একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন যত ঘনিয়ে আসছে নির্বাচনী মাঠে উত্তেজনা ততই বেড়ে চলছে। কে হবেন ঢাকা-১ আসনের কর্ণধার এই নিয়ে চলছে ভোটারদের মধ্যে চুলচেড়া বিশ্লেষণ। নির্বাচনে সব দল অংশগ্রহণ করায় জটিল সমীকরণে পড়েছে দোহার-নবাবগঞ্জের ভোটররা। মহাজোটের সালমান এফ রহমান (নৌকা) বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী খন্দকার আবু আশফাক (ধানের শীষ) এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী অ্যাডভোকেট সালমা ইসলামকে (মোটরগাড়ি) নিয়েও মূলত হিসাব করছে এ আসনের ভোটাররা। তবে সালমান, আশফাক ও সালমা সবাই জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী।
আসন্ন নির্বাচনে ঢাকা-১ (দোহার-নবাবগঞ্জ) এর প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন আওয়ামী লীগের সালমান এফ রহমান, বিএনপির খন্দকার আবু আশফাক, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. কামাল হোসেন, কমিউনিস্ট পার্টির আবিদ হোসেন, বিপ্লবী ওয়ার্কস পার্টির সেকান্দার হোসেন,। এছাড়া শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন স্বতন্ত্র প্রার্থী বর্তমান সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম।
নানা জল্পনা কল্পনা শেষে আশফাককে চূড়ান্তভাবে বিএনপির প্রার্থী ঘোষণা করা হলেও গ্রেফতার আতংকে এখনও নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছে না প্রার্থীরা। বিএনপির বিপুল সমর্থন থাকলেও মাঠ পর্যায়ে নেই কোন নেতাকর্মী প্রচার প্রচারণা। মাঠে কর্মীরা দৃশ্যমান না হলেও তবে নীরব ভোটে নীরব বিপ্লব ঘটতে পারে বলে মনে করছেন এখানকার বিএনপির সমর্থক ও নেতাকর্মীরা।
অন্যদিকে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা এবার আসন পুনরুদ্ধারের জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে। এর জন্য তারা নৌকার প্রার্থী সালমান রহমানের পক্ষে দিনরাত প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। করা হয়েছে কেন্দ্র ভিত্তিক কমিটি। প্রতিনিয়ত করা হচ্ছে উঠান বৈঠক। সালমান রহমানও ঘুরে বেড়াচ্ছে দোহার ও নবাবগঞ্জ উপজেলার প্রতিটা ওয়ার্ডে। সালমান রহমানকে প্রার্থী হিসেবে পেয়ে আওয়ামী লীগের নেতারা ধরেই নিয়েছে বিজয় তাদের সুনিশ্চিত।
আরো পড়ুন: সাতক্ষীরা-২: জয় পেতে মরিয়া আওয়ামী লীগ, প্রচারে নেই জামায়াত প্রার্থী
অন্যদিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী সালমা ইসলামের সমর্থকরা মনে করেন, বিগত সময়ে সালমা ইসলাম অনেক উন্নয়নমূলক কাজ করেছে। এ আসনে তার ব্যক্তি ইমেজও আছে তাই ভোটাররা বিএনপি ও আওয়ামী লীগকে বর্জন করে সালমা ইসলামের মোটরগাড়ি মার্কায় ভোট দিয়ে পুনরায় তাকে এমপি নির্বাচিত করবে।
এছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের বেশ ভালই ভোট রয়েছে আসনটিতে। বিগত উপজেলা নির্বাচনে তার কিছুটা আভাস পাওয়া গেছে। যদি দলটি নির্বাচনে না আসতো এই ভোটগুলো আওয়ামী লীগ, বিএনপি বা স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে যেত। তাই তাদের ভোটগুলো নিয়েও বিশ্লেষণ করছে প্রতিটি দলের নেতাকর্মীরা। তবে এবারের নির্বাচনে তরুণ ভোটাররা হবে বড় ফ্যাক্টর। তাদের ভোটে ফলাফলে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে বলে মনে করেন সাধারণ ভোটাররা।
ইত্তেফাক/বিএএফ
