একাদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া অংশগ্রহণ করতে পারবেন কিনা সেটা নির্ভর করছে হাইকোর্টের তৃতীয় বেঞ্চের সিদ্ধান্তের ওপর। নির্বাচনে অংশগ্রহণের লক্ষ্যে তার দায়ের করা তিনটি রিট আবেদনের ওপর গতকাল মঙ্গলবার হাইকোর্টের একটি ডিভিশন বেঞ্চ দ্বিধাবিভক্ত আদেশ দিয়েছেন। বেঞ্চের একজন বিচারপতি নির্বাচনে অংশগ্রহণের পক্ষে আদেশ দিলেও অপর বিচারপতি তাতে দ্বিমত পোষণ করেছেন। বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ ও বিচারপতি মোঃ ইকবাল কবিরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ এই দ্বিধাবিভক্ত আদেশ দেন। নিয়মানুযায়ী এখন এসব মামলার নথি প্রধান বিচারপতির দপ্তরে যাবে। এরপর প্রধান বিচারপতি বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য হাইকোর্টের তৃতীয় বেঞ্চে পাঠাবেন। ওই বেঞ্চের বিচারক যে আদেশ দেবেন তার ওপর নির্ভর করবে সংসদ নির্বাচনে খালেদা জিয়া অংশগ্রহণ করতে পারছেন কিনা। এদিকে খালেদা জিয়ার তিনটি রিট আবেদনের ওপর হাইকোর্টের দ্বিধাবিভক্ত আদেশসহ মামলার নথি গতকাল বিকালে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের দপ্তরে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রধান বিচারপতি আজ বুধবার বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য হাইকোর্টের তৃতীয় বেঞ্চে পাঠিয়ে দিতে পারেন বলে সূত্র জানায়।
সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের লক্ষ্যে খালেদা জিয়া ফেনী-১, বগুড়া-৬ ও ৭ আসন থেকে দলীয় মনোনয়ন নেন। রিটার্নিং অফিসার যাচাই-বাছাই শেষে তিনটি আসনে নেওয়া তার মনোনয়নপত্র বাতিল করে দেন। এর বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) আপিল করেন খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা। দণ্ডিত হওয়ার কারণে সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের ভিত্তিতে খালেদা জিয়ার মনোনয়নপত্র বাতিলের সিদ্ধান্ত বহাল রাখা হয়। ইসির এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে তিনটি রিট করেন তিনি। ওই রিটের শুনানি নিয়ে গতকাল বেঞ্চের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ রিটার্নিং অফিসার ও ইসির সিদ্ধান্ত স্থগিত করে খালেদা জিয়ার মনোনয়নপত্র গ্রহণ করে তাকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগদানের নির্দেশ দেন। তবে কনিষ্ঠ বিচারপতি মোঃ ইকবাল কবির এই আদেশের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে রিট আবেদনগুলো খারিজ করে দেন।
বেঞ্চের এই দ্বিধাবিভক্ত আদেশের পর অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম সাংবাদিকদের বলেন, যেহেতু দু’জন বিচারপতি ঐক্যমতে পৌঁছতে পারেননি সেজন্য এখন বিষয়টি প্রধান বিচারপতির কাছে যাবে। অর্থাত্ রিট আবেদনকারী এখন পর্যন্ত কোনো আদেশপ্রাপ্ত হননি। তিনি বলেন, অন্যূন দুই বছর বা এর বেশি দণ্ডপ্রাপ্ত হলে কেউ নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না-এটা মীমাংসিত বিষয়। সংবিধানের ৬৬(২)(ঘ) অনুচ্ছেদে বিষয়টি পরিষ্কারভাবে উল্লেখ করে দেওয়া হয়েছে। এ কারণে শুরু থেকে আমি বলে আসছি আদালত এমন কোনো আদেশ দিতে পারে না যাতে সংবিধানের একটি বিধান অকার্যকর হয়ে যায়।
খালেদা জিয়ার আইনজীবী বিএনপির আইন বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, নির্বাচন কমিশন শুরু থেকেই পক্ষপাতিত্ব করে ঠুঁটো জগন্নাথে পরিণত হয়েছে। আমরা ন্যায়বিচারের জন্য উচ্চ আদালতে এসেছিলাম। কিন্তু একটি বেঞ্চ বিভক্ত আদেশ দিয়েছে। আশা করছি হাইকোর্টের তৃতীয় বেঞ্চে ন্যায় বিচার পাব।
প্রসঙ্গত জিয়া অরফানেজ ও চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় দণ্ডিত হয়েছেন খালেদা জিয়া। অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় হাইকোর্ট পাঁচ বছরের পরিবর্তে তাকে দশ বছর এবং নিম্ন আদালত চ্যারিটেবল মামলায় সাত বছরের দণ্ড দেয়। এই দণ্ডের বিরুদ্ধে তিনি সুপ্রিম কোর্টে আপিল দায়ের করেছেন। যদিও এসব আপিল শুনানির জন্য সুপ্রিম কোর্টের কোনো বেঞ্চে উত্থাপন করেনি তার আইনজীবীরা।
