g র ফি কু ল ই স লা ম
মাহবুব সহেব একটি মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিতে চাকরি করেন। তার অফিসের বসের মেয়ে তার থিসিসের জন্য মুক্তিযুদ্ধে স্বজনহারা কোনো একটি পরিবারের সাথে সরাসরি কথা বলতে চাইলে মাহবুব তাদেরকে বাসায় নিয়ে যায়, কেনান তারাই মুক্তিযুদ্ধে স্বজনহারা পরিবার। পারিবারিক আয়োজনের এক পর্যায়ে মাহবুবের মা জানান, তার স্বামী মামুন সাহেব বঙ্গবন্ধুকে খুব ভালোবাসতেন। ৭ মার্চ ভাষণের পর তিনি বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান। পরে মুক্তিযুদ্ধে যুক্ত হন। কিন্তু সেই যে বাড়ি ছেড়ে তিনি চলে যান আর কখনো ফিরে আসেননি। তিনি আদৌ বেঁচে আছেন না মারা গেছেন, তাও তিনি জানেন না। তাই মৃত্যুর আগে তার একমাত্র ইচ্ছা, তার স্বামী বেঁচে আছে না মারা গেছেন এটা জেনে যাওয়া। এটা জানার জন্য দেশ স্বাধীনের পরে তিনি অনেকের দুয়ারে ঘুরেছেন। কিন্তু সঠিক কোনো তথ্য পাননি। তাই মনকেও বোঝাতে পারেন না। দেশ স্বাধীনের পরে তাকে অনেক কষ্ট সহ্য করে ছেলেকে পড়ালেখা করাতে হয়েছে। ছেলে আজ সফল। বড় চাকরি করে। মাঝেমধ্যেই তার জন্য ভালো ভালো খাবার নিয়ে আসে। কিন্তু তার খেতে ইচ্ছা করে না। তাকে দেশ-বিদেশের সুন্দর সুন্দর জায়গায় বেড়াতে নিয়ে যেতে চায়। কিন্তু তিনি রাজি হন না। কারণ প্রথমত, এ বাড়ি ছেড়ে গেলে যদি তার স্বামী ফিরে এসে তাদের না পান তাহলে কষ্ট পাবেন। দ্বিতীয়ত, স্বামীকে ছেড়ে কোনো ভালো খাবার তার খেতে ইচ্ছা করে না, তার স্বামী ঘুরে বেড়াতে ভালোবাসতেন। তাই তাকে ছাড়া সুন্দর প্রকৃতি তিনি কখনো দেখতে চান না। মুক্তিযুদ্ধে স্বামীহারা এক স্ত্রীর ৪৭ বছরের অপেক্ষার কথা শুনতে শুনতে উপস্থিত সবার চোখ ঝাপসা হয়ে ওঠে। পাশাপাশি মা তাদের একথাও বলেন, স্বাধীনতার এত বছর পরে মানুষের কিছু কাণ্ড দেখলে তার কষ্ট হয়। আমরা ভাষার জন্য প্রাণ দেওয়া জাতি। স্বাধীনতার জন্য প্রাণ দেওয়া জাতি। অথচ সেই আমরা এই বাংলা সংস্কৃতিকে সঠিকভাবে মূল্যায়ন করতে পারছি কি? চারপাশে ভাষা বিকৃতি দেখলে তা মনে হয় না। তাই আমরা যখন আমাদের সংস্কৃতিকে সম্মান করতে পারব, কেবলমাত্র তখনই মুক্তিযুদ্ধের বিজয়কে সঠিকভাবে উপলব্ধি করতে পারব—এমনই মুক্তিযুদ্ধের চেতনার গল্প নিয়ে নির্মিত হয়েছে বিজয়ের বিশেষ নাটক ‘অপেক্ষা’। এতে অভিনয় করেছেন সুবর্ণা মুস্তাফা, আনিসুর রহমান মিলন, দীপা খন্দকার, কাজল সুবর্ণ ও আজম খান। বিশেষ নাটক ‘অপেক্ষা’ মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে ১৬ ডিসেম্বর রাত ৯টায় এটিএন বাংলায় প্রচারিত হবে।
