মাধবপুর উপজেলার ১১টি স্বাস্থ্য কেন্দ্র ও ৩৬টি কমিউনিটি ক্লিনিকে তিন জন চিকিত্সক এবং ৫০ শয্যার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২১ জনের মধ্যে ছয় জন চিকিত্সক রয়েছেন বলে জানা গেছে। মেডিক্যাল টেকনেশিয়ানের অভাবে হাসপাতাল দীর্ঘদিন ধরে অব্যবহূত অবস্থায় থেকে নষ্ট হচ্ছে এক্সরে, ইসিজিসহ গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রপাতি। জরুরি প্রসূতিসেবা কার্যক্রমও বন্ধ রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে প্রত্যাশিত স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে স্থানীয় বাসিন্দারা।
ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশে মাধবপুর উপজেলার একমাত্র ৫০ শয্যার হাসপাতাল মাধবপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি অবস্থিত। অবস্থানগত কারণেই পার্শ্ববর্তী লাখাই, নাসিরনগর ও বিজয়নগর উপজেলার রোগীরা সেবা নিতে মাধবপুরে আসেন। তাছাড়া মহাসড়ক সংলগ্ন হওয়ায় বিভিন্ন সড়ক দুর্ঘটনায় আহত রোগীরাও চিকিত্সা নিতে আসেন এখানে। অথচ হাসপাতালটিতে মেডিক্যাল টেকনেশিয়ানের পদগুলো শূন্য। এক্সরে, ইসিজি, আলট্রাসনোগ্রামসহ কোনো ধরনের পরীক্ষার ব্যবস্থা নেই বলে অভিযোগ রোগীদের। চিকিত্সকের ২১টি পদের মধ্যে কর্মরত রয়েছেন মাত্র ৬ জন, এর মধ্যে কয়েকজন অনিয়মিত বলে অভিযোগ রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ পদে ডাক্তার না থাকায় চিকিত্সা সেবা ব্যাহত হচ্ছে। হাসপাতালে জুনিয়র কনসালটেন্ট অ্যানেসথেসিয়া, গাইনি, চক্ষু, চর্ম, অর্থোপেডিক্স, সার্জারি, মেডিসিন ও ইএনটি বিভাগেও দীর্ঘদিন ধরে পর্যাপ্ত চিকিত্সক নেই বলে অভিযোগে জানা গেছে। হাসপাতালের প্রশাসনিক শাখার হিসাবরক্ষক ও ক্যাশিয়ার দুই জনের কর্মস্থল মাধবপুর হলেও দীর্ঘদিন ধরে হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে প্রেষণে কর্মরত রয়েছেন বলে সূত্র জানায়। পাঁচ জন ঝাড়ুদার ও এক জন মালির পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য থাকায় হাসপাতালের পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. এ এইচ এম ইশতিয়াক মামুন জানান, চিকিত্সক ও মেডিক্যাল টেকনেশিয়ানের অভাবে কাঙ্ক্ষিত স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া যাচ্ছে না। প্রতি মাসেই উল্লেখিত পদে লোক দেওয়ার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে আসছেন বলে তিনি জানান।
