চন্দনাইশ (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা
আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটের বাজনা বইতে শুরু করেছে। মনোনয়ন ফরম নেওয়ার পর উঠান বৈঠক করলেও প্রার্থীরা তাদের প্রতীক বরাদ্দ পেয়ে গণসংযোগে নেমে পড়েছেন।
গ্রাম-গঞ্জের অলি-গলিতে এখন ভোটের আমেজে সরগরম হয়ে উঠেছে। বিভিন্ন চায়ের দোকান কিংবা জনসমাগম স্থানে চলছে বড় দুই দলের নৌকা এবং ধানের শীষ প্রার্থিতা নিয়ে। প্রার্থিতার যোগ্যতা ও অতীতে এলাকার কর্মকাণ্ড নিয়ে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে চলছে চুলচেরা হিসাব-নিকাশ। তবে চন্দনাইশ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আলহাজ নজরুল ইসলাম চৌধুরী দলীয় প্রতীক নৌকা এবং ২০দলীয় জোট প্রার্থী ড.কর্নেল অব. অলি আহমদ নিজ দল এলডিপির দলীয় প্রতীক ছাতা নিয়ে ভোটযুদ্ধে নেমেছেন।
দলের মর্যাদা লড়াইয়ে দুই প্রার্থীই মরিয়া হয়ে উঠেছে আসনটি পেতে। এ নির্বাচনে সকলের নজর দক্ষিণ চট্টগ্রামের চন্দনাইশ আসনটিতে। কেননা স্বাধীনতার পর থেকে চট্টগ্রাম-১৪ চন্দনাইশ আসনটি কর্নেল অলি আহমদের দুর্গ নামে পরিচিত হয়ে আসছে। ’৭৫ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার পর থেকে এই আসনটি বার বার ধরে রেখেছেন ড.কর্নেল অলি আহমদ বীর বিক্রম। কিন্তু বিএনপি জোট বিগত ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করায় ওই সময় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আলহাজ নজরুল ইসলাম চৌধুরী সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এর পর থেকে তিনি এলাকার অলি-গলি চষে বেড়ান।
এ সময় তারই একান্ত প্রচেষ্টায় চন্দনাইশ উপজেলার ২টি পৌরসভা ও চন্দনাইশের ৮টি এবং সাতকানিয়া আংশিক এলাকার ৬টি ইউনিয়নের ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। শঙ্খ নদীর ভাঙন রোধ, রাস্তাঘাটের অবকাঠামোগত নিয়ে চট্টগ্রাম-১৪ আসনে গত পাঁচ বছরে ৬ হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন হয়েছে।
আলহাজ নজরুল ইসলাম আরো বলেন, আমি কোনো হিংসার রাজনীতির বিশ্বাস করি না বলে অলি আহমদের মা-বাবার নামে গড়া মহিলা কলেজে প্রায় ৪ কোটি টাকা ব্যয়ে আইসিটি ভবন করেছি।
আলহাজ নজরুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, বিগত সময়ে এলাকার ব্যাপক উন্নয়ন পাশাপাশি কোনো ব্যক্তিকে রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলা না দেওয়াটাকে এলাকায় ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হিসাবে মানুষ দেখবে বিধায় উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে এলাকাবাসী আগামী নির্বাচনে নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এদিকে ২০ দলীয় জোটের সমন্বয়কারী লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান আলহাজ ড.কর্নেল অব. অলি আহমদ বীর বিক্রম বলেন, আমি চন্দনাইশবাসীর ভালোবাসায় ছয়বার এ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছি। আমার হাতেই গড়া এই চন্দনাইশ। চন্দনাইশে কোনো রাস্তাঘাট ছিল না।
বর্ষাকালে এ এলাকার মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছিল। যোগাযোগ মন্ত্রী থাকাকালীন সময়ে এমন কোনো রাস্তা নেই উন্নয়ন করা হয়নি। পাশাপাশি স্কুল-মাদ্রাসা-কলেজের উন্নয়ন ও শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ করা হয়েছে। কোনো দুর্নীতিবাজকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়া হয়নি। সুষ্ঠু নির্বাচন হলে ভোটাররা আমাকে বিমুখ করবে না বলে জানান।
