g মা হ বু ব আ ল ম
বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির পরীক্ষণ থিয়েটার হলে নাট্যম রেপার্টরির বহুল আলোচিত এবং দর্শকনন্দিত নাটক ‘দমের মাদার’ প্রদর্শিত হবে আজ সন্ধ্যা ৭টায়। এরমধ্যে নাট্যম রেপার্টরি তাদের মঞ্চ সফল এই প্রযোজনার ৪৮টি মঞ্চায়ন সম্পন্ন করেছে। এবার তাদের ৪৯তম মঞ্চায়ন হবে। দলের সূত্রে জানা যায়, নাট্যম রেপার্টরি আগামী ১৯ ডিসেম্বর রবীন্দ্র সদনে তাদের ৫০তম প্রদর্শনী সম্পন্ন করবে। ভারতের স্বনামধন্য নাট্য সংগঠন ঋত্ত্বিক আয়োজন করেছে দেশ-বিদেশের নাট্যমেলা-২০১৮। তাদের এই আয়োজনের শেষ দিন মঞ্চস্থ হবে বাংলাদেশের নাটক ‘দমের মাদার’। অর্থাত্ দেশ-বিদেশের নাট্যমেলাতেই নাট্যমের ৫০তম প্রদর্শনী সম্পন্ন হচ্ছে। যুগে যুগে কালে কালে ধর্মকে নিয়ে চলেছে নানা ধরনের ব্যবসা। দেশে দেশে ধর্মকে নিয়ে চলছে রাজনীতি, আলাদা হয়ে যাচ্ছে মানুষ মানুষের কাছ থেকে—এ যেন এক অন্ধ রাহুর গ্রাস। আর এই রাহু গ্রাস যুগ থেকে যুগান্তরে সুন্দরকে, সত্যকে বাঁধাগ্রস্ত করতে চায়। কিন্তু অসুন্দর, অসত্য কখনো মানবকল্যানের পথে বা মানবতার পথে অন্তরায় হতে পারে না। নাট্যকার সাধনা আহমেদ এমনই এক ভাবনাকে তার নতুন ছন্দে বেঁধেছেন ‘দমের মাদার’ নাটকে।
বাংলার হাজার বছরের সংস্কৃতির সবচেয়ে সমৃদ্ধ আঙ্গিক বাংলার লোকপালাসমূহ। যা মূলত লোকমুখে প্রচার বা প্রসার লাভ করছে হাজার বছর ধরে। তেমনি একটি পালা মাদার পীরের আখ্যান। মাদার পীরের এক ভক্ত সম্প্রদায়কে ঘিরে গড়ে উঠেছে ‘দমের মাদার’ নাটকের গল্প। আংশিক সত্য একটি ঘটনাকে আশ্রয় করে নাট্যকার সাধনা আহমেদ লোক আঙ্গিক রীতিতে নাটকটি রচনা করেছেন। কিন্তু আইরিন পারভীন লোপা সেই লোক আঙ্গিক থেকে সরে এসে নাগরিক পরিবেশন রীতিকে অবলম্বন করেছেন। তাই লোকনাটক পরিবেশন রীতিতে মঞ্চের যে নিরাভরণ রীতি, সেটা এখানে পাওয়া যায় না। আবার অভিনয় রীতির ক্ষেত্রেও বিষয়টি প্রযোজ্য। ‘দমের মাদার’ নাটকে নাট্যকার সাধনা আহমেদ জীবনের একটি নিগূঢ় সত্যকে অনুসন্ধান করেছেন। নির্দেশক আইরিন পারভীন লোপা সেই সত্যের প্রাণবন্ত ছবি এঁকেছেন অভিনয়শিল্পী ও কুশলীদের দিয়ে। নাটকটির বিভিন্ন চরিত্রে প্রাণবন্ত অভিনয় করেছেন শিশির রহমান, শুভাশিষ দত্ত তন্ময়, পারভীন আখতার পারু, শামীমা আক্তার মুক্তা, ফজলে রাব্বি সুকর্ণ, দেলোয়ার হোসেন উজ্জল, জান্নাতুল ফেরদৌস হ্যাপি, তাহমিনা খানম, মনোহর দাস, অমিতাভ রাজিবসহ আরও অনেকে। পরিমল মজুমদারের সংগীত পরিচালনায় নাটকের সুর ও সংগীত করেছেন শিশির রহমান। দৃশ্য ও আলোক পরিকল্পনা করেছেন জুনায়েদ ইউসুফ।
