দেশের সুখ-শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে রাঙ্গামাটিতে যথাযোগ্য ধর্মীয় মর্যাদায় বৌদ্ধ বিহার ও শাখা বন বিহারগুলোতে রবিবার সকালে বৌদ্ধ ধর্মালম্বীদের দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব প্রবারণা পূর্ণিমা উদযাপিত হয়েছে।
বৌদ্ধ ধর্মীয় ভিক্ষুরা তিন মাস বর্ষাবাসের শেষ দিনটিতে প্রবারণা পূর্ণিমা হিসেবে উদযাপন করে প্রবারণা হল আত্মশুদ্ধি ও অশুভকে বর্জন করে সত্য ও সুন্দরকে বরণের অনুষ্ঠান। এর পর থেকে দীর্ঘ একমাস ধরে আয়োজন চলে প্রধান ধর্মীয় উৎসব কঠিন চীবর দানোৎসব।
আরও পড়ুন: ঢাবি ‘খ’ ইউনিটের ফল প্রকাশ, পাস ২৩.৭২ শতাংশ
অনুষ্ঠানে রাঙ্গামাটির রাজ বন বিহার প্রাঙ্গনে বুদ্ধ পতাকা উত্তোলন, ভিক্ষু সংঘের পিণ্ডদান ও প্রাতঃরাশ, বুদ্ধ পূজাসহ নানান ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। স্বধর্ম প্রাণ দায়ক-দায়িকাদের উদ্দেশে ধর্মীয় দেশনা দেন রাজ বন বিহারের ভিক্ষু-সংঘের প্রধান শ্রীমৎ প্রজ্ঞালংকার মহাস্থবির। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন জায়গা থেকে শত শত ধর্মপ্রাণ নর-নারীদের সাধু সাধু ধ্বণিতে মুখোরিত হয়ে উঠে পুরো বিহার প্রাঙ্গণ।
এসময় ধর্মীয় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বৃষকেতু চাকমা, রাজবন বিহার পরিচালনা কমিটির সভাপতি গৌতম দেওয়ান, এ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ান প্রমুখ। অনুষ্ঠান শেষে পরিনির্বাণপ্রাপ্ত আর্য্য পুরুষ শ্রীমৎ সাধনানন্দ মহাস্থবির (বনভান্তে) রেকর্ডকৃত ধর্মীয় দেশনা বাজানো হয়। বিকালে উড়ানো হবে ফানুস বাতি ও প্রজ্জ্বলন করা হয় হাজার প্রদীপ।
অপরদিকে মৈত্রী বিহার প্রাঙ্গনে নানান ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে ধর্ম দেশনা দেন মৈত্রী বিহারের অধ্যক্ষ পূর্নজ্যোতি মহাস্থবির, পঞ্জদীপ মহাস্থবির প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে বৌদ্ধ ভিক্ষুরা এই প্রবারণা পূর্ণিমার মধ্যদিয়ে বুদ্ধের অহিংসা পরম নীতি মেনে চলে সকল প্রকার মিথ্যা দৃষ্টি পরিহার করে লোভ, হিংসা, মোহ সংঘাতসহ যাবতীয় খারাপ কাজ পরিহার করে সৎ পথে চলতে ও মৈত্রীপূর্ণ মনোভাব নিয়ে একে অপরে সুখে-শান্তিতে বসবাস করার হিতোপদেশ প্রদান করেন।
ইত্তেফাক/এমআরএম
