সম্প্রতি মেহেরপুুর সফরকালে আমঝুপি নীল কুঠি দেখতে গিয়েছিলাম। মেহেরপুর জেলা সদর থেকে প্রায় ছয় কিলোমিটার পূর্বে কাজলা নদীর তীরে অবস্থিত। সূচনা লগ্নে আমঝুপি নীল কুঠি ৩১ দশমিক ২৮ হেক্টর জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত ছিল। এখন এর আয়তন ১৪ দশমিক ৯৭ হেক্টরে নেমে এসেছে। আমঝুঁপি নীল কুঠি নিয়ে এলাকার মানুষের মধ্যে নানা ধরনের কল্পকাহিনি প্রচলিত আছে। তারা বিশ্বাস করে, পলাশীর যুদ্ধের আগে ইংরেজ ও স্থানীয় ষড়যন্ত্রকারীদের সর্বশেষ গোপন বৈঠক এই আমঝুঁপি নীল কুঠিতেই অনুষ্ঠিত হয়েছিল। কিন্তু এই কাহিনি সম্পূর্ণ বিভ্রান্তিকর। কারণ পলাশীর যুদ্ধ সংঘঠিত হয় ১৭৫৭ সালের ২৩ জুন। রবার্ট ক্লাইভ ২৫ সেপ্টেম্বর, ১৭২৫ সালে ব্রিটেনে জন্মগ্রহণ করেন এবং মৃত্যুবরণ করেন ২২ নভেম্বর, ১৭৭৪ সালে। ক্লাইভ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সেনাবাহিনীতে যোগদান করেন ১৭৪৭ সালে। কাজেই পলাশীর যুদ্ধের ৪৩ বছর পর বরার্ট ক্লাইভ বা অন্য ষড়যন্ত্রকারীদের কারো বেঁচে থাকার কথা নয়। লর্ড ক্লাইভ পলাশীর যুদ্ধের পর খুব বেশিদিন উপমহাদেশে ছিলেন না। আমঝুঁপি নীল কুঠি প্রতিষ্ঠিত হয় ১৮০০ সালের দিকে। তাহলে কিভাবে এখানে ষড়যন্ত্রকারীরা উপস্থিত হতে পারলেন? এমনকি ১৭৯৩ সালে যখন ভূমি ব্যবস্থাপনায় চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত আইন বাস্তবায়ন হয়, তখন ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সর্বোচ্চ দায়িত্বে ছিলেন লর্ড কর্নওয়ালিস। কাজেই বর্ণিত কাহিনীর কোনো সত্যতা নেই—এটা নিশ্চিত করেই বলা যেতে পারে। এই বিভ্রান্তি দূর করার জন্য কর্তৃপক্ষীয় পর্যায় থেকে উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। কারণ আমঝুঁপি নীল কুঠি দেখতে এসে পর্যটকগণ বিভ্রান্ত হচ্ছেন এবং ভুল ইতিহাস জানছেন।
এম এ খালেক
৩৯৪/৩ মধুবাগ, মগবাজার, রমনা, ঢাকা ১২১৭
