রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বলেছেন, বর্তমানে আইনজীবী সমাজ অনেকটা পিছিয়ে পড়েছে। এই পেশায় আসা লোকজনের সংখ্যা দিন দিন হ্রাস পাচ্ছে। জাতীয় সংসদেও একই অবস্থা। একসময় শতকরা ৫১ ভাগ সংসদ সদস্যই ছিল আইনজীবী। আমি যখন অষ্টম সংসদে স্পিকার ছিলাম তখন ৩৪৫ জনের মধ্যে মাত্র ৩৩ জন সংসদ সদস্য ছিলেন আইনজীবী। এদের মধ্যে মাত্র ১০/১২ জন প্র্যাকটিসিং আর বাকিরা ছিল নন-প্র্যাকটিসিং আইনজীবী। তাহলে কী আমরা ধরে নিতে পারি জনগণের সঙ্গে আইনজীবী সমাজের দূরত্বের সৃষ্টি হয়েছে? তাই এ ব্যাপারে আইনজীবীদের আরো সচেতন হওয়া প্রয়োজন বলে আমি মনে করি। তিনি বলেন, আইনজীবী সমাজ যদি সঠিকভাবে চলে এবং তাদের ওপর যদি জনগণের আস্থা থাকে তাহলে তারা সমাজ ও দেশের চিত্র বদলে দিতে পারে। অতীতে এর নজির রয়েছে। তিনি গতকাল বৃহস্পতিবার কিশোরগঞ্জ বার প্রাঙ্গণে জেলা আইনজীবী সমিতির সংবর্ধনা এবং ১০তলা বিশিষ্ট রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন। আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট মিয়া মো. ফেরদৌসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে মানপত্র পাঠ করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সহিদুল আলম সহিদ। বক্তব্য রাখেন নূর মোহাম্মদ এমপি, জেলা ও দায়রা জজ মো. সায়েদুর রহমান খান, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মো. জিল্লুর রহমান প্রমুখ।
কিশোরগঞ্জ বারে আইনজীবী হিসেবে দায়িত্ব পালনের স্মৃতিচারণ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, তখন আইনজীবীরা মানুষকে সেবাদানের মানসিকতা নিয়ে কাজ করতেন। আমি কখনো কাউকে ‘প্যাঁচের’ মধ্যে ফেলে টাকা নেইনি। আইনজীবীদের কাছে বিপদগ্রস্ত মানুষেরা আসে। এখানে এসে যদি তারা হয়রানির শিকার হন, তাহলে আপনাদের প্রতি তাদের শ্রদ্ধা কমবেই। তিনি বলেন, আগে শুধু সামাজিকভাবে নন, রাজনৈতিকভাবেও তারা নেতৃত্ব দিতেন। প্রতিটি এলাকার সমস্যা সমাধানে আইনজীবী অথবা মোক্তাররা ভূমিকা রাখতেন। এ সময় তিনি আইনজীবী কিংবা আইনজীবীর কোনো আত্মীয়-স্বজনের বিরুদ্ধে মামলা হলে বাদীর পক্ষে আইনজীবী নিয়োগ না দেওয়ার সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনার দাবি রাখেন।
এর আগে রাষ্ট্রপতি ১০তলা বিশিষ্ট রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। তিনি বিকালে শ্যামসুন্দর আখড়ায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে যোগ দেন।
