কর্ণফুলী নদীর কাপ্তাই লিচুবাগান এলাকায় ফেরিঘাট দিয়ে ফেরিতে করে প্রতিদিন শতশত যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু পর্যাপ্ত সংখ্যক ফেরি না থাকা, দীর্ঘ বিরতিসহ নানা সমস্যার কারণে অধিকাংশ সময়ই পারাপারের ভোগান্তি পোহাতে হয় পার্বাত্য এলাকার বাসিন্দাদের। ভোগান্তি কমাতে স্থানীয় বাসিন্দারা এখানে একটি সেতু নির্মাণের জন্য দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানিয়ে আসছে।
জানা গেছে, তিন পার্বত্য জেলা রাঙ্গামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, কক্সবাজার, রাজস্থলী এবং কাপ্তাই উপজেলার সঙ্গে সড়ক যোগাযোগের একটি উপায়—এই লিচুবাগান ফেরিঘাট। সারাপথ নিরাপদে আসতে পারলেও লিচুবাগান ফেরিঘাটের কাছে এলেই সবাইকে থমকে যেতে হয়। ফেরির জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। এর ফলে অনেক জরুরি কাজেও সহজে যাতায়াত করা সম্ভব হয় না। এতে ভোগান্তিতে পড়েন সর্বস্তরের মানুষ।
কাপ্তাই উপজেলার রাইখালীতে অবস্থিত পাহাড়ি কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. আলতাফ হোসেন জানান, গবেষণার কাজে জরুরি প্রয়োজনে প্রতিদিন বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করতে হয়। কিন্তু ফেরির কারণে সহজে যোগাযোগ ও যাতায়াত করতে পারেন না। তিনি বলেন, বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রামকে বিভক্ত করে রেখেছে লিচুবাগান ফেরিঘাট। এই ফেরিঘাটে যদি একটি সেতু থাকত তাহলে মানুষ অনেক উপকৃত হতো।
চন্দ্রঘোনা থানার ওসি আশরাফ আহমেদ জানান, লিচুবাগান ফেরিঘাটে সেতু না থাকায় অনেক সময় জরুরি প্রয়োজনে বিভিন্ন সময় নিরাপত্তা টহল দেওয়া সম্ভব হয় না। লিচুবাগান ফেরিঘাটে অনতিবিলম্বে একটি সেতু নির্মাণ করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে তিনি সংশ্লিস্ট বিভাগের প্রতি অনুরোধ জানান। কাপ্তাই উপজেলার ২ নম্বর রাইখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. এনামুল হক জানান, রাঙ্গামাটি-বান্দরবান সড়কটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই সড়ক দিয়ে সাধারণ যানবাহন চলাচলের পাশাপাশি সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ এবং আনসার বাহিনীর গাড়িও নিয়মিত চলাচল করে। রাজস্থলীতে সেনাবাহিনীর একটি ইউনিটও রয়েছে। সেনাসদস্যদের প্রতিদিন একাধিকাবার রাজস্থলী সেনা ইউনিটে যাতায়াত করতে দেখা যায়। কিন্তু লিচুবাগান ফেরিঘাটের কাছে আসার পর অন্য সবার মতো তাদেরও থমকে যেতে হয়। এখানে একটি সেতু থাকলে মানুষ অনেক উপকৃত হতো বলেও তিনি জানান।
বান্দরবান-রাঙ্গামাটি সড়কে যাত্রীবাহী দাইয়ান পরিবহনের চালক রুস্তম আলী জানান, লিচুবাগান ফেরিঘাটের কারণে প্রতি ট্রিপে কমপক্ষে ৩০ মিনিট সময় নষ্ট করতে হয়। আবার ভারী বৃষ্টি হলে ফেরির পন্টুন পানিতে ডুবে যায়। তখন অনেক সময় দিনের পর দিন ফেরি চলাচল বন্ধ থাকে।
স্থানীয় একটি বেসরকারি সংস্থা সাংগ্রাইয়ের পরিচালক রুবী চৌধুরী বলেন, দেশব্যাপী যেভাবে উন্নয়নের জোয়ার আমরা দেখছি তাতে বলা যায় অদূর ভবিষ্যতে বাংলাদেশের কোনো নদীতেই আর ফেরি চলাচল করবে না। এমন লক্ষ্যকে সামনে রেখেই সরকারের সেতু বিভাগ কাজ করছে। কিন্তু অতি গুরুত্বপূর্ণ লিচুবাগান ফেরিঘাটে এখন পর্যন্ত সেতু নির্মাণের কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
এ ব্যাপারে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ইসমাইল হোসেন জানান, স্থানীয় বাসিন্দাদের যাতায়াতে জন্য লিচুবাগান ফেরিঘাট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এখানে একটি সেতু নির্মাণের জন্য স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের দাবি রয়েছে। এ জায়গায় একটি সেতু নির্মাণের বিষয়ে সেতু মন্ত্রণালয়ে আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ হয়েছে। একটি পর্যবেক্ষক টিমও ফেরিঘাট এলাকা পরিদর্শন করেছেন বলে তিনি জানান। এখানে সেতু নির্মাণের বিষয়ে অচিরেই একটি ইতিবাচক সিদ্ধান্ত আসবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
