মৌনতা ভেঙেছে বৃষ্টি
মৌনতা ভেঙেছে বৃষ্টি নেমেছে ঝরনায় মৃদুমন্দ
ঈষত্ শিশির ছুঁয়ে দক্ষিণে মেতেছে কলরব
দূর পাহাড়ের উঁচু চূড়ায় জমেছে মেঘমন্দ্র
শূন্য বালিয়াড়ি পেতে রেখেছে না-জানা নদীপথ
ছাতিমের ঘ্রাণে কত মেদুর আকুতি মনে পড়ে
গাছের শাখায় ঝুলে বাবুই পাখির পাশে বসে
আর্দ্রতা লুকিয়ে রেখে শুকনো ফাটলে মাঠ ভরে
শুকিয়ে যাওয়া মন রোদে পোড়া দেহ ভিজে রসে
নদী ও বৃক্ষের চোখে প্লাবনে জেগেছে অবশেষে
মঙ্গলসুধার মতো অজস্রধারায় রাত বৃষ্টি
নতুন ফসলে থাকে বিপন্ন আয়ুর স্বপ্ন মিশে
বিন্দুতে বিন্দুতে মেঘ জলের ছায়ায় হয় সৃষ্টি
জ্বরতপ্ত মানুষেরা জলের বিলাপে তড়পায়
উদাসী মেঘের তরে চাতকের মতো পিপাসায়।
বৃন্দাবনে রাধিকা
টিলার ওপরে তীব্র রোদে ছিল ছায়ার বালিকা
শীতল বাতাস কেটে শ্যাম আসে কুয়াশার মাঝে
হূদয়ে এখন হিম, মৌনতায়, উদ্বেল রাধিকা
জেগেছে ঘুমন্ত রাধা বৃন্দাবনে হরিণীর সাজে
শ্যামল নিস্বন বনে বিচ্ছুরিত কত আলো গলে
আনন্দধারার মতো দুর্বিনীত লোহিত নেশায়
দুপাশে চিরহরিত্ গুল্মগুলো পেন্ডুলামে দোলে
রাতে নক্ষত্র পতন মহাশূন্যে, মন্দির চূড়ায়
এঁকেবেঁকে পথ চলে বালুচরি হারানো নদীতে
দূরের আকাশে খোলা পূর্ণিমায় চাঁদের জোনাকি
আকাশগঙ্গার পাড়ে আঁচলের সোনালু বালুতে
উঁচুনিচু সারি সারি মেঘ নাচে আনন্দে একাকী
ঈশানের কোণে দেখা মাতালের তৃষাতুর স্বপ্নে
অরণ্যের স্নেহমাটি মিশে থাকে আদুল জীবনে।
