ইত্তেফাক রিপোর্ট
রাজধানীর মোহাম্মদপুর জেনেভা ক্যাম্পে বিদ্যুতের দাবিতে গতকাল শনিবার ক্যাম্পবাসীর সঙ্গে স্থানীয় কাউন্সিলরের নেতাকর্মী ও পুলিশের ত্রিমুখী সংঘর্ষে কমপক্ষে ২০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে রকি হোসেন নামে এক যুবকের ডান চোখে পুলিশের ছররা গুলি লেগে গুরুতর আহত হয়েছেন। তার চোখ মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাকে জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, বিহারিদের ছোড়া ইটপাটকেলের আঘাতে তাদের ১৫-২০ জন সদস্য আহত হয়েছেন। সংঘর্ষে বিহারিরা তাদের শতাধিক লোক আহতের দাবি করলেও পুলিশ তা অস্বীকার করেছে। সোয়া তিনটার দিকে জেনেভা ক্যাম্পের ভেতর অভিযান চালায় পুলিশ। পরে সেখান থেকে ছয়জনকে আটক করা হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, শুক্রবার থেকে জেনেভা ক্যাম্পে বিদ্যুতের দাবিতে আন্দোলন শুরু হয়। আটকেপড়া পাকিস্তানিদের অভিযোগ, প্রতিদিন ৮-১০ ঘণ্টা করে তাদের বিদ্যুত্হীন অবস্থায় থাকতে হয়। এই ক্ষোভে গতকাল থেকে তারা আন্দোলন শুরু করে। গতকাল বেশ কিছু সময় ধরে আন্দোলন চলে। আজ দুপুর ১২টা থেকে আন্দোলনকারীরা জেনেভা ক্যাম্প থেকে মোস্তাকিম কাবাব রেস্টুরেন্ট পর্যন্ত রাস্তা অবরোধ করে। পুলিশের সঙ্গে দফায় দফায় তাদের সংঘর্ষ হয়। বেলা দেড়টা থেকে সংঘর্ষ ব্যাপক আকার ধারণ করে। পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল ও ফাঁকা গুলি ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালায়। সংঘর্ষের এক পর্যায়ে রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজের পেছনের সড়কেও সংঘর্ষ ছড়িয়ে যায়। বিক্ষোভকারীরা পুলিশের একটি পিকআপ ভ্যান ভাঙচুর করে আগুন ধরানোর চেষ্টা চালায়।
তেজগাঁও বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মো. আনিসুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, দুপুর ১টা থেকে দেড়টা পর্যন্ত এখানে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে বিহারিরা পুলিশের ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এতে পুলিশের ১৫ থেকে ২০ জন সদস্য আহত হন। তাদের সবার পায়ে ইটের আঘাত রয়েছে। ক্যাম্পের প্রায় ৩১ কোটি টাকা বিদ্যুত্ বিল বাকি রয়েছে। তারা বিদ্যুত্ বিল দেবে না বলে রাস্তায় আন্দোলন চালায়।
এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘স্থানীয় কাউন্সিলর হাবিবুর রহমান মিজান তাদের বোঝানোর জন্য এলে তাকে মারধর করে বিহারিরা। পুলিশ তাকে আহতাবস্থায় উদ্ধার করেছে। এছাড়া বিহারিরা পুলিশের মোহাম্মদপুর থানার একটি গাড়ি ভাঙচুর করেছে। এরই মধ্যে ক্যাম্পের ভেতর থেকে ছয় জন বিহারি যুবককে আটক করা হয়েছে।’
ক্যাম্পবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বাংলাদেশে যত স্ট্রান্ডেড পাকিস্তানিজ জেনারেল রিপ্যাট্রিয়েশন কমিটির (এসপিজিআরসি) ক্যাম্প রয়েছে, এর মধ্যে জেনেভা ক্যাম্পে বিদ্যুত্ নিয়ে ঝামেলা চলছে। তারা জানান, এখানে প্রায় ৪০ হাজার বাসিন্দার বসবাস। ত্রাণ মন্ত্রণালয় ডেসকোকে বিদ্যুত্ বিল পরিশোধ করবে। কিন্তু ত্রাণ মন্ত্রণালয় সেই বিল পরিশোধ করছে না বলে ডেসকো পরিকল্পিতভাবে দৈনিক ৫/৬ ঘণ্টা লোডশেডিং ঘটায়।
