থ্যসেবায় কখনো কখনো রীতিমত স্থবিরতা নেমে আসে।
তালা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মীর আবু মাউদ বলেন, ‘আউটডোর ও ইনডোরে দৈনিক ৩০০ থেকে ৪০০ রোগীকে চিকিত্সাসেবা দেওয়া হচ্ছে। অল্পসংখ্যক চিকিত্সক দিয়ে সেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। নামে ৫০ শয্যার হাসপাতাল হলেও জনবল আছে শয্যার অর্ধেকের মতো। চিকিত্সক সংকটের কথা প্রতিমাসে লিখিতভাবে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হচ্ছে।
সাতক্ষীরা সিভিল সার্জন ডা. শাহিনুর রহমান বলেন, চিকিত্সক সংকট সারা বাংলাদেশেই। শিগিগর এর সমাধান হবে।
