ভিন্নমতের জন্য হত্যা সংবিধান ও দেশবিরোধী ----------ড. কামাল

আপডেট : ১০ অক্টোবর ২০১৯, ২২:২৮

বুয়েটের শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যার প্রতিবাদ জানিয়ে গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন বলেছেন, ‘দলের মধ্যে যারা রুগ্ণ, তারাই এ ধরনের কাজ করতে পারে। আমি এমনটা কল্পনাও করতে পারিনি। একটি ছেলে মত প্রকাশ করেছে, তাকে এভাবে পিটিয়ে-পিটিয়ে হত্যা করা—এটা আমাদের দেশে হাজার বছরের সভ্যতার ওপর, স্বাধীনতার ওপর আক্রমণ। সংবিধানে পরিষ্কার বলা আছে—আমাদের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা আছে। মতের অমিল হলে পিটিয়ে মারতে হবে, এটা সংবিধানবিরোধী, দেশবিরোধী ও রাষ্ট্রদ্রোহিতা।’ গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে গণফোরাম আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

আবরার হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের ‘জানোয়ার’ উল্লেখ করে কামাল হোসেন বলেন, ‘যারা ঘটিয়েছে, এরকম তো জানোয়ারও করে না। আমি কোনো       জন্তু চিনি না, যারা মানুষকে এভাবে পিটিয়ে-পিটিয়ে হত্যা করে। আমরা এদেশের ছেলেদেরকে পশুতে পরিণত করছি, এটা ভয়াবহ একটা অবস্থা। এ থেকে সমাজ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও  দেশকে মুক্ত করতে হবে।’

আবরার হত্যার কী ধরনের তদন্ত চান? প্রশ্নের জবাবে ড. কামাল বলেন, ‘আমি সেই তদন্ত চাইছি, যেখানে বিচার বিভাগের লোক থাকবেন। এর পাশাপাশি গভীরে গিয়ে যাদের তথ্য উদ্ঘাটনের অভিজ্ঞতা আছে, তাদের রাখতে হবে। এখানে আমি গতানুগতিক তদন্ত কমিটির দাবি করছি না। সত্যিকার অর্থে গুরুতর রোগের গোড়াতে কী আছে, সেটা উদ্ঘাটন আমরা চাই, দেশের মানুষও চায়। সেটা যেন দ্রুত হয়।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমরা অবশ্যই তদন্তের দাবি জানাচ্ছি। কারণ, তদন্ত ছাড়া তো রহস্য উদ্ঘাটন হয় না। কিন্তু তদন্ত মানে তদন্ত। নামকাওয়াস্তে তদন্ত না। সমাজে যেভাবে আক্রমণ করে পেটানো হচ্ছে, ভিন্নমত দিলে  পেটানো—এটা গণতন্ত্র হতে পারে না, গণতন্ত্রের ষোলআনা পরিপন্থি। আপনারা সময় নিন, ঝুঁকি নিন, সত্যিকার অর্থে তদন্ত করুন। কারণ, এই দেশকে বাঁচাতে হবে। স্বাধীনতার ৫০ বছর হতে যাচ্ছে, এই মুহূর্তে পরাধীন যুগের ঘটনা ঘটবে, এটা আমরা কোনোভাবে মেনে নিতে পারি না। দলমত-নির্বিশেষে ঐকমত্য হতে হবে, সন্ত্রাস বন্ধ করতে হবে।’

ছাত্ররাজনীতি বন্ধ করা উচিত কি না, জানতে চাইলে গণফোরাম সভাপতি বলেন, ‘এই বিষয়টি আমাদের দলের  ভেতরে আলোচনা করতে হবে। লেজুড়বৃত্তি সংগঠন আমরা কোনো দিন চাইনি, এটা আমরা আগাগোড়া থেকেই সব সময় বলে আসছি। ছাত্ররাজনীতি লেজুড়বৃত্তি হয়ে গেলে সেটা অন্যকিছু হয়ে যায়। এর পরিণতি আজকে সারাদেশকে ভুগতে হচ্ছে।’ সংবাদ সম্মেলনে গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, কেন্দ্রীয় নেতা মোশতাক আহমেদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

রবিবার নাগরিক শোক র্যালি করবে ঐক্যফ্রন্ট

আবরার হত্যার প্রতিবাদে আগামী রবিবার নাগরিক শোক র্যালি করবে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। ঐদিন ঐক্যফ্রন্ট গঠনেরও এক বছর পূর্ণ হবে। গতকাল দুপুরে রাজধানীর মতিঝিলে ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ড. কামাল হোসেনের চেম্বারে ফ্রন্টের বৈঠক শেষে এই কর্মসূচির কথা জানান নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমদুর রহমান মান্না। 

ড. কামাল হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি সুব্রত চৌধুরী, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রব, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী প্রমুখ অংশ নেন। বৈঠক শেষে সুব্রত চৌধুরী বলেন, ‘১৩ অক্টোবর জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আলোচনা সভা করার সিদ্ধান্ত ছিল। দেশের সার্বিক পরিস্থিতিতে আমরা আবরার হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে শোক র্যালি করব। এই র্যালি জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে থেকে শুরু হয়ে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে গিয়ে শেষ হবে।’ শোক র্যালিতে সর্বস্তরের জনগণকে অংশগ্রহণের জন্য জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে আহ্বান জানান মাহমুদুর রহমান মান্না।