সাতক্ষীরার ‘সুবোধ’ বালকটি আবরার হত্যার আসামি

আপডেট : ১৩ অক্টোবর ২০১৯, ২২:৫০

গ্রামের খুবই মেধাবী সরল সুবোধ বালকটিই যে বুয়েটের ‘আবরার হত্যা মামলার আসামি’ একথা ভাবতেই শিউরে উঠছেন সবাই। তারা বলছেন নিরীহ প্রকৃতির ঐ ছেলে তো কোনোদিন কোনো রাজনৈতিক দল করেনি। কোনো অসত্ সঙ্গেও দেখা যায়নি তাকে। তাহলে কীভাবে সে এতো বড়ো একটি নৃশংস ঘটনায় জড়িয়ে পড়লো।

সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার ভুরুলিয়া ইউনিয়নের ইছাকুড় গ্রামের ট্রাকচালক আমিনুর রহমান ওরফে বাবলু সরদারের ছেলে বুয়েটের নেভাল অ্যান্ড আর্কিটেকচার বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র শামীম বিল্লাহ সম্পর্কে এসব কথা বললেন তার স্বজন ও প্রতিবেশীরা। এর আগে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল শুক্রবার বিকালে তাকে তার গ্রামের বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে। সে আবরার হত্যা মামলার ১৪ নম্বর আসামি।

শামীম একজন হত্যাকারী হতে পারে এমন অভিযোগ এখনো বিশ্বাস করতে পারছে না তার প্রতিবেশীরা। তার বাবা বাবলু সরদার জানান, ২০১৫ সালে এসএসসিতে গোল্ডেন এ প্লাস পেয়েছিল তার ছেলে। ২০১৭ সালে ঢাকার সেন্ট জোসেফস থেকেও গোল্ডেন এ প্লাস পেয়েছিল সে। এর আগে অষ্টম শ্রেণিতে বৃত্তিলাভ এবং পঞ্চম শ্রেণি সমাপনীতেও সে সেরা ফলাফল করেছিল। তাকে লেখাপড়া করাতে তার কোনো টাকা খরচ হয় না জানিয়ে তিনি বলেন, তার ছেলে ডাচ বাংলা ব্যাংক থেকে গরিব ও মেধাবী হিসেবে আর্থিক সহায়তা পেয়ে থাকে। ঢাকায় সে একজন সচিবের বাড়িতে টিউশনি করাতো। সেখান থেকে যে টাকা সে পেত তা দিয়ে নিজের খরচ চালিয়েও বাড়িতে পাঠাতো। নিজের প্রয়োজনীয় সবই কিনেছে নিজের আয় করা টাকায়।

তিনি জানান, জমানো আড়াই লাখ টাকা দিয়ে সমপ্রতি সে একটি মোটরসাইকেল কিনেছে। এর রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তিনি জানান, আবরার যেদিন খুন হয় সেদিন রাত ৯টার দিকে শামীম টিউশনি শেষে একটি নতুন হেলমেট কিনে শেরে বাংলা হলে ঢুকছিল। ঐ মুহূর্তে তার বন্ধুরা সেটি মাথায় পরে হাসি তামাশাও করে। তিনি জানান, এর কিছুক্ষণ পর হলের বড়ো ভাইরা ওদের সবাইকে ডাকে। এমন ১০/১৫ জনের মধ্যে তার ছেলেও একজন।

বাবলু সরদার ছেলের বরাত দিয়ে আরো বলেন, আবরার হত্যার পরদিনও শামীম হলে ছিল। কিন্তু দারোয়ান তাকে ডেকে বলে ‘বাবা তুমি তো পাশের রুমে থাকো। এখন এখানে থাকা নিরাপদ নয়। এরপর শামীম ওঠে একজন সচিবের বাসায়। সেখান থেকে সে সরাসরি বাড়ি চলে আসে। এখান থেকে পুলিশ তাকে ধরে নিয়ে যায়।’

শামীমের মা হালিমা খাতুন বলেন, আমার ছেলে কারো সঙ্গে ঝগড়াও করেনি কোনোদিন। সবাই তাকে ভালো বলে। আমরা ওর উজ্জ্বল ভবিষ্যতের দিকে চেয়েছিলাম। কিন্তু এ কোন বিপদের মুখে পড়লো আমার সুবোধ ছেলেটি। বাবলু সরদার বলেন, একজন বাবা হিসেবে আমিও চাই যারা আবরারকে হত্যা করেছে তারা যেন শাস্তি পায়। এমনকি আমার ছেলে দোষী হলে সেও শাস্তি পাক। কিন্তু সে নিরপরাধ হলে যেন ছাড়া পায়।