বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যা মামলার পূর্ণাঙ্গ ও নিখুঁত চার্জশিট (অভিযোগপত্র) শিগগিরই দাখিল করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। গতকাল বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে নিজ দফতরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রী এসব কথা জানান।
গত রবিবার দিবাগত রাত সোয়া দুটার দিকে বুয়েটের শেরেবাংলা হলের নিচতলা থেকে দোতলায় ওঠার সিঁড়ি থেকে বুয়েটের তড়িেকৗশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র আবরারের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ফেসবুকে ভারতবিরোধী স্ট্যাটাস দেওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের নেতারা আবরারকে পিটিয়ে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এরই মধ্যে বুয়েট ছাত্রলীগের নেতাসহ ১৬ জনকে গ্রেফতারও করেছে পুলিশ।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বুয়েটে আপনারা নৃশংস হত্যাকাণ্ড দেখেছেন। এটা কারো কাম্য নয়। কেন এ হত্যাকাণ্ড, কী উদ্দেশ্য ছিল সবকিছু এখন তদন্ত করা হচ্ছে। আপনারা এরই মধ্যে শুনেছেন যারা এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিল কিংবা যারা এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে, আমরা ভিডিও ফুটেজ দেখে তাদের শনাক্ত করেছি। আমরা ১৬ জনকে এরই মধ্যে ধরেছি। তারপর আরো যদি কেউ জড়িত থাকে সবাইকে আমরা ধরব।’
মন্ত্রী বলেন, ‘গতকাল (বুধবার) আমাদের প্রধানমন্ত্রী এ ব্যাপারে অত্যন্ত শক্ত ভাষায় কথা বলেছেন। তিনি বলেছেন, যারা এই দুষ্কৃতকারী, যারা এ ধরনের কাণ্ড-কারখানা ঘটায়, সেটার সঙ্গে রাজনৈতিক কোনো সম্পৃক্ততা নেই। আমরা সে বিষয়ে কঠিন ও কঠোর। তিনি পাশাপাশি এ কথাও বলেছেন, কোনো ইনফরমেশন (তথ্য) কিংবা কোনো কিছু থাকে কিংবা নাও থাকে তাহলে প্রত্যেকটি ছাত্রাবাস যেন তল্লাশি করা হয়।’ তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী যে নির্দেশনা দিয়েছেন আমরা অবশ্যই সবগুলো সামনে নিয়ে কাজ করছি।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরো বলেন, ‘আমি মনে করি পুলিশ যথাসময়ে তাদের (আবরার হত্যাকারী) অ্যারেস্ট (আটক) করতে সক্ষম হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে সঙ্গে হল থেকে তারা বের হতে পারেনি, এর আগেই তারা ধরা পড়েছে।’ তিনি বলেন, ‘আমরা আশা করি শিগগিরই, খুব স্বল্প সময়ের মধ্যেই এ মামলার পূর্ণাঙ্গ চার্জশিট প্রদান করতে পারব। আমাদের পুলিশ সেই কাজটি করছে। চার্জশিট যাতে নিখুঁত হয়, সবকিছু যাতে নির্ভুল হয়, সেজন্য পুলিশ এরই মধ্যে কাজ শুরু করেছে। আমরা আশা করি একটা নিখুঁত চার্জশিট দিয়ে বিচারের কাজটি দ্রুততার সঙ্গে শেষ হয়, আমরা সেই কাজটি সহজতর করব। আমরা সেটাই করছি।’
সমালোচনার মুখে বুয়েটের ছাত্রলীগ নেতা অমিত সাহাকে আটক করা হয়েছে, কিন্তু তার নামে মামলা হয়নি—এ বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘আমি যতটুকু শুনেছি, আমি শিওর না, অমিত সাহাকে ঠিক সেই মুহূর্তে পায়নি, সেই মুহূর্তে সে ছিল না। তার সঙ্গে যোগাযোগ করলে সে বলেছিল সে পূজার ছুটিতে বাইরে গেছে। যাহোক, যেভাবে হোক, তাকেও ধরা হয়েছে। মামলায় আবরারের বাবা কিছু নাম দিয়েছিলেন, সেই নামের বাইরেও কিন্তু পুলিশ যাদের সম্পৃক্ততা পাচ্ছে তাদের ধরছে। অমিত সাহা কিংবা যে কেউ হোক আমাদের কাছে ফ্যাক্টর নয়, আমাদের কাছে ফ্যাক্টর সে অপরাধী কি না, সে অপরাধী হলেই আমরা ধরছি।’
কবে নাগাদ বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোতে তল্লাশি চালানো হবে—জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে ঠিক করে নেব। কোথায় কীভাবে করব? আমাদের আরো কিছু ফর্মালিটিজ (আনুষ্ঠানিকতা) পালন করতে হয়, সেটা আপনারা জানেন। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে এটা করব। আমরা কলেজগুলোর ছাত্রবাসেও এটা (তল্লাশি) করব।’ টর্চার সেল অনেক ক্লাবে আছে, সেগুলোতেও তল্লাশি হবে কি না—এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘দেখুন টর্চার সেল একটা ক্লাবে ছিল, সেখানে টেন্ডারবাজির একটা ব্যাপার-স্যাপার ছিল। হলগুলোতে ছাত্ররা থাকে। সেখানে টর্চার সেল কতখানি ছিল, কতখানি আছে—সবই দেখব।’
শুদ্ধি অভিযান চলবে কি না, একটি ইস্যুর কারণে আরেকটা ঢাকা পড়ে যাচ্ছে- এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে মন্ত্রী বলেন, ‘না না, ঢাকা পড়েনি। প্রধানমন্ত্রী খুব সুন্দর করে গতকাল ব্যাখ্যা দিয়েছেন, এরপর আর আমার কিছু বলার নেই। আমি শুধু এটুকু বলব, আমি সবসময় বলে আসছি, প্রধানমন্ত্রী যে নির্দেশনা দিয়েছেন..... তৃতীয়বারের মতো তিনি রাষ্ট্রভার পালন করছেন, এখন তিনি রাষ্ট্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত করতে চাচ্ছেন। টেকসই শান্তি ও উন্নয়ন ধরে রাখার জন্য সুশাসন একদম অপরিহার্য। আমরা এটা প্রতিষ্ঠিত করব।’
