ময়মনসিংহ-২ ( ফুলপুর-তারাকান্দা) আসনে রাজনৈতিক উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে পৌরশহরের বাসস্ট্যান্ড এলাকায় আওয়ামীলীগ ও বিএনপি ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এ সময় ইটপাটকেল ও লাঠির আঘাতে পথচারীসহ দুই দলের অন্তত ১০জন আহত হয়েছে। এ সময় ভাঙচুর হয়েছে ৬/৭ টি মোটরসাইকেল।
এ সময় অতঙ্কে দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়। ঢাকা-হালুয়াঘাট ও ঢাকা-শেরপুর মহাসড়কে প্রায় আধঘণ্টা যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকে। পরিস্থিতি মোকাবেলায় পুলিশ টহল জোরদার করা হয়েছে।
এ খবর তারাকান্দায় পৌঁছালে সেখানেও আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীরা জড়ো হয় বিএনপি অফিসে হামলা চালায়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শেরপুর মোড়ে ভাষাসৈনিক শামছুল হক চত্বরে প্রথমে ছাত্রলীগের কর্মীরা বিএনপির মিছিলে হামলা চালালে ঘটনার সূত্রপাত ঘটে। পরে বিএনপির নেতা-কর্মীরা একত্রিত হয়ে পাল্টা হামলা চালিয়ে তাদের হটিয়ে দেয়। তারা শিক্ষক সমিতি কার্যালয়ের সামনে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের ৬/৭ টি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে। পরে বিএনপির নেতা-কর্মীরা বাসস্ট্যান্ডে অবস্থান নিয়ে ধানের শীষের স্লোগান দিতে থাকে।
সন্ধ্যা ৬ টার দিকে দলে দলে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা পৌরশহরে এসে বিএনপির নেতা-কর্মীদের হটানোর জন্য জড়ো হয়। তার আগেই বিএনপি নেতা-কর্মীরা সটকে পড়ে। দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে তারাকান্দা থেকে দুই ট্রাক আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী পৌঁছালে শহরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। লোকজন দিগ্বিদিক ছুটাছুটি শুরু করে।
গুরুতর আহতরা হয়েছে যুবলীগ নেতা সবুজ ( ৩৫), মিলন(৩৫) আওয়ামী লীগ সমর্থক সাবেক ইউপি সদস্য মোশাররফ হোসেন (৫০), বিএনপি সমর্থক মোস্তফা কামাল খান (৪০), পথচারী পাপ্পু (২২) ও পুলিশের কথিত সোর্স ছাত্তার(৩০)। তাকে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
বিএনপির মনোনীত প্রার্থী সাবেক এমপি শাহ্ শহীদ সারোয়ার ইত্তেফাককে বলেন, 'আমাদের শান্তিপূর্ণ মিছিলে হামলা চালিয়েছে আওয়ামী লীগ। এতে কয়েকজন আহত হয়েছেন। তাদের চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। পরে তাদের প্রতিহত করতে জড়ো হয় বিএনপি নেতা-কর্মীরা।'
আরও পড়ুনঃ রাজশাহীতে বিএনপি অফিসে ভাঙচুর
আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী শরীফ আহমেদ এমপি ইত্তেফাককে বলেন, 'নৌকা প্রতীকের গণজোয়ার দেখে যুগলীগের বর্ধিত সভা শেষে বিএনপির নেতা-কর্মীরা হামলা চালিয়েছে। খবর পেয়ে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা এলে তারা পালিয়ে যায়।'
ইত্তেফাক/নূহু
