মিলন রহমান
স্টাফ রিপোর্টার, বগুড়া অফিস
শীতের কুয়াশাকে উপেক্ষা করে পুন্ড্রনগরী খ্যাত মহাস্থানগড়ের পদদেশে বগুড়া শহরে জমায়েত হয়েছিল দেশের নামীদামি কবি-সাহিত্যিকরা। দেশের ৪০টি জেলার ২ শতাধিক কবি-সাহিত্যিক যেখানে একসাথে মিলিত হয় তখন তাকে কবি-সাহিত্যিকদের মিলনমেলায় বলা হয়। দু-দিনব্যাপী এই অনুষ্ঠানের নাম দেওয়া হয় কবি সম্মেলন।
বগুড়ার ঐতিহ্যবাহী সাহিত্য সংগঠন বগুড়া লেখক চক্র। এই সংগঠনের ৩০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে গত ৭ ও ৮ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হয়েছে দু-দিনব্যাপী কবি সম্মেলন। ৭ ডিসেম্বর সকালে দু-দিনব্যাপী কবি সম্মেলনের উদ্বোধন করেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি কথাসাহিত্যিক ইমরান চৌধুরী। এ সময় প্রধান অতিথি কবি হাবীবুল্লাহ সিরাজী উপস্থিত ছিলেন।
বগুড়া লেখক চক্রের উপদেষ্টা কবি ও প্রাবন্ধিক বজলুল করিম বাহারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি কথাশিল্পী শিরীন আখতার, কবি মাকিদ হায়দার, রাজশাহী কবিকুঞ্জের সাধারণ সম্পাদক আরিফুল হক কুমার প্রমুখ। বাচিকশিল্পী অলোক পালের সঞ্চালনায় উদ্বোধনী সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন সংগঠনের উপদেষ্টা কবি শিবলী মোকতাদির। উদ্বোধনী পর্বে সংগঠনের মুখপত্র ‘ঈক্ষণ’-এর মোড়ক উন্মোচন করা হয়। উদ্বোধক ফিতা কেটে দু-দিনব্যাপী কবি সম্মেলনের উদ্বোধন ঘোষণা করেন। এর আগে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বগুড়া শহর প্রদক্ষিণ শেষে উডবার্ন মিলনায়তনে এসে শেষ হয়। প্রথমদিন কথা ও কবিতার দুটি পর্বে সভাপতিত্ব করেন কবি আলমগীর রেজা চৌধুরী ও কবি খৈয়াম কাদের। কবি কামরুন নাহার কুহেলীর উপস্থাপনায় এ পর্বে আলোচক হিসেবে ছিলেন জলিল আহমেদ, চৌধুরী বাবুল বড়ুয়া ও খালেদ উদদীন। তারপর স্বরচিত কবিতাপাঠ পর্বে দেশের বিভিন্নপ্রাপ্ত থেকে আগত কবিরা কবিতাপাঠ করেন। বিকেলে ‘স্বাধীনতা পরবর্তী বাংলা কবিতার স্বর’ শীর্ষক আলোচনা সভায় গল্পকার রাজা সহিদুল আসলামের উপস্থাপনায় আলোচক হিসেবে অংশগ্রহণ করেন মনি হায়দার, কবীর রানা, কাজী রাফি, হোসনে আরা মনি ও আনিফ রুবেদ। আবৃত্তি পর্বে শরীফ মজুমদারের সভাপতিত্বে এবং অলোক পালের সঞ্চালয়ায় অংশগ্রহণ করেন সুনীল শৈশব, রাকিব জুয়েল, শ্রাবণী সুলতানা, জান্নাতুল ফেরদৌস তৃষা ও জেফরিন রহমান। বগুড়া লেখক চক্রের উপদেষ্টা জিএম সজলের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন জেলা কালচারাল অফিসার মো. শাহাদত্ হোসেন, প্রফেসর আব্দুল মান্নান, তৌফিক হাসান ময়না, আতিকুর রহমান মিঠু ও সাহাবুদ্দীন সৈকত।
