রিশা হত্যায় দর্জি ওবায়দুলের মৃত্যুদণ্ড

আপডেট : ১০ অক্টোবর ২০১৯, ২২:৩৩

রাজধানীর উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুলের শিক্ষার্থী সুরাইয়া আক্তার রিশাকে হত্যার দায়ে আসামি ওবায়দুল হককে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে আদালত। ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কে এম ইমরুল কায়েশ জনাকীর্ণ আদালতে গতকাল বৃহস্পতিবার এ রায় ঘোষণা করেন। রায়ে বিচারক বলেন, সকলেরই ভালোবাসার অধিকার রয়েছে। কিন্তু ভালোবাসার জন্য রিশার মতো কাউকে হত্যা করা ন্যক্কারজনক ও ভয়ংকর অন্যায়। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা রোধে আসামির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত। এদিকে রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রিশার মা ও পরিবারের সদস্যসহ স্কুল কর্তৃপক্ষ ও শিক্ষার্থীরা। আদালত প্রাঙ্গণে রায় শুনে রিশার মা তানিয়া হোসেন বলেন, রায়ে আমি খুশি। ফাঁসির রায় যেন দ্রুত কার্যকর করা হয়। আমার মতো যেন আর কোনো মায়ের কোল এভাবে খালি না হয়। এ সময় আদালত প্রাঙ্গণে উপস্থিত উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ রায়ে সন্তোষ প্রকাশ  করে তা দ্রুত কার্যকরের দাবি জানান। রিশার সহপাঠীরা বলেন, অপরাধ করে কেউ পার পায় না। আদালতের রায়ে সেটাই প্রমাণিত হয়েছে।

২০১৬ সালের ২৪ আগস্ট দুপুরে উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুলের সামনের ফুটওভারব্রিজের নিচে রিশাকে ছুরিকাঘাত করে ওবায়দুল। ঐদিনই তার মা তানিয়া হোসেন রমনা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। চিকিত্সাধীন থাকাবস্থায় মৃত্যুবরণ করে রিশা। পরে হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে শিক্ষার্থীরা রাজপথে নামে। বিক্ষোভকালে ঐ বছরের ৩১ আগস্ট নীলফামারীর ডোমার থেকে আসামি ওবায়দুলকে গ্রেফতার করে ডিবি পুলিশ। পরে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন তিনি। জবানবন্দিতে তিনি স্বীকার করেন যে, প্রেমের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় এ হত্যাকাণ্ড ঘটায়।

ওবায়দুল দিনাজপুর জেলার বীরগঞ্জ উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়নের মীরাটঙ্গী গ্রামের বাসিন্দা আবদুস সামাদের ছেলে। রাজধানীর ইস্টার্ন মল্লি­কা শপিং মলের বৈশাখী টেইলার্সে দর্জির কাজ করতেন। ঘটনার পাঁচ/ছয় মাস আগে ঐ টেইলার্সে কাপড় সেলাই করাতে যান রিশা ও তার মা। রিশার মা ঐ দোকানের রসিদের কপিতে মোবাইল নম্বর দিয়ে আসেন। কর্মচারী ওবায়দুল রসিদ  থেকে সেই নম্বর নিয়ে রিশাকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে উত্ত্যক্ত করতে থাকেন। পরে এ বিষয়ে ওবায়দুলকে সতর্ক করা হয়। এদিকে গতকাল মহানগর দায়রা জজ আদালত প্রাঙ্গণে আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি চেয়ে মানববন্ধন করেন রিশার স্কুলের শিক্ষার্থীরা।