মুহাম্মদ কামালুদ্দিন, লামা (বান্দরবান) সংবাদদাতা
লামা উপজেলার চারটি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধ হয়ে যেতে পারে যেকোনো সময়। সরকারি ও বেসরকারি কোনো ধরনের আর্থিক অনুদান না পাওয়ায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে জানা গেছে।
উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, পাহাড়ি দুর্গম এলাকায় বিদ্যালয়হীন পাড়া ও গ্রামের ছেলেমেয়েদের শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করার জন্য স্থানীয় সচেতন মহল নিজেদের অর্থায়নে চারটি বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন। বিদ্যালয়গুলো হলো—লামা পৌরসভার নুনাঝিরি, লামা সদরের মিরিঞ্জা, সরই ইউনিয়নের ধুইল্যাপাড়া ও কমিউনিটি সেন্টার বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। পাহাড়ি এলাকার এ চারটি বিদ্যালয়ে ছয় শতাধিক ছাত্রছাত্রী লেখাপড়া করছে এবং কর্মরত রয়েছে ১৬ জন শিক্ষক।
মিরিঞ্জা বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রী মেন্নাই ম্রো জানান, ‘আমরা কোনো উপবৃত্তি পাই না। তাই আমাদের লেখাপড়া চালিয়ে যেতে কষ্ট হচ্ছে।’ একইভাবে এই চারটি বিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত ৬০০ ছাত্রছাত্রী সরকার প্রদত্ত উপবৃত্তি পায় না বলে জানা গেছে।
ধুইল্যাপাড়া বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা স্মৃতি রানী দাশ জানান, দীর্ঘ ১৫ বছরের অধিক একনাগাড়ে বিনা বেতনে বিদ্যালয়ে কর্মরত আছি। বর্তমানে পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছি।
নুনারঝিরি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধানশিক্ষক সৈয়দা শাহানাজ পারভীন জানান, একনাগাড়ে বিনা বেতনে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষকতায় কর্মরত থাকায় পরিবার-পরিজন নিয়ে ১৬ জন শিক্ষকের পরিবার অবর্ণনীয় দুঃখ দুর্দশায় পতিত হয়েছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে শিক্ষকগণ অন্য পেশায় চলে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যার ফলে বিদ্যালয়গুলোতে পড়ালেখা বন্ধ হয়ে যেতে পারে। নুনারঝিরি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি মো. জামাল উদ্দিন জানান, সরকারের জাতীয়করণের সব শর্ত পূরণ করা সত্ত্বেও এবং জাতীয়করণের তালিকায় নাম থাকার পরেও এই বিদ্যালয়সহ চারটি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ হয়নি।
লামা উপজেলা শিক্ষা অফিসার তপন কুমার চৌধুরী জানান, জাতীয়করণের তালিকা থেকে বাদ পড়া লামা উপজেলার এই চারটি প্রাথমিক বিদ্যালয় হতে পিএসসি পরীক্ষায় নিয়মিত অংশগ্রহণ করছে। ছাত্রছাত্রীরা নিয়মিত লেখাপড়া করছে। বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ সদস্য ফাতেমা পারুল জানান, বিদ্যালয়গুলো টিকিয়ে রাখার স্বার্থে বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন।
লামা উপজেলা নির্বাহী অফিসার নূর-এ-জান্নাত রুমি জানান, পিছিয়ে পড়া পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর ছেলেমেয়েদের শিক্ষা নিশ্চিতকরণের জন্য এই চারটি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে আর্থিক সহায়তা দিয়ে টিকিয়ে রাখা প্রয়োজন।
লামা উপজেলা চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল জানান, বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের আর্থিক সহায়তার মাধ্যমেই লামা উপজেলার এই চারটি বিদ্যালয় টিকে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। বর্তমান অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করতে তিনি পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
