স্টাফ রিপোর্টার, রংপুর
রংপুর মহানগরীর অধিকাংশ এলাকাতে এখনো বিদ্যুত্ সঞ্চালন কাজে বাঁশের খুঁটি ব্যবহার করা হচ্ছে। মূল শহর থেকে একটু দূরে গেলেই চোখে পড়বে অহরহ বাঁশের খুঁটি। ঘরবাড়ি, বসতি থেকে শুরু করে রাস্তার ধারে, পুকুর পাড়ে, কৃষি জমিতে একেকটি বাঁশের খুঁটির সঙ্গে ঝুলছে অসংখ্য বিদ্যুত্ সঞ্চালন লাইন। আবার কোথাও কোথাও বাঁশের খুঁটি ভেঙে গিয়ে বিদ্যুতের তার (লাইন) মাটিতে পড়ে রয়েছে। এতে করে বাড়ছে দুর্ঘটনার আশঙ্কা। মহানগরীর পূর্ব পীরজাবাদ, বাহার কাছনা, সিগারেট কোম্পানি, দেওডোবা বড়বাড়ী এলাকাতে ঝুঁকিপূর্ণ হলেও নিয়মবহির্ভূতভাবে বিদ্যুত্ সঞ্চালন লাইনে বাঁশের খুঁটির ব্যবহার করতে দেখা গেছে।
নগরীর দেওডোবা ডাঙ্গীরপাড়া এলাকার বাসিন্দা রাহেল মিয়া বলেন, ‘বিদ্যুতের খুঁটি নেওয়ার জন্য এখন পর্যন্ত কয়েক দফা টাকা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত বিদ্যুতের খুঁটি আসেনি। বাধ্য হয়ে বাঁশের খুঁটি দিয়ে বাসাবাড়িতে বিদ্যুতের সংযোগ নিয়েছি।
টাকা দিয়েও খুঁটি মিলছে না বলে অভিযোগ করেন পীরজাবাদ এলাকার মোখলেছুর রহমান। তিনি জানান, প্রতিটি খুঁটির জন্য বিদ্যুত্ বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ৬ হাজার করে টাকা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত খুঁটির ব্যবস্থা হয়নি। মারাত্মক ঝুঁকি নিয়ে এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে হয়। বাঁশের খুঁটি ভেঙে গিয়ে বিদ্যুতের তার জমিতে পড়ে রয়েছে। বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার জানানো হয়েছে।
নগরীর হারাগাছ রোড বাহার কাছনা তকেয়ারপাড় এলাকার শামছুল মিয়া জানান, কৃষি জমি দিয়ে চলাচল করা ঝুঁকিপূর্ণ। বেশ কিছু জায়গাতে বিদ্যুত্ সংযোগে ব্যবহার করা বাঁশের খুঁটিগুলো ভেঙে গেছে। অনেক তার মাটিতে পড়ে রয়েছে। এভাবেই মাসের পর মাস পার হচ্ছে। এখনো যে যার মতো বাঁশের খুঁটি পুঁতে মূললাইন থেকে বিদ্যুতের সংযোগ নিচ্ছে। বিদ্যুত্ বিভাগের লোকজন এসে মাঝে মাঝে টাকা পয়সাও নিয়ে যান।
বিদ্যুত্ বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ নেসকো-২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শরিফুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, বাঁশের খুঁটিতে বিদ্যুতের সংযোগ সম্পূর্ণ অবৈধ। এটির কোনো নিয়ম নেই। বিষয়টি তদন্ত করে চলমান প্রজেক্টে ঐসব এলাকাতে বিদ্যুতের খুঁটি স্থাপন করা হবে। খুঁটি বসানোর জন্য টাকা নেওয়া প্রসঙ্গে এই কর্মকর্তা বলেন, এটি আমার জানা নেই। তবে কোনো লিখিত অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্তসাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
