বাসায় ফেরা হলো না মাসুদা বেগমের

আপডেট : ১৩ অক্টোবর ২০১৯, ২২:৩৯

গ্রামের বাড়ি বরিশাল থেকে ঢাকায় ফিরছিলেন ৩৫ বছর বয়সি মাসুদা বেগম। সঙ্গে ছিল তার ছোটো ছেলে মাহিম। লঞ্চে এসে সদরঘাটে নামার পর মগবাজারের মধুবাগ এলাকার বাসায় যেতে রিকশায় উঠেছিলেন তারা। কিন্তু তাদের আর বাসায় ফেরা হয়নি। পথে কাকরাইলের নাইটিঙ্গেল মোড়ের কাছে বেপরোয়া কাভার্ড ভ্যানের চাপায় মা-ছেলে গুরুতর আহত হন। এ সময় মাসুদা বেগমকে ঘটনাস্থল থেকে কিছু দূর পর্যন্ত ছেঁচড়ে নিয়ে যায় ঘাতক কাভার্ড ভ্যান। উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিত্সক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তার ১১ বছরের ছেলে মাহিমকেও শঙ্কামুক্ত বলছেন না চিকিত্সকরা। গতকাল রবিবার সকালের এ দুর্ঘটনায় দায়ী কাভার্ড ভ্যানটিকে জব্দ বা এর চালককে আটক করতে পারেনি পুলিশ। চালক পালিয়ে গেছে। এদিকে মোহাম্মদপুরে ট্রাকচাপায় সাইকেল                আরোহী এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে।

রমনা থানার এসআই হাবিবুর রহমান জানান, মাসুদা বেগমের বাড়ি বরিশালের মুলাদী উপজেলার চরলক্ষ্মীপুর গ্রামে। তিনি ঢাকায় স্বামী ও দুই সন্তানের সঙ্গে মধুবাগ এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন। তার স্বামী মোফাজ্জল হোসেন একটি ব্যবসায়প্রতিষ্ঠানের গাড়িচালক। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে তিনি হাসপাতালে ছুটে আসেন।

মোফাজ্জল হোসেন ঢামেক হাসপাতালে কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমার স্ত্রী-সন্তান গ্রামের বাড়ি থেকে ফিরছিল। শনিবার রাতের লঞ্চে রওনা দিয়েছিল ওরা। সকালে সদরঘাটে নেমে সোজা বাসায় আসার কথা। আমি ওদের অপেক্ষায় ছিলাম। এর মধ্যেই একজন ফোন করে দুর্ঘটনার কথা জানায়। হাসপাতালে এসে দেখি মাসুদা আর বেঁচে নেই। এখন ছেলেটার (মাহিম) কী হবে আল্লাহ জানেন। আমি এই হত্যার বিচার চাই।’

পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ভোর ৬টার দিকে সদরঘাট থেকে রিকশায় মধুবাগের উদ্দেশে রওনা দেন মাসুদা ও মাহিম। কাকরাইলের নাইটিঙ্গেল মোড় এলাকায় বেপরোয়া গতির একটি কাভার্ড ভ্যান পেছন থেকে রিকশাটিকে ধাক্কা দেয়। এতে মা-ছেলে রিকশা থেকে ছিটকে পড়ে মারাত্মক আহত হন। এর মধ্যেই কাভার্ড ভ্যানটি মাসুদাকে চাপা দিয়ে সামনের দিকে যাওয়ার চেষ্টা চালায়। এতে মাসুদার রক্তাক্ত দেহ কিছুদূর চাকার সঙ্গে ছেঁচড়ে যায়। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয় বলে ধারণা পুলিশের। তার নিথর দেহ ঢামেক হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিত্সক জানান, আরো আগেই তার মৃত্যু হয়েছে। গুরুতর আহত মাহিমকে পরে ঢামেক থেকে অন্য হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। দুর্ঘটনার পর রিকশাচালকের কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। তিনি আহত হয়েছেন কি না, তা নিশ্চিত হতে পারেনি পুলিশ। তবে কাভার্ড ভ্যানটি দ্রুত পালিয়ে গেছে বলে পুলিশকে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। মোফাজ্জল হোসেনের বন্ধু আহসান উল্লাহ জানান, দুই ভাইয়ের মধ্যে ছোটো মাহিম শেরেবাংলা নগর বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র।

পুলিশ জানায়, ঘটনাস্থলের আশপাশের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে দুর্ঘটনায় দায়ী কাভার্ড ভ্যানটি শনাক্ত করা যাবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। পাশাপাশি রিকশাচালকের ব্যাপারেও জানা যাবে। এদিকে মাসুদা বেগমের মৃতদেহ ময়নাতদন্তের পর স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।   

ট্রাকচাপায় সাইকেল আরোহীর মৃত্যু : মোহাম্মদপুরের বেড়িবাঁধ এলাকায় ট্রাকচাপায় জাহিদ (৩৫) নামে সাইকেল আরোহী এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল সকালে এ দুর্ঘটনা ঘটে। তিনি একটি গ্যারেজে কাজ করতেন বলে জানা গেছে। পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্র জানায়, জাহিদ কামরাঙ্গীরচর এলাকায় থাকতেন। গতকাল সকালে তিনি বেড়িবাঁধ এলাকা দিয়ে সাইকেল চালিয়ে যাওয়ার সময় একটি ট্রাক তাকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনায় দায়ী ট্রাকটি জব্দ ও এর চালককে আটক করেছে পুলিশ। নিহত জাহিদের গ্রামের বাড়ি নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীতে। তার বাবা নূর ইসলাম আগেই মারা গেছেন।