বুয়েটের আন্দোলন দুই দিন স্থগিত

আপডেট : ১২ অক্টোবর ২০১৯, ২২:১৮

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) স্নাতক প্রথম বর্ষে ভর্তি পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ৪৮ ঘণ্টা শিথিল করা হয়েছে। আজ ও কাল সোমবার আন্দোলন কর্মসূচি স্থগিত থাকবে। এর ফলে ১৪ অক্টোবর নির্ধারিত দিনেই বুয়েটের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। গতকাল শনিবার বেলা আড়াইটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহিদ মিনারের সমাবেশ থেকে এ ঘোষণা দেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। এদিকে বুয়েটের হলে উচ্ছেদ অভিযান অব্যাহত রেখেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। ইতিমধ্যে দুটি হলের তিনটি কক্ষ সিলগালা করে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের কক্ষও রয়েছে। এছাড়া অবৈধ ও বহিরাগতদের হল ছেড়ে চলে যেতে নির্দেশনা দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

বিকেলে বুয়েটের শেরেবাংলা হলের ৩০১২ নম্বর কক্ষটি সিলগালা করে দেওয়া হয়। বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদি হাসান রাসেল কক্ষটিতে থাকতেন। সিলগালা করা কক্ষের মধ্যে আহসানউল্লাহ হলের ১২১ নম্বর রুমটিও রয়েছে। এই রুম ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রাসেল তার অফিসরুম হিসেবে ব্যবহার করতেন। এছাড়া একই হলের ৩২১ নম্বর রুম সিলগালা করা হয়েছে, যেখানে বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি জামী উস সানী থাকতেন।

বুয়েটের ছাত্রকল্যাণ পরিচালক অধ্যাপক মিজানুর রহমান বলেন, ‘আমরা আহসান উল্লাহ হলের দুটি এবং  শেরেবাংলা হলের একটি কক্ষ সিলগালা করেছি। আগামীকাল দুপুর ১২টার মধ্যে বহিরাগতদের হল ছেড়ে চলে যেতে হবে।’ আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে বুয়েটের আবাসিক হলে অবৈধভাবে থাকা শিক্ষার্থীদের হলত্যাগ, ছাত্ররাজনীতি বন্ধসহ পাঁচ দফা দাবি মেনে নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে এ-সংক্রান্ত নোটিশও জারি করা হয়। বুয়েট কর্তৃপক্ষ পৃথক পাঁচটি বিজ্ঞপ্তি গতকাল দুপুরে প্রকাশ করে।

বিজ্ঞপ্তিতে মেনে নেওয়া দাবিগুলো হচ্ছে হত্যাকাণ্ডে জড়িত সবাইকে সাময়িক বহিষ্কার এবং পরে অভিযোগপত্রে যাদের নাম আসবে, তাদেরও স্থায়ীভাবে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করা হবে; আবরার হত্যা মামলার সব খরচ বুয়েট প্রশাসন বহন করবে এবং তার পরিবারকে পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ দিতে বুয়েট প্রশাসন বাধ্য থাকবে; বুয়েটে সব রাজনৈতিক সংগঠন ও এর কার্যক্রম নিষিদ্ধ; বুয়েটে র্যাগের নামে নির্যাতনের ঘটনাসংক্রান্ত অভিযোগ প্রকাশের জন্য একটি ওয়েব পোর্টাল তৈরি করা, অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তি, সব হলের দুই পাশে প্রতি ফ্লোরে সিসি ক্যামেরা স্থাপন এবং এগুলো সার্বক্ষণিক মনিটরিং করা হবে।

বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীরা বলেন, বুয়েট প্রশাসন ইতিমধ্যে আন্দোলনকারীদের পাঁচ দফা দাবি মেনে নিয়ে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। এটা আন্দোলনের প্রাথমিক বিজয়। এ কারণে ১৩ ও ১৪ অক্টোবর চলমান আন্দোলন শিথিল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তারা আশা করেন, এই সময়ের মধ্যে সব দাবি মানার সিদ্ধান্ত দৃশ্যমান করবে বুয়েট প্রশাসন। আন্দোলনকারীরা বলেন, ‘সোমবার বুয়েটের ভর্তি পরীক্ষা। ভর্তি পরীক্ষা নির্বিঘ্নে অনুষ্ঠিত হোক, সেটা আমরা চাই। এ ব্যাপারে আমরা সহায়তা দেব, পরীক্ষা বানচালের দায় আমরা নিতে চাই না।’ তারা আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আস্থা আছে। ভিসি স্যারকেও ধন্যবাদ। দাবি বাস্তবায়ন শুরু হওয়ায় আন্দোলন আপাতত শিথিল। পরীক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অংশ হিসেবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো।

এদিকে আজ রবিবার দুপুরের মধ্যে বুয়েটের হলগুলোতে অবস্থানরত বহিরাগতদের হল ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। গতকাল দুপুরের দিকে বুয়েট প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ নির্দেশ দেওয়া হয়। এ বিষয়ে বুয়েটের শেরেবাংলা হলের সহকারী প্রভোস্ট গণমাধ্যমকে জানান, আজ দুপুরের মধ্যে বুয়েটের হলগুলোতে অবস্থানরত মেয়াদোত্তীর্ণ শিক্ষার্থী ও বহিরাগতদের হল ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।