দেশে ৪০ ভাগ মানুষের স্বাভাবিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা হলেও ৫০ ভাগ মানুষ গুণগত সেবা পাচ্ছে না। অথচ আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে সবার জন্য স্বাস্থ্য সুরক্ষা অর্জনের মাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্বাস্থ্য অর্থনীতি ও স্বাস্থ্য সুরক্ষা বিষয়ে চিকিত্সাসেবা নিশ্চিতের জন্য সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা দরকার। তা না হওয়ায় দেশের সব শ্রেণির মানুষ চিকিত্সা সেবা পাওয়ার জন্য অতিরিক্ত অর্থ খরচ করতে বাধ্য হচ্ছে। যা দেশের বিভিন্ন প্রান্তের স্বাস্থ্যসেবার মান এই অতিরিক্ত অর্থ খরচের তুলনায় অসন্তোষজনক।
এ পরিস্থিতিতে আজ ১২ ডিসেম্বর পালিত হবে ‘সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা দিবস’। এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে- ‘ইউনিটি ফর ইউএইচসি : নাও ইন দ্যা টাইম ফর কালেক্টিভ একশন’। এ উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইন্সটিটিউটসহ বিভিন্ন সংগঠন বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছে। স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইন্সটিটিউট সকালে শোভাযাত্রা ও আলোচনা সভার আয়োজন করে।
স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইন্সটিটিউটের পরিচালক ড. সৈয়দ আব্দুল হামিদ বলেন, গুণগত স্বাস্থ্যসেবা পেতে হলে হেলথ সিস্টেমে পরিবর্তন আনতে হবে। এখন যে পদ্ধতি আছে সেখানে টাকা ঢেলেও কাজ হবে না। এ বছরের বরাদ্দ ২৩ হাজার ৩০০ কোটি টাকা থেকে আরো টাকা বাঁচানো সম্ভব যদি পদ্ধতিগত পরিবর্তন আসে। তাই দরকার সংস্কার ।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সাবেক পরিচালক (স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিট) মো. আসাদুল ইসলাম বলেন, ইউনিভার্সাল হেলথ কাভারেজ (ইউএইচসি) প্রাথমিক পর্যায়ে থাকলেও তারা এটি নিয়ে কাজ করছে। এটির মাধ্যমে ৫ বছরে ৪০ ভাগ মানুষকে সর্বজনীন সেবা দেয়া হয়েছে। তাই কিভাবে চিকিত্সা সেবা ক্রয় করা যায় সেটাকে গুরুত্ব দিতে হবে। আবার এটার জন্য ওষুধ, টিকা, সার্ভিস ডেলিভারি, সেবাদাতার কোয়ালিটি দেখতে হবে। কারণ সরকারের বাজেট বাড়লেও সেবার সুযোগ বাড়ছে না। এছাড়া ব্যক্তিগত চিকিত্সা ব্যয় কমানোর জন্য এটির রিসোর্স বৃদ্ধি, পলিসি তৈরি, পছন্দ, পরামর্শ, সিদ্ধান্ত, চুক্তি ও সময় নির্ধারণ দরকার।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিটের ইনচার্জ ও পরিচালক মো. নুরুজ্জমান বলেন, সারাদেশে সরকারি-বেসরকারি ও ব্যক্তিগতভাবে মানুষ কতটুকু স্বাস্থ্যসেবা পাচ্ছে, সেবার মান কেমন ও অর্থনৈতিক সুবিধাটাই হলো ইউনিভার্সাল হেলথ কাভারেজ বা সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা। তাছাড়া কোন ব্যক্তির মোট আয়ের ২৫ শতাংশ চিকিত্সা বাবদ ব্যয় হলে সে চিকিত্সা বিবর্জিত আছে। পাশাপাশি চিকিত্সার জন্য যদি প্রতিমাসের আয়ের ৪০ শতাংশ খরচ হয় তবে সে আর্থিক বিপর্যয়ের মধ্যে আছে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে কতটুকু সেবা পাচ্ছে।
