আশুলিয়া ও গাজীপুরে শ্রমিক অসন্তোষ, ২৮ কারখানায় ছুটি ঘোষণা

আপডেট : ১২ ডিসেম্বর ২০১৮, ০০:০৪

উসকানির অভিযোগে আটক ৪

আমাদের

কারখানার শ্রমিকরা প্রতিদিনের মতো সকালে কাজে যোগ দিয়েছিল। কিন্তু আশ-পাশের বেশ কয়েকটি কারখানার শ্রমিক সকালে তাদের কারখানার সামনে জড়ো হয়ে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে ভাঙচুর চালায়

 

 ইত্তেফাক ডেস্ক

সদ্য ঘোষিত মজুরি কাঠামোতে বৈষম্যের অভিযোগ তুলে গতকাল টানা তৃতীয় দিনের মত সাভার উপজেলার আশুলিয়ায় বিভিন্ন কারখানায় বিক্ষোভ করে তৈরি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা। শ্রমিক বিক্ষোভের মুখে এখন পর্যন্ত ২০টি কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। এদিকে শ্রমিক বিক্ষোভে উসকানির অভিযোগে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য এক ঝুট ব্যবসায়ীসহ চার জনকে আটক করেছে পুলিশ। অন্যদিকে গাজীপুরে বেতন বৃদ্ধির দাবিতে মঙ্গলবার সকালে গাজীপুরে কয়েকটি কারখানায় শ্রমিক অসন্তোষ দেখা দেয়। শ্রমিকরা কর্মবিরতি ও মিছিল করে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে নেমে আসলে যানবাহন চলাচল বিঘ্নিত হয় এবং দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। পুলিশ গিয়ে প্রায় দেড় ঘণ্টার চেষ্টার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। পরে কর্তৃপক্ষ ৮টি পোশাক কারখানা মঙ্গলবারের জন্য ছুটি ঘোষণা করে। 

স্টাফ রিপোর্টার জানান, শিল্প পুলিশ, শ্রমিক ও কারখানা কর্তৃপক্ষ জানায়, মঙ্গলবার সকাল থেকে জিরাবো ও কাঠগড়া এলাকার বেশ কিছু কারখানার শ্রমিক মজুরি বৈষম্যের অভিযোগ তুলে তৃতীয় দিনের মতো কর্মবিরতিসহ বিক্ষোভ করতে থাকে। এসময় উত্তেজিত শ্রমিকরা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে বেশ কিছু কারখানায় ভাঙচুর করলে পুলিশ বাধা প্রদান করে। এসময় উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া হলে শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ লাঠিচার্জ করে। পরে শ্রমিকরা ছত্রভঙ্গ হয়ে গেলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

কাঠগড়া এলাকার পিকার্ড বাংলাদেশ লিমিটেড কারখানার ম্যানেজার (অ্যাডমিন) গাজী শফিকুর রহমান জানান, আমাদের কারখানার শ্রমিকরা প্রতিদিনের মতো সকালে কাজে যোগ দিয়েছিল। কিন্তু আশ-পাশের বেশ কয়েকটি কারখানার শ্রমিকরা সকালে তাদের কারখানার সামনে জড়ো হয়ে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে ভাঙচুর চালায়। এ সময় কারখানার প্রধান ফটকেও ভাঙচুর চালানো হয়। এতে শ্রমিকরা আতঙ্কিত হয়ে পড়লে কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়। আশুলিয়া শিল্প পুলিশ-১ এর পরিদর্শক মাহবুবুর রহমান বলেন, বিক্ষোভের ঘটনায় উসকানির অভিযোগে এক ঝুট ব্যবসায়ীসহ ৪ জনকে আটক করা হয়েছে।

গাজীপুর প্রতিনিধি জানান, গাজীপুর মেট্রোপলিটনের গাছা থানার ওসি মো. ইসমাইল হোসেন বলেন, বেতন কাঠামোয় বেতন বাড়ানোর দাবিতে মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে স্থানীয় ইস্ট-ওয়েস্ট পোশাক কারখানার শ্রমিকরা কর্মবিরতি শুরু করে। এক পর্যায়ে তারা বিক্ষোভ শুরু করে এবং কারখানা থেকে বের হয়ে পাশের ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে অবস্থান নেয়। কিছু শ্রমিক আশেপাশের কারখানায় গিয়ে তাদের আন্দোলনে শরিক হওয়ার আহ্বান জানায়। এসময় ম্যাট্রিক্স, প্রীতি, ব্যান্ডো, ক্রিয়েটিভসহ ৮টির মতো পোশাক কারখানার কয়েক হাজার শ্রমিক তাদের ডাকে সাড়া দিয়ে রাস্তায় নেমে আসে। পরে থানা পুলিশ ও শিল্প পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করলে সাড়ে ১১টার দিকে যানবাহন চলাচল শুরু হয়।

এ ব্যাপারে ইস্ট-ওয়েস্ট পোশাক কারখানার ব্যবস্থাপক (প্রশাসন) শামীম আহমেদ জানান, কারখানার কিছু শ্রমিক তাদের বেতন- ভাতা বাড়ানোর দাবি জানিয়ে সকালে বিক্ষোভ করে। পরে তারা কারখানা থেকে বের হয়ে অন্য কারখানাগুলো থেকে শ্রমিক নিয়ে রাস্তা অবরোধ করে। কারখানার নিরাপত্তার স্বার্থে মঙ্গলবারের জন্য কর্তৃপক্ষ কারখানা ছুটি ঘোষণা করে। এদিকে প্রীতি সোয়েটার কারখানার সুইং অপারেটর লাভলী আক্তার জানান, সরকার তাদের যে বেতন বাড়িয়েছে তা দিয়ে সংসার চলে না। তাই বেতন  ন্যূনতম ১০ হাজার টাকা করার দাবিতে তারা আন্দোলন করছেন। অপরদিকে কালিয়াকৈর থানার মৌচাক পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক মো. রফিকুল ইসলাম জানান, একই দাবিতে মঙ্গলবার সকাল ১১টার দিকে কালিয়াকৈর উপজেলার মৌচাক এলাকায় নীট প্লাস ও জেনারেল ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড নামের কারখানায় শ্রমিক অসন্তোষ দেখা দেয়। পরে শ্রমিকরা পাশের ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে অবরোধের চেষ্টা করলে তাদের বুঝিয়ে সরিয়ে দেওয়া হয় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা হয়।