নার্সদের পদোন্নতি নিয়ে বিড়ম্বনা আর কতদিন

আপডেট : ০৮ অক্টোবর ২০১৯, ২২:০২

নার্সদের পদোন্নতি নিয়ে বিড়ম্বনা কাটছে না। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০০৯ সালে এন্ট্রি পয়েন্টে নার্সদের দ্বিতীয় শ্রেণির পদমর্যাদায় উন্নীত করেন। একই সময় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ নার্সিং ইনস্টিটিউটসহ আটটি নার্সিং ইনস্টিটিউটকে কলেজে রূপান্তরিত করেন। এছাড়া রয়েছে ৪৩টি নার্সিং ইনস্টিটিউট। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নার্সিং পেশার মান আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে নিয়ে যাওয়ার জন্য বিভিন্ন ধরনের নির্দেশনাও দিয়েছেন। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা করার পরও নার্সিং কলেজে অধ্যক্ষসহ শিক্ষকদের পদ সৃষ্টি করা হয়নি। একই অবস্থায় নার্সিং ইনস্টিটিউটগুলোতে দেশ-বিদেশে উচ্চতর ডিগ্রিধারী সহস্রাধিক নার্স রয়েছেন। যারা নিয়মিত পদোন্নতি পেলে ডিজি পর্যন্ত পদোন্নতি হতো। কিন্তু কলেজগুলোতে তারা নিজ বেতনে শিক্ষকতা করছেন। ইনস্টিটিউটগুলোতেও একই অবস্থা। এই পদগুলো সৃষ্টি না হওয়া এবং নার্সদের পদোন্নতি নিয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। এ নিয়ে বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায়ও লেখালেখি হয়। বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ হলে তিনি সাবেক মুখ্য সচিব আবুল কালাম আজাদকে নার্সদের পদোন্নতি ও পদ সৃষ্টির বিষয়টি দ্রুত নিরসনের নির্দেশনা দেন। ঐ সময়ের মুখ্য সচিব আবুল কালাম আজাদের সভাপতিত্বে আন্তঃমন্ত্রণালয়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে দুই মাসের মধ্যে নার্সদের পদোন্নতি ও কলেজের পদ সৃষ্টি দুই মাসের মধ্যে সম্পন্ন করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। কিন্তু অধিদপ্তরের কিছুসংখ্যক পদ পূরণ করা হলেও বিষয়টি সীমিত। এ নিয়ে নার্সদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। 

উল্লেখিত বিষয়টি সমাধানের ক্ষেত্রে ফাইল স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় পাঠায় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় আবার অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠায়। এভাবে কেটে গেছে অনেক সময়। শেষ পর্যন্ত দুই শতাধিক নার্সকে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। তবে তা খুবই সীমিত। এমন পরিপ্রেক্ষিতে নার্সিং পেশা ও সেবার মান উন্নয়ন নিয়ে আজ বুধবার আলোচনা সভার আয়োজন করেছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব আসাদুল ইসলামের সভাপতিত্বে এটি কলেজ অব নার্সিং একাডেমিক ভবনে অনুষ্ঠিত হবে। এতে বিভিন্ন নার্সিং কলেজের অধ্যক্ষ, নার্সিং সেবা কর্মকর্তা ও নার্সিং সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থাকবেন। এদিকে এ সভার আহ্বানকে স্বাগত জানিয়েছেন বঙ্গবন্ধু নার্সেস পরিষদের সভাপতি ও বাংলাদেশ নার্সেস অ্যাসোসিয়েশন (বিএনএ) ঢাকা মেডিক্যাল হাসপাতাল শাখার সভাপতি মোহাম্মদ কামাল হোসেন পাটোয়ারী, বঙ্গবন্ধু নার্সেস পরিষদের সভাপতি মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান জুয়েল ও স্বাধীনতা নার্সেস পরিষদের মহাসচিব মো. ইকবাল হোসেন সবুজ। এই সভা আহ্বান করায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী মো. জাহিদ মালেক স্বপন, স্বাস্থ্য সচিব আসাদুল ইসলাম, নার্সিং অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক ও অতিরিক্ত সচিব (নার্সিং) মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।