পদ্মায় প্রবল স্রোত ও নদীভাঙনের ফলে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুটে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে ফেরি ও লঞ্চ চলাচল। এ রুটে গত পাঁচ দিন ধরে লঞ্চ চলাচল বন্ধ রয়েছে, ফেরি চলছে সীমিত আকারে। অন্যদিকে তীব্র স্রোত ও নাব্য সংকটে গত কয়েক দিন ধরে শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ী নৌরুটে ফেরি চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। এতে উভয় নৌরুটে শত শত যানবাহন আটকা পড়েছে। যাত্রী দুর্ভোগ চরমে। এ বিষয়ে ইত্তেফাক প্রতিনিধি ও সংবাদদাতাদের পাঠানো খবর।
মানিকগঞ্জ :পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুটে পাঁচ দিনেও চালু হয়নি লঞ্চ চলাচল। ফেরি চলছে সীমিত আকারে। তাও যে কোনো সময় বন্ধ হয়ে যেতে পারে। পদ্মায় প্রবল স্রোত ও নদীভাঙনের কারণে এ অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছে ফেরি কর্তৃপক্ষ। এক সপ্তাহ ধরে ফেরি চলাচল ব্যাহত হওয়ায় দুই পাড়েই যানবাহনের দীর্ঘ সারি এবং যাত্রী দুর্ভোগ লেগেই আছে। এদিকে নদীভাঙন অব্যাহত থাকায় দৌলতদিয়া ঘাট এলাকায় ১ ও ২ নম্বর ঘাটের মাঝে প্রায় ৩০০ মিটার এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এতে এ দুইটি ঘাট দিয়ে ফেরি লোড-আনলোড বন্ধ রয়েছে। ফলে রাজধানী ঢাকার সঙ্গে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। চরম বিপাকে পড়েছে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের যানবাহন শ্রমিক ও যাত্রীরা।
বিআইডব্লিউটিসি সূত্রে জানা গেছে, পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুটে চলাচলরত ছোটো-বড়ো মোট ১৬টি ফেরি রয়েছে। হঠাত্ করে পদ্মায় পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে স্রোতও বাড়তে থাকে। এতে গত ২২ সেপ্টেম্বর থেকে স্বাভাবিক ফেরি চলাচল ব্যাহত হয়। তীব্র সে াতের কারণে দৌলতদিয়ায় ছয়টি ফেরি ঘাটের মধ্যে গত শুক্রবার থেকে শনিবারের মধ্যে ১ ও ২ নম্বর ফেরি ঘাটের অ্যাপ্রোচ রোড নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। বাকি চারটি ঘাটও ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।
এদিকে একদিকে লঞ্চ চলাচল বন্ধ ও অপরদিকে ফেরি চলাচল ব্যাহত হওয়া যাত্রী ও যানবাহন শ্রমিকদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এতে ঘাট এলাকাসহ ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে পণ্যবোঝাই ট্রাকের দীর্ঘ সারি তৈরি রয়েছে। মানিকগঞ্জ জেলা পুলিশ ফেরিঘাট এলাকা যানজটমুক্ত রাখতে গাড়িগুলোকে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের উথলী সংযোগ মোড়ে আটকিয়ে আরিচার দিকে রাস্তার ওপর সারি করে রাখছে।
বিআইডব্লিউটিএর সহকারী পরিচালক ফরিদুল ইসলাম বলেন, দৌলতদিয়া লঞ্চঘাটের কাছে পানির ঘূর্ণ সে াতের সৃষ্টি হওয়ায় লঞ্চগুলো পন্টুনে ভিড়তে পারছে না। এমতাবস্থায় যে কোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এ দুর্ঘটনা এড়াতেই লঞ্চ চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। গতকাল দুপুর ৩টায় চালু করা হলেও সন্ধ্যায় তা পুনরায় বন্ধ করা হয়।
মুন্সীগঞ্জ :পদ্মায় তীব্র স্রোত ও নাব্যতা সংকটে গত কয়েক দিন ধরে শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ী নৌরুটে ফেরি চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। ১৬টি ফেরির মধ্যে চলছে মাত্র ৫টি ফেরি। আর চলাচলকারী ফেরিগুলোর গন্তব্যে পৌঁছতে নির্দিষ্ট সময়ের বেশি সময় লাগছে। যে কারণে দক্ষিণাঞ্চলের প্রবেশদ্বার শিমুলিয়া ঘাটে পারাপারের অপেক্ষায় রয়েছে অর্ধ সহস াধিক যানবাহন। এর মধ্যে পণ্যবাহী ট্রাকের সংখ্যাই বেশি।
বিআইডব্লিউটিসির শিমুলিয়া ঘাটের উপমহাব্যবস্থাপক (এজিএম) নাসির মোহাম্মদ চৌধুরী বলেন, পদ্মায় তীব্র স্রোত ও নাব্য সংকটের কারণে মঙ্গলবার রাত ৮টা থেকে পুরোপুরি ফেরি সার্ভিস বন্ধ রাখা হয়। বুধবার সকাল ৬টা থেকে ছোটো আকারের ‘ফেরি ফরিদপুর’, ‘ফেরি কুমিল্লা’ ও মাঝারি আকারের ‘ফেরি ক্যামেলিয়া’ দিয়ে পারাপার শুরু হয়। পরবর্তীতে দুপুরের দিকে রোরো ফেরি শাহ মখদুম এবং রো-রো ফেরি বীর শ্রেষ্ঠ জাহাঙ্গীর দিয়ে পারাপার চলে। তবে ড্রেজিং চললেও অবস্থার উন্নতি হচ্ছে না। তাই দুর্ভোগ লেগেই আছে।
মাওয়া নৌ ফাঁড়ির ইনচার্জ আমিনুল ইসলাম জানান, ঘাটে যানবাহনের দীর্ঘলাইনের কারণে নানা সমস্যা হচ্ছে। তবে সিরিয়াল ঠিক রাখা হয়েছে। এই লাইন টার্মিনাল ছাপিয়ে মহাসড়কে চলে গেছে।
শিবচর (মাদারীপুর) :পদ্মা নদীতে পানি কমলেও তীব্র সে াতের কারণে কাঁঠালবাড়ী-শিমুলিয়া নৌরুটে গত সোমবার রাত নয়টা থেকে ফেরি চলাচল বন্ধ রাখে কর্তৃপক্ষ। এদিকে ফেরি বন্ধ থাকায় পারাপারের অপেক্ষায় উভয়পাড়ে যানবাহন আটকে পড়ে যাত্রী ও পরিবহন শ্রমিকদের দুর্ভোগ বেড়েছে। এ নৌরুট বন্ধ থাকায় যাত্রী ও যানবাহনগুলোকে বিকল্প নৌরুট ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছে বিআইডব্লিউটিসি।
বিআইডব্লিউটিসির কাঁঠালবাড়ী ঘাটের ব্যবস্থাপক আব্দুস সালাম মিয়া বলেন, কাঁঠালবাড়ী-শিমুলিয়া নৌরুটে চারটি রো-রোসহ মোট ১৮টি ফেরি থাকলেও সংকটের কারণে মাঝে মাঝেই চলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি দীর্ঘসময় বন্ধ থাকছে ফেরি চলাচল। ফলে দুর্ভোগ পিছু ছাড়ছে না এই নৌরুট ব্যবহারকারীদের। তাই আমরা যানবাহনগুলোকে বিকল্প রুট ব্যবহারের পরামর্শ দিচ্ছি।
