কোন নারীর স্তন ক্যান্সার হয়েছে কিনা কলম্বিয়াতে সেটা অন্ধ ও দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা পরীক্ষা করে দেখছেন। এই প্রকল্পটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘যে হাত জীবন বাঁচাতে পারে।’ অন্ধ ব্যক্তির হাতের স্পর্শ অত্যন্ত সংবেদনশীল হওয়ায় তাদেরকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। সারা বিশ্বে নারীরা এই ক্যান্সারেই সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন এবং এতে অনেকের মৃত্যুও হচ্ছে। খবর বিবিসির
স্তন ক্যান্সার থেকে জীবন রক্ষার উপায় হলো যতো শিগগির সম্ভব এটিকে শনাক্ত করা। এই কাজেই কলম্বিয়াতে কাজে লাগানো হচ্ছে অন্ধদের। তাদেরই একজন লিইডি গার্সিয়া জানান, আমার কাছে হাতই আমার চোখ। হাত দিয়েই আমি সারা বিশ্বকে অনুভব করতে পারি। বর্তমানে আমি যা কিছু করছি, এই হাতদুটো ছাড়া সেসব করা অসম্ভব ছিল। স্তন ক্যান্সারের উপসর্গ শনাক্ত করার কাজে তাকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেছেন, ‘আমার আঙ্গুল, আঙ্গুলের মাথা, এসব দিয়ে স্পর্শের যে অনুভূতি, সেটা দিয়ে আমি অন্য নারীদের সাহায্য করতে পারছি। স্তনের টিস্যুতে কোনো ধরনের পরিবর্তন বা অস্বাভাবিক কিছু থাকলে সেটা আমি আমার স্পর্শ দিয়ে চিহ্নিত করতে পারি। বুঝতে পারি স্তনে অস্বাভাবিক কোন লাম্প বা মাংসপ্লি আছে কিনা।’ অন্ধদের দিয়ে স্তন পরীক্ষার এই উপায়টি উদ্ভাবন করেছেন জার্মান গাইনোকোলজিস্ট ড. ফ্রাঙ্ক হোফম্যান। অন্ধদের স্পর্শ অত্যন্ত সংবেদনশীল হওয়ায় স্তন ক্যান্সার শনাক্ত করতে তাদেরকে প্রশিক্ষণ দিয়ে কাজে লাগানো হচ্ছে বলে জানান ড. হোফম্যান। এই পদ্ধতিতে স্তনের পুরো এলাকায় আঠাযুক্ত টেপ লাগিয়ে প্রত্যেক ইঞ্চি পরীক্ষা করে দেখা হয়। এর মাধ্যমে স্তনের সামান্য কোনো অংশও যাতে পরীক্ষা থেকে বাদ পড়ে না যায় সেটা নিশ্চিত করা হয়।
