দেবব্রত মুখোপাধ্যায়
দিনটা তাদের ছিলো।
তাদের দিন এই প্রথম নয়। গত এক দশক ধরে বাংলাদেশের ক্রিকেটকে একটু একটু করে একটা উচ্চতায় নিয়ে এসেছেন বাংলাদেশের পাঁচ মহারথী—তামিম ইকবাল, সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহিম, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ এবং মাশরাফি বিন মুর্তজা। গতকালকের দিনটা এই দীর্ঘ যাত্রার একটা দারুণ মাইলফলক ছিলো। গতকাল একসাথে শততম ম্যাচ খেলতে নেমেছিলেন বাংলাদেশের এই পাঁচ তারকা। আর দিনটা তারা নিজেরাই উদযাপন করে নিলেন।
অন্তত ব্যাট হাতে দলের সেরা পারফরমার হয়ে রইলেন এই পাঁচজনের চারজন। মাশরাফি যেহেতু ব্যাটসম্যান নন, ব্যাটিংয়ে তার এই অবদান রাখার সুযোগ তেমন ছিলো না। বাকী চারজনই বাংলাদেশের ইনিংসটাকে টেনে নিলেন। এর মধ্যে তামিম, মুশফিক ও সাকিব রীতিমতো পঞ্চাশ পার করা ইনিংস খেললেন। আর মাহমুদউল্লাহ সেই মাইলফলকে যেতে না পারলেও খেললেন ৩০ রানের এক ইনিংস।
বাংলাদেশের হয়ে এই ম্যাচেও ইনিংস শুরু করতে নেমেছিলেন তামিম ইকবাল ও লিটন দাস। লিটন খুব বেশি স্বস্তি দিতে পারেননি। ব্যক্তিগত পাঁচ রানে গোড়ালিতে ব্যথা পেয়ে মাঠ ছাড়েন তিনি। পরে হাসপাতাল ঘুরে এসে আবারও ব্যাটিং করেও খুব বেশি কিছু করতে পারেননি; আট রান করে আউট হয়েছেন তুলে মারতে গিয়ে। লিটন আহত হয়ে মাঠ ছাড়ার পরপর ইমরুল কায়েসও ফিরে আসেন। আর এখান থেকে বাংলাদেশকে প্রথম পথ দেখান তামিম ও মুশফিক।
তামিম-মুশফিক ১১১ রানের জুটি করেন। দুইজনই পঞ্চাশ পার করেন। তামিম ঠিক ৫০ রান করে আউট হন। আর মুশফিক করেন ৬২ রান। এরা দুইজন ফেরার পর বাংলাদেশের হাল ধরেন রিয়াদ ও সাকিব। দুইজনে যোগ করেন ৬১ রান। রিয়াদ ৩০ রান করে ফিরে আসেন। এরপর সাকিব আল হাসান লড়াই চালান লিটন দাস, সৌম্য সরকার, মাশরাফিদের নিয়ে। শেষ সময়ে সাকিবের ব্যাট যখন আরও ধারালো হয়ে উঠছিলো তখনই কেমার রোচের বলে বোল্ড হয়ে ফেরেন তিনি। দলের সর্বোচ্চ ৬৫ রান করেন সাকিব।
সবমিলিয়ে সেই পাঁচ তারকার চারজন অন্তত প্রথম ইনিংসে হয়ে উঠলেন দলের কাণ্ডারি।
২০০৭ সালে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের অভিষেকের পর থেকে বাংলাদেশের ক্রিকেট দলে আস্তে আস্তে তৈরি হয় পাঁচ সিনিয়র ক্রিকেটারের এই কেন্দ্রস্থল। এরপর কখনো কখনো কেউ বাদ পড়েছেন, কেউ ইনজুরিতে খেলতে পারেননি। ফলে সবগুলো ম্যাচে এই পাঁচ ক্রিকেটারের এক সাথে খেলা হয়নি। ২০১৫ সাল থেকে এই পাঁচজন হয়ে ওঠেন বাংলাদেশের ক্রিকেটের প্রাণভোমরা। এদের উপর ভর করেই নতুন এক যুগে প্রবেশ করে বাংলাদেশ। একটার পর একটা ওয়ানডে ম্যাচ, সিরিজ জিতেছে বাংলাদেশ এই সময়ে; যার বেশিরভাগের রূপকার ছিলেন এই পাঁচজন। অবশেষে সেই পাঁচ ক্রিকেটার এক সাথে শততম ম্যাচ খেলতে যাচ্ছেন আজ।
ক্রিকেট ইতিহাসে এমন পাঁচজনের একটা গ্রুপ গড়ে ওঠা এবং তাদের শত ম্যাচ খেলে ফেলাটা খুব বিরল কিছু নয়। অন্তত ইতিহাসে ৬৪টি এ রকম পাঁচজনের দল পাওয়া যাবে, যারা এক সাথে শত ম্যাচ খেলেছেন। কিন্তু বাংলাদেশের মতো একটা অস্থিতিশীল ক্রিকেট মানসিকতার দেশে এটা একটা ঐতিহাসিক ঘটনা।
