বাংলাদেশে সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন দেখতে চায় যুক্তরাষ্ট্র --------রাষ্ট্রদূত মিলার

আপডেট : ১১ ডিসেম্বর ২০১৮, ২২:১৬

যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত আর্ল রবার্ট মিলার বলেছেন, বাংলাদেশে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের প্রত্যাশা করে যুক্তরাষ্ট্র। গতকাল মঙ্গলবার প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদার সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মার্কিন রাষ্ট্রদূত তার দেশের এ অবস্থানের কথা জানান। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র কোনো নির্দিষ্ট দল বা প্রার্থীকে সমর্থন করে না। গণতন্ত্রের প্রক্রিয়াকে সমর্থন করে এবং বাংলাদেশের মানুষের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে সমর্থন করে। নির্বাচনে শান্তিপূর্ণ প্রচারণার পাশাপাশি সব রাজনৈতিক দলের অবাধ অংশগ্রহণের সুযোগও দেখতে চায় যুক্তরাষ্ট্র।

গত মাসে দায়িত্ব নেওয়ার পর গতকাল প্রথম নির্বাচন কমিশনে যান রাষ্ট্রদূত মিলার। সেখানে প্রায় এক ঘণ্টা সিইসির সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকের বিষয়ে সাংবাদিকরা জানতে চাইলে তিনি বলেন, জাতীয় নির্বাচন নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আমরা বলেছি, সব দল যেন অবাধে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার এবং রাজনীতি করার সুযোগ পায়। তারা যেন শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচনী প্রচারণা চালাতে এবং সভা-সমাবেশ করতে পারে।

মার্কিন রাষ্ট্রদূত মিলার বলেন, বিতর্কের মধ্য দিয়ে গণতন্ত্র শক্তিশালী ও বিকশিত হয়। গণমাধ্যম ও বিরোধী দলগুলো যেন তাদের মতামত প্রকাশ করতে পারে। রাজনৈতিক দল হোক, আর সে যে-ই হোক, সবাই যেন শান্তিপূর্ণ আচরণ করে। সবাই যেন সহিংসতা থেকে দূরে থাকে। কেননা সহিংসতা গণতন্ত্রের পথে বড় অন্তরায়। যারা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না, সহিংসতা শুধু তাদের উদ্দেশ্য পূর্ণ করে।

নির্বাচনের প্রসঙ্গে রবার্ট মিলার বলেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১০ কোটি ৪০ লাখ বাংলাদেশি অংশ নেবেন। আমরা সবাই এই নির্বাচনের দিকে তাকিয়ে আছি। বাংলাদেশ সরকারের প্রতিশ্রুতি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করার বিষয়টিকে যুক্তরাষ্ট্র উত্সাহিত করে। আসন্ন নির্বাচনে বড় সংখ্যক পর্যবেক্ষক নিয়োজিত করতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। রাষ্ট্রদূত জানান, ন্যাশনাল ডেমোক্র্যাটিক ইনস্টিটিউট (এনডিআই) যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচন পর্যবেক্ষণ টিমকে সহায়তা করবে। তারা পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট একটি প্রাক মূল্যায়ন দল অক্টোবরে পাঠিয়েছিল। পরবর্তীতে ডিসেম্বরে এরকম আরো একটি দল পাঠায়। এনডিআইর অংশীদার ‘দি এশিয়ান নেটওয়ার্ক ফর ফ্রি ইলেকশন’, তারা দুজন আন্তর্জাতিক নির্বাচন বিশেষজ্ঞ নিয়োজিত করেছে এবং স্বল্পমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি ইলেকশন পর্যবেক্ষকও পাঠাবে। তিনি আরো জানান, মার্কিন দূতাবাস পৃথক পর্যবেক্ষক দল নিয়োগ করবে। যুক্তরাজ্য ও সুইজারল্যান্ডের সহযোগিতায় তারা ১৫ হাজার স্থানীয় পর্যবেক্ষককে নির্বাচন পর্যবেক্ষণে অর্থায়ন করবে।