বুয়েটে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধের প্রতিবাদ প্রগতিশীল ছাত্রজোটের

আপডেট : ১৩ অক্টোবর ২০১৯, ০০:২৩

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধের প্রতিবাদ জানিয়েছে বামপন্থি ছাত্রসংগঠনগুলোর মোর্চা প্রগতিশীল ছাত্রজোট। তারা বলছে, বুয়েটের শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ ছাত্ররাজনীতি নয়, ছাত্রলীগের ওপর। তাদের অভিযোগ, বাস্তবে বুয়েট শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ ছাত্ররাজনীতির ওপর নয়, বরং ক্ষমতাসীন দলের ছাত্রসংগঠন ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে। সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে ছাত্রলীগকে দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস থেকে নিষিদ্ধ করার দাবি জানিয়েছেন জোটের নেতারা। গতকাল ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি করেন তারা।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনান প্রগতিশীল ছাত্রজোটের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক ও সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের (বাসদ) কেন্দ্রীয় সভাপতি আল কাদেরী জয়। লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ করা একটি ভয়ংকর অগণতান্ত্রিক সিদ্ধান্ত। এ সিদ্ধান্ত সব ধরনের বিরোধী মত ও তার ভিত্তিতে সংগঠিত শক্তিকে দমনের হাতিয়ার। এটি আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে একটি প্রতারণাও বটে।

আল কাদেরী জয় বলেন, আবরার ফাহাদ হত্যাকে কেন্দ্র করে অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো বুয়েটে দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকা ছাত্রলীগের একচ্ছত্র সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, অগণতান্ত্রিক আচরণ ও দখলদারির বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ প্রকাশ পেয়েছে। বাস্তবে বুয়েট শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ ছাত্ররাজনীতির প্রতি নয়, বরং ক্ষমতাসীন দলের ছাত্রসংগঠন ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে। অধ্যাদেশ অনুযায়ী বুয়েটে আগে থেকেই ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ আর গত এক দশকে বুয়েটে ছাত্ররাজনীতিই ছিল না। সেখানে রাজনীতির নামে ছিল ছাত্রলীগের চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড আর নির্যাতন। বিরোধী কোনো ছাত্রসংগঠন ঐ ক্যাম্পাসে কাজ করতে গেলে নির্মমভাবে তাদের দমন করা হয়েছে।

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, এর আগেও বিভিন্ন সময় সাধারণ শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন তকমা দিয়ে মারধর করা হয়েছে। এসবের বিরুদ্ধে বুয়েট প্রশাসন কখনোই ব্যবস্থা নেয়নি। প্রশাসনের এই নির্লিপ্ততা প্রকারান্তরে পৃষ্ঠপোষকতারই নামান্তর। এখানে শিক্ষার্থীদের তাত্ক্ষণিক ক্ষোভকে কাজে লাগিয়ে এই ঘটনার মূল উত্স যে অগণতান্ত্রিক চর্চা, সেই চর্চাকেই আড়ালে আরো শক্তিশালী করার আয়োজন করেছে বুয়েট প্রশাসন।

এসময় তাদের পক্ষ থেকে পাঁচ দফা দাবি জানানো হয়েছে। দাবিগুলো হলো—আবরার ফাহাদসহ ক্যাম্পাসগুলোয় সব হত্যাকাণ্ডের বিচার ও রায় অবিলম্বে কার্যকর, আবাসিক হলগুলোয় টর্চার সেল ও গেস্টরুম নির্যাতন বন্ধে প্রশাসনের কার্যকর ভূমিকা, প্রথম বর্ষ থেকেই প্রশাসনিক তত্ত্বাবধানে সব শিক্ষার্থীর হলের সিটের অধিকার নিশ্চিত, বিশ্ববিদ্যালয়সহ সব শিক্ষাঙ্গনে গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং গণতান্ত্রিকভাবে বুয়েটসহ সব ক্যাম্পাসে সব ছাত্রসংগঠনের রাজনীতি করার অধিকার এবং রাজনীতির নামে কেউ অপরাজনীতি করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ।