রাণীনগর (নওগাঁ) সংবাদদাতা
নওগাঁর আত্রাই ও রাণীনগর দুই উপজেলা নিয়ে গঠিত নওগাঁ-৬ আসন। আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এই আসনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি মাঠ পর্যায়ে নিজেদের গ্রহণযোগ্যতা মজবুত করে তৈরি করার জন্য সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে চলছেন দুই দলেরই নেতা-কর্মীরা।
বিএনপি থেকে চূড়ান্তভাবে মনোনীত প্রার্থী চার দলীয় জোট সরকারের সাবেক প্রতিমন্ত্রী আলমগীর কবীর দীর্ঘ ১২ বছর পর আবারো রাজনীতির মাঠে ফিরে এসেছেন। হঠাত্ রাজনীতিতে তার ফিরে আসা নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে নতুন হিসাব-নিকাশের। দুই ভাই সমর্থিত গ্রুপের মধ্যে কোনো মিল না হওয়ায় সেই দ্বন্দ্ব দিন দিন চরমের দিকে রূপ নিচ্ছে। তাই এই আসনে নিজেদের দ্বন্দ্বের কারণে ধানের শীষের অবস্থা খুবই নাজুক।
১৯৯১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় ছিলেন গৃহায়ণ ও গণপূর্ত বিভাগের সাবেক প্রতিমন্ত্রী আলমগীর কবীর। জোট সরকারের শেষের দিকে এই জনপদে আগমন ঘটে বহুল আলোচিত বাংলা ভাই নামক সন্ত্রাসী বাহিনীর। ২০০৬ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের শেষের দিকে আলমগীর কবীর এলডিপিতে যোগ দেন। একই বছরে এলডিপি থেকে পদত্যাগ করেন। তখন এই আসনের ধানের শীষের হাল ধরেন তারই ছোট ভাই বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মুক্তিযোদ্ধা আনোয়ার হোসেন বুলু। তিনি প্রায় এক যুগ ধরে এই দুই উপজেলার বিএনপির নেতা-কর্মীদের অভিভাবক হিসেবে ছিলেন। তিনি গত ২০০৮ সালে জাতীয় নির্বাচনে নৌকার কাছে পরাজিত হন। তিনি নেতা-কর্মীদের সুখ-দুঃখের সময় পাশে এসে দাঁড়িয়েছিলেন। তাকেই মনোনয়ন দেওয়ার দাবি ছিল এই আসনের বিএনপির নেতা-কর্মীর। কিন্তু হঠাত্ করেই তার বড় ভাই আলমগীর কবীর পুনরায় বিএনপিতে ফিরে আসায় দল থেকে তাকে চূড়ান্তভাবে মনোনয়ন প্রদান করেছে। এতে দুই উপজেলার বিএনপি ও তার অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া, হতাশা, চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। অপরদিকে গত ২২ নভেম্বরে নওগাঁ-৬ আসনের বিএনপি ও তার অঙ্গ সংগঠনের নেতারা আলমগীর কবীরকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে।
রাণীনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আব্দুল বারী মোল্লা বলেন, নৌকা প্রতীক উন্নয়নের প্রতীক তা এই অঞ্চলের তৃণমূল থেকে শুরু করে সবারই জানা। আমাদের মাঝে কোনো দ্বিধা বা দ্বন্দ্ব নেই। এখন আমরা হাতে হাত আর কাঁধে কাঁধ রেখে নৌকার পক্ষে কাজ করছি। কোনো পরাশক্তিই আমাদের বিজয়কে ঠেকাতে পারবে না। কারণ এই জনপদের মানুষ আর সর্বহারা ও বাংলা ভাইয়ের তাণ্ডব দেখতে চায় না। তারা শান্তি আর সুখে বসবাস করতে চায়। এই জনপদে গত ১০ বছর যাবত্ শান্তির যে সুবাতাস বইছে তা ধরে রাখার জন্য নৌকার কোনো বিকল্প নেই। তাই আমি আশাবাদী আগামী নির্বাচনেও সবাই ভোট দিয়ে নৌকাকে বিপুল ভোটে বিজয়ী করবে।
