Ð স্পোর্টস রিপোর্টার
আগামী ১০ অক্টোবর মাঠে গড়াবে জাতীয় ক্রিকেট লিগ (এনসিএল)। অতীতের যে কোনো বারের চেয়ে এবার এনসিএল নিয়ে বেশ সরগরম ক্রিকেটাঙ্গন। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট না থাকায় এনসিএলের দিকে দৃষ্টি সবার। ক্রিকেটারদের ফিটনেস টেস্ট সেখানে বাড়তি মাত্রা যোগ করেছে। ফিটনেস টেস্টের প্রাথমিক পর্ব গতকাল শেষ হয়েছে।
এবার খেলার দিকে মনোযোগী হচ্ছে দলগুলো। অনুশীলনও শুরু করেছে কয়েকটি বিভাগীয় দল। হরহামেশাই এনসিএলকে ‘পিকনিক ক্রিকেট’ নামে হাস্যরস করা হয়। এনসিএলে দুর্দান্ত পারফর্ম করার পর অনেক ক্রিকেটারকেই দেখা গেছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এসে যেন অকূল পাথারে পড়ে যান। এনসিএলের মান বাড়ানো, খেলায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা আনা, ক্রিকেটারদের চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলার আলোচনা বরাবরই হয়। বাস্তবে সেটি কমই চোখে পড়ে।
অভিজ্ঞ বাঁহাতি স্পিনার আব্দুর রাজ্জাক গতকাল বলেছেন, ঘরোয়া ক্রিকেটের মাধ্যমেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের প্রস্তুতি নিতে পারেন ক্রিকেটাররা। সেক্ষেত্রে টেস্টের প্রস্তুতি সারতে এনসিএলে তিন ধরনের উইকেট বানানো প্রয়োজন। তার মতে, এনসিএলে স্পিনিং, সিমিং ও ব্যাটিং সহায়ক উইকেট তৈরি করা উচিত। তাতে অন্তত টেস্টের জন্য বোলার-ব্যাটসম্যানদের পরিপূর্ণ প্রস্তুতি হয়ে যাবে।
গতকাল মিরপুর স্টেডিয়ামের ইনডোরে ব্রিফ টেস্ট দিয়েছেন রাজ্জাক। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে দেশের পক্ষে সর্বোচ্চ ৫৮১ উইকেটের মালিক তিনি। এনসিএল থেকে টেস্টের প্রস্তুতি প্রসঙ্গে জানতে চাইলে গতকাল রাজ্জাক বলেছেন, ‘তিন ধরনের উইকেটে খেললে আরো ভালো হবে। এটা আমার চিন্তা। এটা করলে ভালো হবে।’
১২৮টি প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলা রাজ্জাক বলেন, ‘ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা কিংবা অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে খেললে আমরা টার্নিং উইকেট নিয়ে থাকি। ওদের দলে যদি একটা-দুইটা স্পিনার থাকে তাহলে তাদের জন্য আমাদের ভয় পেতে না হয়, এজন্য যেন আমরা জাতীয় লিগে এই প্রস্তুতিটা নিয়ে থাকি, ঐ স্পিনের উইকেটে খেলার জন্য আপনি ঘরোয়া লিগে একই উইকেটে খেলান তাহলে ওদের স্পিনার থাকলে আমাদের ভয় না হয়। তাতে আমাদের ব্যাটসম্যানরা স্বাচ্ছন্দ্যে পরিস্থিতি সামাল দিতে পারে।’
নির্জলা ব্যাটিং উইকেট পেয়েও অনেক সময় ব্যর্থ হতে দেখা গেছে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের। এমন উইকেটে ব্যাটিংয়ের অনুশীলনটাও এনসিএলে হতে পারে। রাজ্জাক বলেছেন, ‘বিভিন্ন দলের হয়ে আমাদের পরিস্থিতি হয়তো বাধ্য করবে ব্যাটিং উইকেট বানাতে। ব্যাটসম্যানদের যেন ঐ মানসিকতা থাকে যে, আমাদের কিভাবে ব্যাটিং করতে হবে, লম্বা টাইম ধরে খেলতে পারব। এজন্য ব্যাটিং উইকেট।’
সবুজ ঘাসের পেস সহায়ক উইকেট বরাবরই বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের জন্য ভীতির কারণ। এসব উইকেটে ব্যাটসম্যানদের পরীক্ষাও এনসিএলে থাকা উচিত। রাজ্জাক বলেছেন, ‘আমাদের বাইরে যেতে হয়। ইংলিশ কন্ডিশনে যে দেশেই যাব আমাদের জন্য সবুজ উইকেট ওরা অফার করবে। সেটার জন্য আমাদের সিমিং উইকেট তৈরি করলেই হয়। এটা যে আমার মাথায় আসছে তা না, হয়তো উনাদের মাথায়ও আছে।’
এনসিএলে অতীতের চেয়ে এখন বেশি প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয় বলে মনে করেন রাজ্জাক। ৩৭ বছর বয়সি এই ক্রিকেটার গতকাল বলেছেন, ‘শেষ পাঁচ বছরে যা খেলেছি, তাতে আমার মনে হয়েছে লিগ এখন আগের থেকে অনেক বেশি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয়। প্রত্যেকটা খেলোয়াড় চায় যার যার জায়গা থেকে পারফর্ম করতে। বোলার চায় পাঁচ উইকেট পেতে। ব্যাটসম্যানরা এখন ১০০তে মন ভরে না। ২০০-২৫০ কিংবা ৩০০ করতে চায় এখন। এটা দারুণ।’
