বাসমালিক সমিতির অন্তর্কোন্দলে পিরোজপুরে নতুন পরিস্থিতি

আপডেট : ০৭ অক্টোবর ২০১৯, ২১:০০

জেলা বাস মালিক সমিতির মধ্যে উদ্ভূত অন্তর্কোন্দল পিরোজপুর শহরে নতুন পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। এ সংগঠনের ক্ষমতা রক্ষা ও দখল নিয়ে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় জেলা বাস টার্মিনালে পুলিশ মোতায়েনসহ শহরে যাতে কোনোরূপ সন্ত্রাসী ঘটনা না ঘটে তার জন্য পুলিশ কঠোর অবস্থানে রয়েছে। জেলা বাস, মিনিবাস, কোচ ও মাইক্রোবাস মালিক সমিতি সম্প্রতি সংবাদ সম্মেলন ও পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করে  পরস্পরের বিরুদ্ধে একগাদা অভিযোগ আনার পর বাস টার্মিনালসহ শহরের স্বাভাবিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে বলে অবস্থাদৃষ্টে ধারণা করা হচ্ছে। বর্তমানে বাস মালিক সমিতির কমিটিতে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের মধ্যে দ্বন্দ্ব দেখা দেওয়ার পর পরস্পর বিভিন্ন অভিযোগ করে গত শনিবার ও রবিবার পালটাপালটি সংবাদ সম্মেলন করা হয়। উভয় সংবাদ সম্মেলনে বাস মালিকদের মধ্যে সাংঘর্ষিক অবস্থা দৃশ্যমান হয়ে ওঠে। গত ১ সেপ্টেম্বর স্থানীয় এমপি ও গণপূর্ত মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিমের অভ্যর্থনা জানানোর সময় শহরের একটি ফেরিঘাটে জেলা বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক বাবুল হালদার প্রতিপক্ষের হাতে লাঞ্ছিত হন। এ ঘটনায় তিনি থানায় মামলা করলে পুলিশ ও র্যাব শহরের আট জন সরকারদলীয় কর্মী-সমর্থককে গ্রেফতার করে জেলহাজতে পাঠায়। এরপর গত শনিবার বাবুল হালদারের আহ্বানে জেলা বাস মালিক সমিতির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও এককালীন আওয়ামী লীগ নেতা জসিমউদ্দিন খান, সমিতির উপসাধারণ সম্পাদক, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক ও জেলা যুবলীগের সভাপতি আক্তারুজ্জামান ফুলুসহ বাস মালিক সমিতির সদস্য ও মালিকদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ সংবাদ সম্মেলন করেন। এখানে সমিতির সভাপতি ও যুবলীগের কেন্দ্রীয় সদস্য মশিউর রহমান মহারাজের বিরুদ্ধে সংগঠনের নামে ২৪ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়াসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ করা হয়। পরেরদিন রবিবার এক পালটা সংবাদ সম্মেলনে সভাপতি সংগঠনের সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে উলটো অভিযোগ উত্থাপন করেন। এর আগে সমিতির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি জসিমউদ্দিন খান আসন্ন পৌর নির্বাচনকে সামনে রেখে গণসংযোগ শুরু করলে পরপর দুই দিন শহরে চাঞ্চল্য ও উত্তেজনা দেখা দেয়। এক পর্যায়ে শহরের সিও অফিস এলাকায় উভয়পক্ষ মুখোমুখি হলে পুলিশ ব্যাপকভাবে কঠোর অবস্থান নিয়ে তাত্ক্ষণিকভাবে পরিস্থিতি সামাল দেন। কিন্তু গত ১ অক্টোবর গণপূর্ত মন্ত্রীর অভ্যর্থনাকে কেন্দ্র করে হাতাহাতির ঘটনার পর অবস্থা ভিন্নমাত্রায় রূপ নেয়। বাস মালিকদের একাংশ তাদের সমিতির কমিটির মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার দাবি তুলে গত ২ অক্টোবর একটি সভা করে বিদ্যমান কমিটির বিরুদ্ধে অনাস্থা জানান। পাশাপাশি পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠন করা হয়। অচিরেই সমিতির নতুন কমিটির গঠনের জন্য বাস মালিকরা উদ্যোগ নিলে বতর্মান কমিটির সভাপতি এই প্রয়াসকে গঠনতন্ত্রের বিরোধী বলে আখ্যা দিয়ে আগামী ২০২১ সাল পর্যন্ত তার নেতৃত্বাধীন কমিটিকে বহাল বলে সংবাদ সম্মেলনে জানান।

পিরোজপুর পুলিশ সুপার হায়াতুল ইসলাম খান ইত্তেফাককে বলেন, বাস মালিক সমিতি বা বাস টার্মিনালে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির যাতে কোনো অবনতি না ঘটে তার জন্য পুলিশ শূন্য সহিষ্ণুতায় রয়েছে। আইন ও গঠনতন্ত্র অনুযায়ী বা মালিক সমিতির তত্পরতা নিশ্চিত করতে পুলিশ দায়িত্ব পালন করছে। সমিতির কোনো কোন্দল শহরে যাতে বিস্তৃত হতে না পারে সেদিকেও পুলিশ কড়া নজরদারি ও সতর্কতা বহাল রেখেছে।