রাজশাহীর বাঘায় ফেনসিডিলসহ চোরাকারবারীকে গ্রেফতার করতে গিয়ে পুলিশের সঙ্গে চোরাকারবারীদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় এক ব্যাক্তিসহ চার পুলিশ আহত হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কয়েক রাউন্ড গুলি ছুঁড়লে মিলন নামে এক মাদক ব্যবসায়ী গুলিবিদ্ধ হয়। রবিবার সন্ধ্যায় উপজেলার ভানুকর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহতদের পার্শ্ববর্তী চারঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে।
জানা গেছে, বাঘা উপজেলার সীমান্তবর্তী ভানুকর গ্রামের নুরুল ইসলামের ছেলে রিপন হোসেনের (৩৫) বাড়িতে একই গ্রামের মাসুম হোসেনের ছেলে মিলন হোসেন (৩২) একটি বস্তায় ফেনসিডিল প্যাকেট করে চালান দেওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিল। এ সময় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বাঘা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তদন্ত আতিকুর রহমান সঙ্গীয় ফোর্সসহ ওই বাড়িতে অভিযান চালায়। তখন পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে রিপন হোসেন পালিয়ে যায়।
তবে মাদক ব্যবসায়ী মিলন হোসেন পালাতে না পেরে ওই বাড়ির ঘরের মধ্যে লুকিয়ে পড়ে। ঘটনার এক পর্যায় পুলিশ মিলন হোসেনকে গ্রেফতার করতে গেলে সে তার কাছে থাকা বড় ১ টা ধারালো হাসুয়া দিয়ে পুলিশের উপর আক্রমণ করতে আসে। তখন পুলিশ বাইরে থেকে ঘরের দরােজা বন্ধ করে দেয়। পরবর্তীতে চারঘাট সার্কেলের সিনিয়র (এ.এস.পি) নুরে আলমের নেতৃত্বে অতিরক্তি পুলিশ এসে তাকে গ্রেফতার করার চেষ্টা করে ও কৌশলে তার কাছে থাকা হাসুয়া ফেরত চায় এবং তাকে আত্মসমর্পণ করতে বলে।
এ সময় মাদক ব্যবসায়ী মিলন পুলিশের ওপর হামলা করে। এ হামলায় বাঘা থানার এসআই লুৎফর রহমান, এএসআই নুরনবী, এএসআই মাসুদ ইকবাল,
এএসআই রেজাউল করিম ও পুলিশের সোর্স শরিফ আহাম্মেদ (৪৫) আহত হয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রন করতে পুলিশ মাদক ব্যবসায়ী মিলনের পায়ে গুলি ছুড়ে তাকে গ্রেফতার করে এবং ওই বাড়ি থেকে ১ বস্তা ফেনসিডিল জব্দ করে। এরপর আহত ৬ জনকে প্রথমে পার্শ্ববর্তী চারঘাট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে মিলনকে রামেক হাসপাতালে পাঠান কর্তব্যরত চিকিৎসক মাহাবুল আলম।
আরও পড়ুন: মাদারগঞ্জে হত্যা মামলার প্রধান আসামি জহুরুল স্ত্রীসহ গ্রেফতার
বাঘা থানা অফিসার ইনচার্জ(ওসি)নজরুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, মিলন হোসেন একজন তালিকাভূক্ত মাদক ব্যাবসায়ী। তার কাছ থেকে এক বস্তায় ৮০ বোতল ফেন্সিডিল উদ্ধার করা হয়েছে।
ইত্তেফাক/নূহু

