সাহিত্যে নোবেল পেলেন পিটার হ্যান্ডকে ও ওলগা তোকারসুক

আপডেট : ১০ অক্টোবর ২০১৯, ২২:৩২

চিকিত্সাশাস্ত্র, পদার্থবিদ্যা এবং রসায়নের পর এবার সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার রয়াল সুইডিশ অ্যাকাডেমি অফ সায়েন্সের পক্ষ থেকে ২০১৮ এবং ২০১৯ সালে সাহিত্যে নোবেল প্রাপকদের নাম ঘোষণা করা হয়। ২০১৯ সালে সাহিত্যে নোবেল পাচ্ছেন অস্ট্রিয়ার সাহিত্যিক পিটার হান্ডকে। একইসঙ্গে ২০১৮ সালে একই বিভাগে নোবেল পাচ্ছেন পোলান্ডের লেখিকা ওলগা তোকারসুক। উল্লেখ্য, যৌন নির্যাতনের অভিযোগের কারণে ২০১৮ সালের সাহিত্যের নোবেল পুরস্কার ঘোষণা করতে পারেনি সুইডিশ অ্যাকাডেমি।

২০১৯ সালে সাহিত্যে নোবেল বিজয়ী পিটার হান্ডকে (৭৬) প্রসঙ্গে অ্যাকাডেমির পক্ষ থেকে জানানো হয়, মানুষের অভিজ্ঞতার পরিধী এবং সুনির্দিষ্ট চেহারা অসামান্য ভাষাগত দক্ষতার সঙ্গে ফুটিয়ে তুলতে পারায় তাকে এই সম্মানে সম্মানিত করা হলো। অন্যদিকে ২০১৮ সালের নোবেল বিজয়ী ওলগা   তোকারসুককে সম্মানিত করা হয়েছে জীবনের ঘেরাটোপ পেরিয়ে যাওয়ার মধ্য দিয়ে তার যে সাবলীল কল্পনা এবং দুর্নিবার আগ্রহ প্রকাশ পেয়েছে সেই ভাবনাকে মাথায় রেখেই।

১৯৪২ সালে লেখক পিটার হ্যান্ডকে সোভিয়েত অধিকৃত বার্লিনে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৬৫ সালে মাঝপথে পড়ালেখা ছেড়ে দেন। যোগ দেন আভা গার্দ আন্দোলনে। শুরু হয় ছবির চিত্রনাট্য লেখা। ১৯৭৮ সালে তার নির্দেশনায় তৈরি ছবি ‘দ্য লেফট হ্যান্ডেড ওম্যান’ সে বছর কান চলচ্চিত্র উত্সবে মনোনীত হয়। যুগোস্লোভিয়া যুদ্ধের সমালোচনা করে তার লেখা সারা পৃথিবীতে সমালোচনার ঝড় তোলে। যুদ্ধের কারণ ও ফল বিষয়ে বারবার পশ্চিমা দুনিয়ার সমালোচনা করে এসেছেন পিটার। বিতর্ক তার চিরসঙ্গী হয়ে থেকেছে।

৫৭ বছর বয়সী লেখিকা তোকারসুক সাহিত্যের জগতে পা রাখেন কবিতার হাত ধরে। তার প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘সিটিজ অফ মিররস।’ ১৯৯৩ সালে তোকারসুকের প্রথম উপন্যাস ‘দ্য জার্নি অব দ্য বুক পিপল’ প্রকাশিত হয়। ১৭ শতকের প্রেক্ষাপটে লেখা এই উপন্যাসের আখ্যান এক প্রেমিক দম্পতির একটি হারিয়ে যাওয়া বই অন্বেষণ নিয়ে গড়ে ওঠে। ২০১৮ সালে বুকারও পেয়েছিলেন তোকারসুক। এ বছর সুইডিশ নোবেল কমিটি ওই একই বছরের নোবেল প্রাপক হিসেবে তার নাম ঘোষণা করে বলে, তোকারসুক এমন একজন আখ্যানকার যিনি কল্পনা দিয়েই দেশকালের সীমা ভেঙে দেন। সাহিত্যে এক বছরে দুইজন প্রাপকের নাম ঘোষণার ঘটনা গত ৭৫ বছরে ঘটেনি। - ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস ও আনন্দবাজার পত্রিকা