প্রাথমিকের ঝুঁকিপূর্ণ ভবন

আপডেট : ১১ অক্টোবর ২০১৯, ২১:১৪

এই বছরের ৬ এপ্রিল ক্লাস চলিবার সময় বরগুনার আমতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভবনের পলেস্তারা ও বিম ভাঙিয়া এক স্কুলছাত্রী নিহত হয়। ঐ রকম অবস্থার ঝুঁকিপূর্ণ ভবন শ্রেণিকক্ষ হিসেবে ব্যবহূত হইতেছে সারাদেশেই। ইহা অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয়। সমপ্রতি জানা গিয়াছে, রাজবাড়ীর ৬ প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবন পরিত্যক্ত হইয়াছে। এই সব বিদ্যালয়ের প্রায় দেড় হাজার শিক্ষার্থীর পাঠদান মারাত্মকভাবে ব্যাহত হইতেছে। জেলার কালুখালী উপজেলার হরোয়া রূপসা প্রাথমিক বিদ্যালয়, ঝাউগ্রাম প্রাথমিক বিদ্যালয়, বালিয়াকান্দি উপজেলার পদমদী প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং পাংশা উপজেলায় নিভাগুরুদাস প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবন ইতোমধ্যে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হইয়াছে। ইহা ছাড়া পাংশা উপজেলার জাগীরবাগলী প্রাথমিক বিদ্যালয় ও সুবর্ণকোলা প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবন পরিত্যক্ত ঘোষণার জন্য আবেদন করা হইয়াছে। পদমদী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন পরিত্যক্ত হওয়ায় চলতি বছরের শুরু থেকে সাইক্লোন শেল্টারে পাঠদান করা হইতেছে। হারোয়া রূপসা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন পরিত্যক্ত হওয়ায় ২০১৫-১৬ অর্থবছরে একটি টিনশেড ঘর নির্মাণ করা হয়। পাংশা উপজেলার নিভাগুরুদাস প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একটি ভবন এক বছর আগে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হইলেও তাহাতেই চলিতেছিল পাঠদান। কয়েক দিন আগে শিক্ষা কর্মকর্তার পরিদর্শনের পর ঐ ভবনে পাঠদান বন্ধ রহিয়াছে।

এটি কেবল রাজবাড়ী জেলার ছয়টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চিত্র নহে বরং সারা দেশেই কম-বেশি একই চিত্র দেখা যায়। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর সূত্রে জানা গিয়াছে, সারাদেশে প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবন রহিয়াছে ১ লাখ ৫ হাজার ৯৮১টি। ইহার মধ্যে ব্যবহার উপযোগী ভালো ভবন রহিয়াছে ৪১ হাজার ১৫১টি, নির্মাণাধীন ভবন ১ হাজার ৭৮২টি, জরাজীর্ণ ৩৯ হাজার ৬১৪টি, ঝুঁকিপূর্ণ ও জরুরি মেরামতযোগ্য ভবন ১৬ হাজার ১০৬টি এবং পরিত্যক্ত ভবন রহিয়াছে সাত হাজার ৩২৮টি।

ফলে সারাদেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১৬ হাজার ১০৬টি ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে ক্লাস করিতেছে শিশুশিক্ষার্থীরা। যে কোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা রহিয়াছে জানিয়াও পাঠদান করিতেছেন শিক্ষকরা। তবে, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় বলিতেছে, অতি ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হইয়াছে। গোটা পরিস্থিতির উত্তরণে প্রাথমিক ডেভেলপমেন্ট প্রকল্পের (পিডিপি-৪) আওতায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) মাধ্যমে নির্মাণ ও মেরামতের কাজ চলিতেছে। আমরা জানি, রাতারাতি অবস্থার পরিবর্তন সম্ভব নহে, তবে যত দ্রুত সম্ভব এই প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবনগুলি সংস্কার অথবা পুনর্নির্মাণ করা প্রয়োজন। সেই দিকে কর্তৃপক্ষকে নজর দিতে হইবে। কারণ ইহা অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিষয়। কোমলমতি শিশুদের নিরাপত্তা কোনোভাবেই ঝুঁকিতে ফেলা যায় না। ইতোমধ্যে কোথাও কোথাও দুর্ঘটনার ঘটনাও ঘটিয়াছে। পাশাপাশি সরকার শিক্ষাক্ষেত্রে যে গুরুত্ব প্রদান করিয়াছে বিশেষ করিয়া প্রাথমিক শিক্ষায়, তাহা ধরিয়া রাখিতে হইলে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের এই সমস্যা কাটাইয়া উঠিতে হইবে।