অপহরণ করে মুক্তিপণের ১৫ লাখ টাকা না পেয়ে অপহরণকারী কিশোর গ্যাং চক্রের সদস্যরা মো. সজিব হোসেন (১৭) নামে এক কিশোরকে হত্যার পর লাশ নদীতে ভাসিয়ে দেওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে মুলহোতাসহ অপহরণকারী ও কিশোর গ্যাং গ্রুপের ৫ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
তারা হলেন, আলামিন (২৬), শামীম (২২), সাজ্জাত (২১), জুয়েল (২০) ও মনতাজ (২৮)।শুক্রবার মির্জাপুর থানা পুলিশ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
মৃত সজিবের স্বজন ও পুলিশ জানায়, পাইকপাড়া গ্রামের জীবন মিয়ার ছেলে সজিব হোসেন (১৭)। গত ২৫ সেপ্টেম্বর কিশোর গ্যাং গ্রুপের সদস্য ও অপহরণকারী চক্রের সদস্যরা সজিবকে অপহরণ করে। অপহরণের পর থেকেই মোবাইল ফোনে ১৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে তারা। মুক্তিপণের টাকা না দিলে সজিবকে হত্যা করা হবে বলে হুমকি দেয় তারা। কিন্ত পরিবারের পক্ষে এত টাকা দেওয়া সম্ভব নয় বলে তাদের কাছে অনুরোধ করে টাকা কমানোর জন্য। কিন্ত অপহরণকারী চক্রের সদস্যরা টাকা কম নেবে না বলে জানায়। ছেলেকে ফিরে পেতে হলে ১৫ লাখ টাকাই দিতে হবে বলে জানিয়ে দেয় তারা। নিরুপায় হয়ে সজিবের বাবা জীবন মিয়া মির্জাপুর থানায় অভিযোগ করে। অভিযোগ পাওয়ার পর মির্জাপুর থানা পুলিশ সজিবকে উদ্ধারে নামেন। মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে কিশোর গ্যাং গ্রুপের সদস্য ও অপহণের মুলহোতাসহ ৫ জনকে গ্রেফতার করে। পরে গ্রেফতারদের মধ্যে আল আমিন পুলিশের কাছে স্বীকারোক্তি দেয় মুক্তিপণের টাকা না পেয়ে গত ২৫ সেপ্টেম্বর সজিবকে হত্যার পর লাউহাটি এলাকায় নদীতে ভাসিয়ে দেয়।
মানিকগঞ্জ সদর থানা পুলিশ জানায়, নদীতে ভাসমান অবস্থায় একটি লাশ উদ্ধার করে আনজুমান মফিদুলের সহযোগিতায় বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করা হয়েছে।
মির্জাপুর পুলিশ অফিসার ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. মোরাদুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ১৫ লাখ মুক্তিপণ চেয়ে সজিবকে অপহরণ করা হয়েছিল। যারা অপহরণ করেছিল তারা সজিবের ঘনিষ্ট বন্ধু। ১৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ না পেয়ে তাকে হত্যা করা হয় বলে আসামিরা স্বীকার করেছে। মামলা হওয়ার পর তদন্ত চলছে। গ্রেফতারদের জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
ইত্তেফাক/এমআরএম
