ক্যাসিনো কাণ্ডে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান নাড়িয়ে দিয়েছে দেশের ক্রীড়াঙ্গন। ক্লাবগুলোতে অবৈধ ক্যাসিনো চালানোর আলামত পেয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এই অভিযানের প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডেও (বিসিবি)। ক্যাসিনো অভিযানে গ্রেফতার হওয়া বিসিবির পরিচালক ও মোহামেডানের ডাইরেক্টর ইনচার্জ লোকমান হোসেন ভূঁইয়া এখন কারাগারে রয়েছেন।
সবমিলিয়ে পরিবেশটা বেশ থমথমেই ছিল। দুই মাস পরই মাঠে গড়ানোর কথা ঘরোয়া ক্রিকেটের সবচেয়ে জনপ্রিয় টুর্নামেন্ট বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) সপ্তম আসর। অথচ এখন দেশে নেই বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শেখ সোহেল ও সদস্য সচিব ইসমাইল হায়দার মল্লিক। ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানের পর থেকেই তাদের পা পড়েনি বিসিবিতে। সামগ্রিকভাবে বিপিএলের সপ্তম আসরের আয়োজন নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। নির্ধারিত সময়ে (৬ ডিসেম্বর) বিপিএল শুরু হওয়া নিয়ে শঙ্কা বিরাজ করছিল। যদিও গতকাল সব শঙ্কা উড়িয়ে দিয়ে বিসিবির পরিচালক ও মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান জালাল ইউনুস বলেছেন, বিপিএল নির্ধারিত সময়েই হবে। বিপিএল আয়োজনের কাজ শুরু করে দিয়েছে বিসিবি। পুরো আয়োজনের দায়িত্বভার নিয়েছে খোদ বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন। শিগগিরই এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাবে বিসিবি। এবার বিপিএলের বিশেষ আসর করার ঘোষণা দিয়েছিল বিসিবি। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমানের জন্ম শতবার্ষিকী উপলক্ষ্যে বিপিএলের নামকরণ করা হয়েছে ‘বঙ্গবন্ধু-বিপিএল’। গতকাল মিরপুর স্টেডিয়ামে বিপিএলের আয়োজন সম্পর্কে জালাল ইউনুস সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘আগেই যেমন বলেছিলাম ৬ ডিসেম্বর থেকে শুরু হবে, এখনো সেটাই আছে। এজন্য কিন্তু ক্রিকেট বোর্ডের কাজ শুরু হয়ে গেছে। আমাদের সিইও আছেন, উনি দেখছেন। বিপিএল করতে যে হোমওয়ার্ক করা দরকার সেগুলো করা শুরু হয়ে গেছে, পেপার ওয়ার্কও শুরু হয়েছে। এই কাজগুলো শেষ হয়ে গেলে শিগগিরই আমাদের যে পার্টনার বা স্পন্সর নেওয়ার কথা তাদের সঙ্গে বসব।’
ফ্র্যাঞ্চাইজিদের বাদ দিয়ে বঙ্গবন্ধু-বিপিএল করার ঘোষণা দিয়েছে বিসিবি। আগের মতোই সাতটি দল থাকবে। প্রতিটি দলের জন্য স্পন্সর নেবে বিসিবি। এজন্য দরপত্রও আহ্বান করেছিল সংস্থাটি। যেখানে ছয়টি প্রতিষ্ঠান আগ্রহ দেখিয়েছে। তবে পুরোনো কোনো ফ্র্যাঞ্চাইজি স্পন্সর হতে আগ্রহ দেখায়নি। টুর্নামেন্টের ফরম্যাটে কোনো পরিবর্তন আসবে না। জালাল ইউনুস গতকাল বলেছেন, ‘ফরম্যাট আগে যেমন ছিল প্রায় একই থাকবে। চার জন বিদেশি খেলোয়াড় যেটা আগে ছিল, চার জনই থাকছে। ফ্র্যাঞ্চাইজি আগে কোন প্লেয়ারের সঙ্গে যদি চুক্তি করে থাকে। আর তারা যদি ফ্রি থাকে—তাহলে আমরা তাদেরকে অফার করতে পারি যে, তারা অংশগ্রহণ করবে কি না।’ পুরো আয়োজনের দেখভাল করবেন বিসিবি সভাপতি। মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান বলেছেন, ‘সভাপতি নিজেই এবার দায়িত্ব নিয়েছেন। উনি বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের সঙ্গে বসবেন।’ বিপিএলকে জমজমাট করতে চেষ্টা করবে বিসিবি। গতকাল জালাল ইউনুস বলেছেন, ‘আমরা আগেই বলেছি এটা বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ। এটা বিশেষ এক আসর। আর এটা একটা আসরেই হবে। আমরা যখন দরপত্র দিয়েছিলাম সেখানেও উল্লেখ করেছিলাম যে এটা কেবল একবারের জন্য।’ বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের দুই গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তা চেয়ারম্যান ও সদস্য সচিবের দেশের বাইরে থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে বিসিবির এই পরিচালক বলেছেন, ‘এটা বলতে পারছি না। আমার জানার কথাও নয়। হয়তো তারা কোনো ব্যক্তিগত কাজে বাইরে আছেন। তবে কাজ কিন্তু থেমে নেই। আমাদের ম্যানেজাররা কাজ করছেন।’
