ফেনী শহরের রেল গেইটস্থ সুলতান মাহ্মুদ পৌর হকার্স কাঁচা বাজারে স্থাপিত ফরমালিন পরীক্ষাগারটি এখন শালিশ ও দরবার কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহূত হচ্ছে।
জানা যায়, ফেনীর বর্তমান ২ আসনের সংসদ সদস্য নিজাম উদ্দিন হাজারী ফেনী পৌরসভার মেয়র থাকার সময়ে ফরমালিন পরীক্ষাগারটি নির্মিত হয়। এর উদ্দেশ্য ছিল, বাজারের কাঁচামাল ও প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে বিভিন্ন ধরনের মাছ, শাক-সব্জি ও কাঁচামাল সামগ্রী বাজারে প্রবেশ করার পূর্বে এতে কোনো ফরমালিন আছে কিনা তা পরীক্ষাগারে পরীক্ষার পর বিক্রির জন্য বাজারে প্রবেশ করবে। ফলে প্রতিদিন পৌরসভা থেকে দায়িত্বপ্রাপ্ত স্যানেটারি ইন্সপেক্টরের তত্ত্বাবধানে কাঁচামাল পরীক্ষা করা হতো।
মাছের পাইকারি ব্যবসায়ী জয়নাল আবদীন, শুকমল দাস, মোহাম্মদ আলাউদ্দিন ও মাছ ব্যবসায়ী আবদুল ছাত্তার জানান, নিজাম উদ্দিন হাজারী সংসদ সদস্য হওয়ার পর থেকে পৌর ফরমালিন পরীক্ষাগারটি কার্যক্রম এক রকম বন্ধ হয়ে গেছে। এখানে একজন কর্মচারী নামে মাত্র আছে। তবে গত ৫ বছর উক্ত পরীক্ষাগারটিতে তালা ঝুলছে। বর্তমান বাজার ব্যবসায়ীদের মধ্যে কোনো ঝগড়া বিবাদ হলে এই ঘরটিতে নিয়মিত শালিশ দরবার চলে।
পৌরসভার মেডিক্যাল অফিসার কৃষ্ণপদ সাহার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এখন মানুষ কাঁচামাল ও মাছে ফরমালিন দেয় না। কৃষ্ণময় বণিক এর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে, তিনি বলেন- পরীক্ষাগারটি সকাল ৮টা থেকে ১১টা পর্যন্ত খোলা থাকে, তবে প্রয়োজনীয় কেমিক্যাল না থাকায় বাজারে আসা মাছ, মাংস ও কাঁচামাল পরীক্ষা করা সম্ভব হয় না।
অপরদিকে ফেনীর পৌর প্যানেল মেয়র আশ্রাফুল আলম গীটার জানান, পরীক্ষাগারটিতে ঠিকমত ফরমালিন পরীক্ষা হয় কিনা, তা তিনি খোঁজ নিয়ে জানাবেন।
এদিকে বাজারের ক্রেতা আবদুল করিম, মুদি ব্যবসায়ী হাজী মোস্তফা, ডিম ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম, মাছ ব্যবসায়ী করিমুল হক তোতা মিয়া জানান, নিজাম হাজারী মেয়র থাকাবস্থায় পরীক্ষাগারটি সবসময় কাঁচামালের পরীক্ষা হতো। কিন্তু বিগত ৫ বছর ঘরটি তালাবদ্ধ আছে। ভিতরে ফরমালিন পরীক্ষার কোনো কিছুই নাই। ঘরটি বর্তমানে সাইন বোর্ড সর্বস্ব ফরমালিন পরীক্ষাগার হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে। এ সকল ব্যক্তি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ফেনী সদরে এ রকম একটি ফরমালিন পরীক্ষাগার আছে, এটি যদি পৌরসভা দেখভাল করত, তাহলে পৌরবাসীর অনেক উপকার হতো।
