মনোযোগ এখন দ্রুত চামড়ার আন্তর্জাতিক সনদ অর্জনে

আপডেট : ০৮ অক্টোবর ২০১৯, ২১:০৭

ইউরোপ ও আমেরিকায় চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে লেদার ওয়ার্কিং গ্রুপ (এলডব্লিউজি) নামে আন্তর্জাতিক মান সনদের প্রয়োজন হয়। বাংলাদেশে সাভারে অবস্থিত চামড়া শিল্পনগরীর চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণ কার্যক্রম পরিবেশবান্ধব না হওয়ার কারণে এ সনদ এখনো পাওয়া যায়নি। ফলে ইউরোপে এখানকার চামড়াজাত পণ্য রপ্তানি আটকে গেছে। এ কারণে চামড়া রপ্তানিতে ধস নেমেছে। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে সাভারে কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগারের (সিইটিপি) নির্মাণকাজ সম্পন্ন করতে চায় সরকার। একই সঙ্গে অন্যান্য বর্জ্য ব্যবস্থাপনায়ও শৃঙ্খলা আনতে চায়। এর পর এলডব্লিউজির নিরীক্ষকদের আসার আমন্ত্রণ জানানো এবং আগামী বছরের মধ্যে এই সনদ অর্জন করতে চায় বাংলাদেশ। গতকাল মঙ্গলবার সাভারের হেমায়েতপুরের হরিণধরা এলাকায় চামড়া শিল্পনগরী সিইটিপি প্রকল্পের সার্বিক বাস্তবায়ন অগ্রগতি পর্যালোচনা সভায় এসব সিদ্ধান্ত হয়। শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন এতে সভাপতিত্ব করেন। সভায় প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারির শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান ফজলুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট পক্ষের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় সিদ্ধান্ত হয়, যেসব শিল্পমালিক প্লট বরাদ্দ পাওয়ার পরও শিল্প স্থাপন করেন নি, সেসব প্লট বাতিল করে সেখানে বাইপ্রোডাক্টের শিল্প স্থাপন করা হবে। সালমান ফজলুর রহমান বলেন, সিইটিপি সমস্যা দীর্ঘদিনের হলেও আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে এ সমস্যা সমাধান হয়ে যাবে। এটি সমাধানে আমাদের অনেক দেরি হয়ে গেছে। আমরা সিইটিপির বিষয়ে এর নির্মাণ সংস্থাকে কিছু পরামর্শ দিয়েছি। আরো ছয় সপ্তাহ পর আমরা এখানে এসে কাজের অগ্রগতি পরিদর্শন করব এবং আজকে যে সিদ্ধান্তগুলো নেওয়া হয়েছে তা কতটুকু বাস্তবায়ন হয়েছে তা সরেজমিনে দেখব। কঠিন বর্জ্যকে পণ্যে রূপান্তরিত করা শুরু হলে আমাদের ৯০ ভাগ সমস্যা কমে আসবে জানিয়ে তিনি বলেন, এ বিষয়ে যারা আগ্রহী তাদের কাছ থেকে আবেদন চেয়ে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হবে। এরপরও যদি ট্যানারির মালিকরা কঠিন বর্জ্য বা ক্রোম পাইপ লাইনের মাধ্যমে নদীতে ফেলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং ট্যানারি বন্ধ করে দেওয়া হবে।

সভায় এলডব্লিউজি সনদ অর্জনের লক্ষ্যে এখন থেকে মক অডিট পরিচালনার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এ অডিটের ফলাফলের ভিত্তিতে বিভিন্ন সূচকে ধারাবাহিক গুণগত পরিবর্তনের জন্য সময়াবদ্ধ কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের নির্দেশনা দেওয়া হয়।

সভায় জানানো হয়, ইতিমধ্যে সিইটিপির নির্মাণকাজ শতকরা ৯৮ ভাগ সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে সিইটিপির ৪টি মডিউল চালু রয়েছে এবং এগুলো বর্জ্য পরিশোধনের কাজ করছে। সিইটিপির কার্যক্রম শতভাগ সম্পন্ন করার জন্য যন্ত্রপাতিসহ আমদানিযোগ্য মালামাল ইতিমধ্যে প্রকল্প এলাকায় পৌঁছেছে। বর্তমানে এগুলো স্থাপনের কাজ চলছে। সিইটিপির ডি-ওয়াটারিং হাউজের নয়টি ইউনিটের মধ্যে তিনটি ইউনিটের কাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং এগুলোতে শ্লাজ কেক তৈরি হচ্ছে। বাকি ছয়টি ইউনিটের কাজ ২৫ অক্টোবরের মধ্যে শেষ হবে।

এমপি, শিল্পসচিব মো. আবদুল হালিম, বিসিক চেয়ারম্যান মো. মোশ্তাক হাসান ছাড়াও ট্যানারি মালিকদের বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রসঙ্গত, গত কয়েক বছর ধরেই সাভারের এই ট্যানারি আলোচনায় রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এ প্রকল্পের কার্যক্রম চললেও তা যথাযথভাবে সম্পন্ন করা যায়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব কারণে রপ্তানি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে দেশে স্থানীয়ভাবে কাঁচা চামড়ার যথাযথ মূল্যও পাওয়া যাচ্ছে না।