ঘুষের টাকা অগ্রিম না দেওয়ায় ‘ক্রসফায়ারে’ জেলেদের হত্যার হুমকি

আপডেট : ১২ অক্টোবর ২০১৯, ২২:৩০

সুন্দরবনের নীলকমল অভয়ারণ্যের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শ্যামা প্রসাদ রায় ও কর্মচারীদের বিরুদ্ধে ঘুষের অর্থ অগ্রিম না দেওয়ায় মত্স্যজীবী ও জেলেদের বনদস্যুদের মতো ‘ক্রসফায়ারে’ হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। গতকাল খুলনা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন মত্স্যজীবী ও জেলেরা।

সংবাদ সম্মেলনে ফুলতলা উপজেলার দামোদর গ্রামের মত্স্যজীবী সুপ্তি এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী ও মত্স্যজীবী বাচ্চু আলী বেগ বলেন, গত জুন মাসে সুন্দরবনের নীলকমল অভয়ারণ্যের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমাদের সঙ্গে চুক্তির মাধ্যমে নিয়ে যান এবং সুন্দরবনের দুবলারচর থেকে পাস নিয়ে আমরা বঙ্গোপসাগরে ইলিশ আহরণ শুরু করি। তিনি মাসে আড়াই লাখ টাকা চুক্তিতে আমাদের ইলিশ আহরণের জন্য পাস দিতে সম্মত হন। আমরা তিন মাসের চুক্তির সাড়ে ৭ লাখ টাকা পরিশোধ করি। ইতিমধ্যে মাছ ধরা বন্ধ হওয়ায় গত ৭ অক্টোবর আমরা সাগর থেকে উঠে আসার জন্য প্রস্তুতি নেই। এ সময় তিনি তার কর্মচারীদের সঙ্গে নিয়ে আমাদের কাছে এসে মাসিক চুক্তির টাকা অগ্রিম দাবি করেন। আমরা তাকে টাকা দিতে অস্বীকার করলে তিনি ফাঁকা ফায়ার করে আতঙ্ক সৃষ্টি এবং জেলেদের বেদম প্রহার করেন। এতে অনেক জেলে মারাত্মক আহত হন যার মধ্যে হান্নান গাজী নামের একজন জেলে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন।

বনরক্ষীদের নির্মমতা এখানেই শেষ নয় বলে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, নীলকমলের ঐ ওসি এবং কর্মচারীরা দ্রুতগতি সম্পন্ন ট্রলারযোগে সাগরে টহলে গিয়ে জেলেদের মাছ ধরা ট্রলার তাড়া করেন। পাখি শিকারের মতো এলোপাতাড়ি গুলি করতে থাকেন। জেলেদের পাস পারমিট ট্রলার আটক করে জোরপূর্বক নীলকমল নিয়ে আসেন। সিওআর করার নামে প্রতি ট্রলার থেকে কমপক্ষে এক লাখ টাকা করে আদায় করেন সরকারি রশিদ ছাড়াই। পরে সরকারি রাজস্ব রশিদ চাইলে ওসি জেলেদের পিটিয়ে পিঠের চামড়া তুলে ফেলার হুমকি দেন। এছাড়া ৩২টি ট্রলারের প্রতিটি থেকে ১০ পিস করে অন্তত লাখ টাকা মূল্যের ৩২০ পিস ইলিশ এসিএফ এবং ডিএফওদের দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন ওসি।

লিখিত বক্তব্যে তিনি আরো বলেন, নীলকমলের হাতিমঘানি, কলাতলা, সেচখালি ও বালির গাং এলাকায় শত শত জেলে প্রতি গোনে মাছ/কাঁকড়া ধরে চুক্তির মাধ্যমে। এই জেলেদের বহদ্দার শংকর (ডুমুরিয়া), আশরাফুল (গড়ইখালী), মালেক গণির (গোবরা) মাধ্যমে যাবতীয় বাজারঘাট স্টাফরা পেয়ে থাকেন এবং মাসিক তিন লাখ টাকা ঘুষ নেন। আগে তাদের ঘুষ সংগ্রহ করতেন কয়রার মুসা মেম্বার ও মাজেদ। এর আগে, ২০১৮ সালে কালাবগি স্টেশনে কর্মরত থাকাকালে বন কর্মকর্তা শ্যামা প্রসাদ রায়ের বিরুদ্ধে দাকোপ থানায় চাঁদাবাজির মামলা হয়েছিল বলেও সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন তিনি।

এদিকে সংবাদ সম্মেলন চলাকালে ওসি শ্যামা প্রসাদ রায় মত্স্যজীবী বাচ্চু আলী বেগের মোবাইল ফোনে রিং দিয়ে সংবাদ সম্মেলন না করতে এবং ঘুষ গ্রহণে নিজের অপরাধ স্বীকার করে তার কাছে বারবার অনুরোধ করতে থাকেন যা উপস্থিত সাংবাদিকরা সবাই শুনেছেন। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন খুলনা জেলা মত্স্যজীবী সমিতির সভাপতি বিকাশ চন্দ্র বিশ্বাস, মো. আলী হায়দার, মো. আসলাম হোসেন প্রমুখ। পরে এ ব্যাপারে জানতে নীলকমল অভয়ারণ্যের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শ্যামা প্রসাদ রায়ের মোবাইল ফোনে ফোন দিলে তিনি তার  ফোন বন্ধ করে দেন।

এ ব্যাপারে সুন্দরবন বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) বসিরুল আল মামুন বলেন, জেলে ও মত্স্যজীবীদের অভিযোগের কথা আমি শুনেছি। অবিলম্বে তদন্ত করে নীলকমল অভয়ারণ্যের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শ্যামা প্রসাদ রায়সহ অভিযুক্ত কর্মচারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।